November 19, 2018

ফিলিস্তিনকে পুড়িয়ে দিতে আনা পরমানু বোমা সরঞ্জাম বিস্ফোরনে জ্বলছে ইসরাইল!

israel-burning

(এম বি ফয়েজ)ঃ ইসরাইলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আজ চারদিন হয়ে গেল। ইসরাইলের ‘হাইফা‘ থেকে শুরু হয়ে এ দাবানল বহুদূর ছড়িয়ে পড়েছে! এ যাবত আশি হাজারের চাইতেও বেশি ইহুদী ঘর–বাড়ি ছেড়ে দিকবিদিক পালাচ্ছে! কোনোপ্রকার অগ্নিনির্বাপক প্রচেষ্টা কাজে আসছে না।

বিশ্ববাসী এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডকে আল্লাহর গজব হিসেবেই দেখছেন। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান ও মানবতাবাদী মানুষের প্রার্থণা কবুল হয়েছে বলে তারা শুকরিয়া আদায় করছেন। ঈসরাইল অবৈধ বসতি গড়ে ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষদের বছরের পর বছর হত্যা করছে। সম্প্রতি ইসরাইল আযান বন্ধ করে দিয়েছে। আর এসব কারণেই অভিশপ্ত ঈসরাইলের উপর আল্লাহর গজব হিসেবে দেখছেন সারাবিশ্বের সকল মজলুম মানুষেরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয়েছে আকাশে অবস্থিত স্যাটেলাইট থেকে। সূর্যের উত্তাপ বেড়ে যাওয়ায় স্যাটেলাইট কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। সে আগুন ধসে পড়ে সেনাক্যাম্পে।

সূত্র আরও জানায়, ঈসরাইল ফিলিস্তিনে হামলার জন্য আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বোমা তৈরির জন্য যেসব তেজস্ক্রীয় সরঞ্জাম মজুদ করেছে, সেই মজুদের উপর ঈসরাইলের স্যাটেলাইট থেকে আগুন এসে পড়ে সব ধ্বংস হয়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে পরমাণু বোমা তৈরির সরঞ্জাম ছিল। ফলে তেজস্ক্রিয়তা সর্বত্র এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, তা আর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

নেতানিয়াহু সব রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। অগ্নিনির্বাপণ কাজে শরীক হয়েছে যেসব রাষ্ট্র, সেগুলো হল গ্রীক, ইটালি, ক্রোয়েশিয়া, রাশিয়া,সাইপ্রাস, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক।।

এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বর্বর নেতানিয়াহু শুরুতেই এটিকে একটি “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, বেশকিছু শক্তিশালী আলামত রয়েছে, যে এটি ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছু মানুষ করেছে। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় অগ্নিনির্বাপন কর্তৃপক্ষ ও পশ্চিম তীরের স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে,এটি মানুষেরই সৃষ্ট অগ্নিকান্ড। ইসরাইলের কট্টর শিক্ষামন্ত্রীও একে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। সাথে সাথে এর দায়ভার আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর চাপিয়ে দিয়েছেন! তিনি তার ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে টুইট করেছেন, ‘যারা কোনো ভূখন্ডের অধিকারী নয় (ইসরায়েল), তারা এই দাবানল নির্বাপণ করতে সামর্থবান!’ ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন,এটি পূর্বপরিকল্পিত। এই অগ্নিকান্ডের পেছনে সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপট বিদ্যমান। (http://samanews.com/ar/post/287258/)

ইতোমধ্যে ইসরাইলী পুলিশ তেরোজন সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনীকে গ্রেফতারও করেছে। (http://mobile.reuters.com/article/idUSKBN13K12E?utm

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ দাবানলের ফলে এই চরম বিপর্যয় বেড়ে চলছে। দাবানলটি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। শহরটির বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্কর আগুন। পুড়ছে বিল্ডিং, কলকারখানা, অফিস আদালত।

বিবিসি জানিয়েছে, দাবানলে সর্বস্ব হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ এখন প্রাণভয়ে হাইফা শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে থাকা কয়েক হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিপদ লক্ষ করে সেখানে বসবাস করা ৮০ হাজার মানুষ বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল দেশটির প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু।

জানা গেছে, হাইফা ছাড়াও নেভে শালোম ও অন্যান্য এলাকায় বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাশিয়ার কাছে জলবাহী উভচর বিমান পাঠানোর অনুরোধ করলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুটো উভচর বিমান পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

Related posts