November 19, 2018

ফাহিম শিবিরের আদর্শের বিরোধী ছিল—বাবা

ঢাকাঃ  মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তী হত্যাচেষ্টাকালের জনতার হাতে আটকের পর রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নিহত গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম হিযবুত তাহরিরের সদস্য ছিলেন।

তিনি শিবির ও তাবলিগের আদর্শের বিরোধী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা গোলাম ফারুক। শনিবার দৈনিক সমকালকে এ কথা বলেন তিনি।

শনিবার সকালে মাদারীপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন ফাহিম। ভোরের আলো ফোটার পরপরই টেলিভিশনের স্ক্রলে ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবে সন্তানের মৃত্যুর খবর দেখে ঢাকা থেকে মাদারীপুরে ছুটে যান গোলাম ফারুক। তার বুকজুড়ে তখন কেবলই হাহাকার।

গতকাল দুপুরে মোবাইলে গোলাম ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার সব আশা ও স্বপ্ন শেষ। ফাহিমকে শুধরানোর সুযোগ পেলাম না। দুই ছেলেমেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। আমি কাজ করছি উত্তরায় একটি পোশাক কারখানায়। কার

সঙ্গে জড়িয়ে ছেলে উগ্রপন্থায় জড়িয়েছে তা জানি না। আমার ছেলেকে যারা এ পথে এনেছে তাদের ধরা হোক। ফোনের ওপাশ থেকে ডুকরে কাঁদছিলেন তিনি। গোলাম ফারুকের এমন অভিব্যক্তি যেন বলছিল, ‘এমন দুর্ভাগ্য যেন আর কোনো বাবার না হয়। কোনো পরিবারকে যেন দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে হয়।’

গত বুধবার মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যার চেষ্টা চালান ফাহিমসহ আরও তিনজন। হাতেনাতে এলাকাবাসী ফাহিমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনার পর থেকে পুলিশ বলে আসছে, ফাহিম হিযবুত তাহরিরের সদস্য।

শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাহিমকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালেই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটল। দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গি কর্মকান্ড বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে মাদারীপুরে প্রথমে হামলা চালায় তারা। ঘটনার দিনই ফাহিমসহ কয়েকজন ঢাকা থেকে মাদারীপুরে আসে। তারা শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে অনুসরণ শুরু করে হামলা চালায়।

ফাহিমের বাবা গোলাম ফারুক বলেন, ‘পুলিশ থেকে বলা হয়েছিল, আমরা আর্তনাদ আর কাকুতি-মিনতি করে বললে ফাহিম সত্যি কথা বলবে। পুলিশের কথায় সাড়া দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মাদারীপুরে যাই। শুক্রবার রাতে মাদারীপুর থানার ওসির মোবাইল নম্বর থেকে ছেলের সঙ্গে কথা হয়। ছেলে বলছিল, সে এরই মধ্যে পুলিশকে অনেক তথ্য দিয়েছে। তবু তাকে মারধর করা হয়। ছেলেকে শুধরানোর সুযোগ পেলাম না। একটা সুযোগ যদি দেওয়া হতো। আমার ছেলে যদি উগ্রপন্থি হয়ে থাকে, তাকে ভালো পথে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে পারত প্রশাসন।’

ফারুক আরও বলেন, ফাহিম উগ্রপন্থি কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল কি-না জানা ছিল না। তবে সে ধার্মিক ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। ধর্মীয় বইপত্র পড়ত। সে শিবির ও তাবলিগের আদর্শের বিরোধী ছিল। প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলত। ধর্মীয় বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তর্কেও জড়াত। দক্ষিণখানের ফায়েদাবাদের ছাপরা মসজিদে নামাজ পড়তে যেত।

ফাহিম গত ১১ জুন সকালের পর থেকে নিখোঁজ বলে দক্ষিণখান থানায় তার বাবা গোলাম ফারুক একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। ফাহিম তার বাবার মোবাইল ফোনে সর্বশেষ এসএমএসে বলেছিলেন, ‘বিদেশ চলে গেলাম, এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বেঁচে থাকলে আবারও দেখা হবে।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘হয়তো মানবিক কারণে ওসির মোবাইল ফোন থেকে মা-বাবার সঙ্গে ফাহিমকে কথা বলতে দেওয়া হয়েছে।’

উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আফরিন আক্তার বলেন, ‘ফাহিমকে ভালো ও মেধাবী ছেলে হিসেবে জানতাম। এসএসসিতে জিপিএ ৫ পায় সে। এইচএসসিতেও জিপিএ ৫ পাবে বলে মনে হচ্ছিল। শিক্ষক হত্যা চেষ্টার ঘটনায় ধরা পড়ার পর তার ছবি পত্রিকায় দেখে হতবাক হয়েছি।’
অনলাইন বাংলা

Related posts