September 20, 2018

ফাহিমের খুনিরাও জঙ্গি!


সিরাজী এম আর মোস্তাক
বাংলাদেশে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতেও মানুষ নিহত। দেশে এখন আইন শৃঙ্খলা বা বিচার বলতে কিছু নেই। কাউকে আটকাদেশের ক্ষমতা পুলিশের না থাকলেও সম্প্রতি আইজিপি শহীদুল হক আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাতদিনের সাঁড়াশি অভিযানের আদেশ দিয়েছে এবং সারাদেশে ১৪৫০০ এর অধিক নিরীহ জনতাকে আটক করেছে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশন বসে বসে আঙ্গুল চুষছে। সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে। তার সুস্পষ্ট প্রমাণ, ছবিতে উল্লেখিত ফুটফুটে বালক ফাহিমের হত্যাকান্ড। সরকার কখনোই এ মানবতা বিরোধী অপরাধের দায় এড়াতে পারবেনা। যে জঙ্গিরা বালক ফাহিমকে হত্যা করেছে, তারাই দেশের সকল হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে। তারাও জঙ্গি।

দেশে ১৯৭১ এর স্বাধীনতাত্তোর হত্যাকান্ডের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তখন ধ্বজাধারী মুক্তিযোদ্ধারা দেশে নাশকতা শুরু করেছিল। যেমন বিজয়ের তিনদিন পর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার বাহিনী অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে চারজন যুবককে হত্যা করেছিল। (অনলাইনে ভিডিওটি দেখুন-যঃঃঢ়ং://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?া=ঊঢ়৮ভঘঞ৪-অ৯ম)।)। স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্রকর জহির রায়হানের মতো হাজার হাজার নিরীহ বাঙ্গালীকে ঘাতকেরা এমন নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল।

ঘাতকদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এতো বেড়েছিল যে, বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদেরকে অস্ত্র জমা দিয়ে চাকুরিতে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে চাকুরিতে যোগদান করেছিল। আজও উক্ত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা সনদধারীদের সন্তান-সন্তুত্তিরা সরকারি মদদে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা ভোগ করছে। সরকার তাদের জন্য প্রতিবছর বাজেটে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দ দিচ্ছে। এ মুক্তিযোদ্ধা কোটা নীতি সম্পুর্ণ অবৈধ। মাত্র দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা কখনো দেশ স্বাধীন করেনি। এজন্য ত্রিশ লাখ শহীদের অবদান অনস্বীকার্য।

কিন্তু দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকার কারণে শহীদেরা আজ রাজাকার হিসেবে বিবেচিত। পৃথিবীর কোথাও মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদেরকে আলাদা করা হয়নি। শহীদের তুলনায় যোদ্ধা সংখ্যা কখনো কম হতে পারেনা। একারণে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি থেকে বি ত হয়েছে। আর যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের পরিবর্তে যুদ্ধবিধ্বস্থ অসহায় বাংলাদেশী নাগরিকেরা অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত হয়েছে। এসকল বিকৃত ও মিথ্যা ইতিহাস চর্চাই জঙ্গি হামলার প্রধান কারণ। ফয়জুল্লাহ ফাহিমের মতো মেধাবী যুবকেরা আজ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বৈষম্যের কারণে হতাশ ও উদ্বিগ্ন।

তারা এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে এবং পর্যাপ্ত যোগ্যতা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা কোটার কারণে অন্যায় বৈষম্যের শিকার হয়ে প্রতিহিংসার পথ বেছে নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বিবেচনা না করে সরকারি জঙ্গিরাও মিথ্যা নাটক সাজিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করছে। এজন্য ফাহিমের ঘাতকেরাও জঙ্গি বিশেষ।

পুলিশী রিমান্ডে থাকাবস্থায় মেধাবী যুবক ফাহিমকে হত্যা করা মোটেও সমীচীন হয়নি। যারা তাকে হত্যা করেছে, তারাই আসল জঙ্গি। অর্থাৎ, সরকার পুলিশ বাহিনীকে জঙ্গি বাহিনীতে পরিণত করেছে। তারা আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অন্যায়ভাবে ফাহিমকে হত্যা করেছে। তারা এভাবেই শত শত নিরপরাধ মানুষকে জেলগেটে আটক করছে। এখন সাধারণ জঙ্গি দমনের পরিবর্তে পুলিশ ও সরকারি জঙ্গি দমন করাটাই অত্যাবশ্যক হয়েছে।

লেখকঃ সিরাজী এম আর মোস্তাক,এ্যাডভোকেট, ঢাকা।

Related posts