November 17, 2018

ফারাক্কা বাঁধ খুলেছে, পদ্মায় হুহু করে বাড়ছে পানি!


ঢাকাঃ বিহারে বন্যার কারণে পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের সব কটি গেট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে পদ্মায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, গত তিন থেকে চারদিন ধরে পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রতিদিনই বাড়ছে।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্ট ও পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি পরিমাপ করা হয়। বৃহস্পতিবার এই পয়েন্টে পানি পরিমাপ করা হয় ১৩ দশমিক ৯২ মিটার। আগের দিন তা ছিল ১৩ দশমিক ৭৯ মিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চল পানি পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক কে এম জহিরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই মৌসুমে ফারাক্কায় প্রতি বছরই বেশ কয়েকটি গেট খুলে দেয়া হয়। এবার তার চেয়ে বেশি গেট খুলে দেয়াতেই হয়ত পানি বেড়েছে।’

ফারাক্কায় সবকটি বাঁধ খুলে দেয়ার খবরে পদ্মা তীরের মানুষ উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। তাদের আশঙ্কা, সব গেট খুলে দেয়া হলে পদ্মা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইবে। এতে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষায় পানি বাড়লে বাঁধের গেট খুলে দেয়া না হলে তা ভেঙে যাবে। তাই এই মৌসুমে ভারত সব সময় ফারাক্কার গেট খুলে দেয়। এটা নতুন কিছু না।’

অবশ্য পানি বাড়লেও এখনও এই পয়েন্টে পদ্মা বিপদসীমার নিচ দিয়েই বইছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বর্তমানে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে পানি। তবে যেভাবে পানি বাড়ছে তা দ্রুত বিপদসীমা ছুঁয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিহারে বন্যা মোকাবেলায় ফারাক্কার ১০৪টি গেটের প্রায় সবগুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। কর্মকর্তারা বলছেন, এই গেটগুলো খুলে দিলে ১১ লাখ কিউসেক পানি সরে যাবে, এতে বিহারের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সমীর সিনহা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ফারাক্কায় গেটগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে আগেই নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে আমাদের প্রতিনিধি দল ফারাক্কায় গেছে। তারা বিস্তারিত জানালে আমরা পদক্ষেপ নেবো।’

ভারত ফারাক্কা বাঁধের পরিকল্পনা করে ১৯৫১ সালে। আর ১৯৬১ সালের ৩০ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৭০ সালের শেষ দিকে। আর এটি চালু হয় ১৯৭৫ সালে। এই বাঁধের কারণে শুকনো মৌসুমে পদ্মায় পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী তীরের জনপদের কৃষি ও জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত মঙ্গলবার ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিহারের নীতিশ কুমার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে ফারাক্কা বাঁধটি পুরোপুরি সরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের জেরে গঙ্গাতে যে বিপুল পরিমাণ পলি পড়ছে তার জন্য প্রতি বছর বিহারকে বন্যায় ভুগতে হচ্ছে।

Related posts