September 19, 2018

ফান্সের গবেষণা>>কোক ও পেপসিতে মিলছে মদ!

ঢাকাঃ  ফ্রান্সে এক গবেষণায় পাওয়া গেছে কোকাকোলা ও পেপসি বানাতে মদ ব্যবহার করা হয়। এ তথ্য পাওয়ার পর যারা ধর্মীয়ভাবে বিষয়টি নিষিদ্ধ মনে করেন যারা তারা মদের সঙ্গে সঙ্গে এখন কোকাকোলা ও পেপসি খাওয়া থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হবেন। স্বাস্থ্যগতভাবে মদ খাওয়া বা মদে আসক্ত হতে না হয় এমন ভাবনা যাদের আছে তারাও এখন আর এ দুটি কোমল পানীয়র দিকে ঝুঁকবেন না।

প্যারিস ভিত্তিক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউ অব কনজাম্পশন বেশকিছ কোকাকোলা ও পেপসির ক্যান পরীক্ষা করে এতে মদের উপস্থিতি পেয়েছে। এ্যালকোহলমুক্ত বলা হলেও আদতে কোকাকোলা বা পেপসি তা নয়। ফ্রান্সের বিখ্যাত সাময়িকী সিক্সটি মিলিয়ন কনজুমারস এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করলে এ নিয়ে বেশ হৈ চৈ সৃষ্টি হয়। প্রতি লিটার কোকাকোলা বা পেপসিতে ১০ মিলিগ্রাম মদের মিশ্রণ পাওয়া গেছে যা শতভাগের হিসেবে শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য ১ ভাগ মাত্র।

কিন্তু এ পরিমাণ মদের উপস্থিতি বিশ্বে কোটি কোটি মুসলমানদের ভাবিয়ে তুলেছে যারা নিয়মিত এ দুটি পানীয় পানে অভ্যস্ত। কারণ ইসলাম ধর্মে মদ খাওয়া নিষিদ্ধ। এছাড়া যারা গাড়ি চালানোর সময় মদের বিকল্প হিসেবে কোকাকোলা বা পেপসির মত কোমল পানীয় ব্যবহার করেন তাদেরকেউ বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে। তবে ফ্রান্সে ওই গবেষণায় অচান, কোরা, ক্যাসিনো, লিডার প্রাইস ও ম্যান উ-কোলাতে কোনো মদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অথচ কোকাকোলা, পেপসি কোলা, কোকাকোলা ক্লাসিক লাইট ও কোক জিরোতে মদের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

এদিকে কোকাকোলা ফ্রান্সের বৈজ্ঞানিক পরিচালক মাইকেল পেপিন বলেছেন, হ্যা কোকাকোলা বানানোর প্রক্রিয়া থেকে এধরনের পানীয়তে মদের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে কোকাকোলা বানানোর রেসিপি এখন পর্যন্ত বিশ্বে গোপন রাখা হয়েছে। প্যারিস মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলেও পেপিন বলেন।

মদ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন ও চিনি ব্যবহার করা হয়ে কোকাকোলায়। পেপসির একজন কর্মকর্তা বলেন, এধরনের পানীয় বানানোর সময় যে সব মিশ্রণ বা উপাদান ব্যবহার করা হয় তাতে করে মদের কিছুটা উপস্থিতি থেকেই যায়। তবে পেপসিতে মদ নেই বলে তিনি দাবি করেন। এদুটি কোম্পানি দাবি করে ফলের জুস তৈরি বা প্রক্রিয়াজাতেও কিছুটা মদের উপস্থিতি থাকতে পারে।

১৮৮৬ কোকাকোলা আবিস্কার করেন যুক্তরাষ্ট্রের জন পেমবারটন। যা তখন মাথা ধরা ও যৌনঅক্ষমতার ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হত। কিন্তু এখন তা বিশ্বের ২’শরও বেশি দেশে জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ক্যাফেন ও চিনি অত্যধিক মাত্রায় থাকে বলে এধরনের পানীয় খেলে মোটা হওয়া ছাড়াও শরীরে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস রোগিদের জন্যে ক্ষতিকারক। এক ক্যান কোকাকোলায় অন্তত দশ চামচ চিনি রয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৫/০৭/২০১৬

Related posts