December 19, 2018

ফাইনালের পথে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ পারফরম্যান্স

aস্পোর্টস ডেস্ক:: টুর্নামেন্টে পাকিস্তান এসেছে আন্ডারডগের তকমা নিয়ে। এই টুর্নামেন্টের আট দলের মধ্যে সবার নিচে ছিল পাকিস্তান। কেউ গোনায় ধরেনি এই পাকিস্তানকে।

গ্রুপ পর্বেই তাঁদের এবারের যাত্রা শেষ ধরে নেওয়া হচ্ছিল। ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানে হারের পর তো সবাই আরও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হারতেও জিতে যাওয়া পাকিস্তানের উপর ভরসা রাখতে পারছিলেন না কেউ। কিন্তু সেমিফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক দল ইংল্যান্ডকে একক আধিপত্যে হারিয়ে ফাইনালে উঠে সব সমালোচকের মুখ বন্ধ করে দেয় সরফরাজের দল।

প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। এই ফাইনালের পথে পাকিস্তান দলের সেরা ৫টি পারফরম্যান্স হল:

১. শ্রীলংকার বিপক্ষে সরফরাজ খানের ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস:
অধিনায়কোচিত ইনিংস সব সময় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেটি যখন দেখা যায় ম্যাচের কঠিন সময়ে। অধিনায়ক সরফরাজের এমনই একটি লড়াকু ইনিংসের কল্যানে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়লাভ করেছে পাকিস্তান। এ ইনিংসে অবশ্য সহজ দুটি জীবন পান সরফরাজ। তারপরও লাইফতো খেলারই অংশ। চরম চাপের মধ্যে থেকেও তিনি তিন বিভাগেই সমান পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছেন।

২. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হাসান আলীর সাড়া জাগানো স্পেল:
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিখুঁত বোলিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখে ২৩ বছর বয়সি এই পেসার বৈচিত্র্যময় বোলিং দিয়ে একাই ধ্বসিয়ে দেন প্রোটিয়া ব্যাটিং বিভাগকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের ব্যবধান গড়ে দেয়া ওই ম্যাচে ৮-১-২৪-৩ বোলিং ফিগার নিয়ে সেরার পুরস্কারটিও আদায় করে নেন এই উদীয়মান পেসার। হাসানের নিখুঁত বোলিংয়ের কারণে প্রেটিয়া ব্যাটসম্যানরা রানের চাকা সচল রাখতে ব্যর্থ হয়। এই ধারাবহিকতা তিনি পরের ম্যাচগুলোতেও ধরে রেখেছিলেন।

৩. শ্রীলংকার বিপক্ষে মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খানের স্পেল:
মোহাম্মদ আমির ও জুনায়েদ খানের লড়াকু বোলিংয়ের কল্যানে লংকানদের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেয়ে যায় পাকিস্তান।

প্রথমে ব্যাটিং শুরু করা লংকান ব্যাটসম্যান এঞ্জেলো ম্যাথুস ও ডিকবেলা বড় একটি লক্ষ্য স্থিরের ইঙ্গিত দিলেও আমির এবং জুনায়েদ নিজেদের বোলিংয়ের সময় রিভার্স সুইংয়ের অসাধারণ স্পেল পার করেন। তাদের ওই বোলিং তান্ডবে ১৬৭ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলংকা। ৩ উইকেটে ১৬১ রানে থাকা লংকানরা পরবর্তী ২২ বলের মোকাবেলায় ৬ রান যোগ করতেই হারিয়েছে চার উইকেট। আমির ৭৩ রান সংগ্রহকারী ডিকবেলা এবং ৩৯ রানের ম্যাথুজকে ফিরিয়ে দেন। আর জুনায়েদ ফিরিয়ে দেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (১) ও থিসারা পেরেরাকে (১)।

৪. ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবারো জ্বলন্ত হাসান আলী:
পাকিস্তান দলের অধিনায়কের রাখা আস্থার প্রতিদান কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে দিয়েছেন হাসান আলী। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে প্রথম ম্যাচে নাস্তানাবুদ হওয়া পাকিস্তানকে দারুনভাবে লড়াইয়ে ফিরে এনেছেন তিনি।

হাসান আলীর ৩৫ রানের বিপরীতে ৩ উইকেট সংগ্রহের ঘটনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালের চেহারাই পাল্টে দেয়। এ পর্যন্ত ১০ উইকেট সংগ্রহের মাধ্যমে আলী এখন টুর্নামেন্টের শীর্ষ উইকেট সংগ্রহকারী। ফাইনালেও তিনি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে আশা করছে পাকিস্তানীরা।

৫. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইমাদ ওয়াসিমের ঘূর্ণি:
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯ রানে হারানো সম্ভব ছিলনা যদি না দুটি উইকেট নিয়ে ইমাদ ওয়াসিম খেলার চেহারা পাল্টে না দিতেন।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয়ার পর উদ্বোধনী জুটিতেই ৪০ রান সংগ্রহ করে ফেলেন প্রোটিয়া দলের ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। ওই ম্যাচে ইমাদই এলবিডব্লিউর ফাদে ফেলে প্রথম উইকেট হিসেবে ফিরিয়ে দেন আমলাকে। আমলাকে আউট করার পর তিনি শুন্য হাতে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান এবি ডি বিলিয়ার্সকে। এটি ছিল প্রোটিয়া অধিনায়কের ক্যারিয়ারে প্রথম শুন্য রানে মাঠ ছাড়ার ঘটনা।

Related posts