September 25, 2018

ফতোয়া দেবেন ফরিদ উদ্দীন মাসুদ ?

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম ফরিদ উদ্দীন মাসুদ জঙ্গিবাদ বিরোধী কিছু ফতোয়া জারি করবেন বলে জানিয়েছেন। ইসলাম সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না আর আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে বেহেশত পাওয়া সম্ভব নয়-এমন সব বার্তা থাকবে তার ফতোয়ায়। এই ফতোয়ার সমর্থনে তিনি এখন দেশের ইসলামি আলেমদের স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছেন। এমন এক সময় এই কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে যখন বাংলাদেশের পুলিশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিহত করতে দেশের বিভিন্ন মসজিদ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।
ঢাকার আফতাব নগরে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হিদারাতুল উলুম নামে কওমি মাদরাসায় স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য হাজির হন একদল আলেম যাদের হাতে কয়েক পৃষ্ঠার একটি লিফলেট। তাতে আরবি এবং বাংলায় লেখা বেশ কিছু ফতোয়া। স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য রয়েছে একটি ছককাটা কাগজ। স্বাক্ষরের বিষয়ে মাদরাসার শিক্ষক এবং সিনিয়র ছাত্রদের নিয়ে বৈঠক করা হয়।

মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি চরম বিদ্বেষী করে তোলার চরম ষড়যন্ত্র চলছে। সে জন্য আমরা এই গ্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আমরা একলক্ষ বা তার চেয়ে বেশি ফতোয়ার আলোকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করবো। আমাদের এই কর্মসূচী বিভিন্ন মাদরাসায় চলছে এবং সবাই স্বতস্ফুর্তভাবে এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আমরা আশা করি এখানে যারা আলেম-ওলামা আছেন তারা এই স্বাক্ষরপত্রে স্বক্ষর দিয়ে সহযোগিতা করবেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলাম যে অন্যান্য ভূমিকা রাখছে আমরা সেটা প্রমাণ করতে চাই।
আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হিদারাতুল উলুম মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. আলী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, সন্ত্রাসকে ইসলাম পছন্দ করে না। সন্ত্রাসকে নির্মুল করার জন্য তারা আমাদের কাছে আসছেন এই বিষয়ে আমরা সবাই একমত। আজকে নতুন একটা প্রেক্ষিতে এই কাজ করতে হচ্ছে। আমরা অবশ্যই সব সময় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিপক্ষে’।

এই কার্যক্রমের বিষয়ে ফরিদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, এটার জন্য সরকারের কোন চাপতো ছিলই না বরং আমরাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উৎসাহ দিয়েছি যে শুধু তাদের কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে জঙ্গি দমন হবে না। কারণ যেহেতু তারা ধর্মীয় চেতনা থেকে এই কাজটা করছে। যারা জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন তারা মনে করছেন ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে তারা নিজেকে আত্মদান করবেন আর সঙ্গে সঙ্গেই তাদের জন্য জান্নাতের হুররা অপেক্ষা করতেছে। এই চেতনাটা যদি তাদের মধ্যে পরিবর্তন করতে হয় তাহলে আলেম-ওলামারাই এটি পরিষ্কার করতে পারে। আমাদের উদ্দেশ্য হলো বিভাজন এড়াতে সারা দেশে আলেমদেরকে এই ফতোয়ার ব্যাপারে একমত করা।

মূলত ১১ টি প্রশ্নকে সামনে রেখে ফতোয়াগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রশ্নগুলো হচ্ছে-

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে ইসলাম সমর্থন করে কিনা?

জিহাদ ও সন্ত্রাস এক জিনিস কিনা?

ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে মৃত্যুবরণ করলে সে শহিদ হবে কিনা এবং পরকালে জান্নাত পাওয়া যাবে কিনা?

নির্বিচারে মানুষ হত্যাকা- ইসলাম সমর্থন করে কিনা?

এসব প্রশ্নে কোরআন ও হাদিসের আলোকে সবাই একমত হয়েছেন যে সবগুলো প্রশ্নের জবাব হচ্ছে না। ইসলাম ধর্ম এগুলোর কোনটিকে সমর্থন করে না।

ফরিদ উদ্দীন মাসুদ আরও বলে, মুসলিম সমাজে ফতোয়ার বিরাট একটা প্রভাব বিদ্যমান। আমাদের দেশে কেউ কেউ ফতোয়ার অপব্যবহার করেছেন। তাই আমরা এই স্লোগানে এখন একত্রিত হচ্ছি যে ‘মানব কল্যাণে ফতোয়া’। এই বিষয়ে যেন একটা সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে পারি এই চিন্তা নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক বলেন, ‘মৌলবাদি চিন্তা চেতনা নির্দিষ্ট ব্যক্তি থেকে আসে। মাদরাসায় পরলেই যে হবে এমন নয়। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে বা শিক্ষকতা করে এরকম অনেকের মধ্যে মৌলবাদের ধ্যান ধারণা আছে। তাদের কারণে অনেকেই জঙ্গি কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়। সিরিয়া বা ইরাকে যারা আইএস এর সাথে যোগ দিচ্ছে তারা কিন্তু মাদরাসার ছাত্র না। যুবক শ্রেণী যারা আছে তাদেরকে বুঝানো তোমরা ভূল পথে যাবা না। এই কাজটা শুধু আমরা করলে হবে না সমাজের সকলে মিলে যদি কথাগুলো বলে তাহলে নতুন করে কেউ মৌলবাদেও ধ্যাণ ধারণায় পরবে না’।

ফরিদ উদ্দীন মাসুদের অনুসারীরা জানাচ্ছেন এরই মধ্যে সারা দেশে কমিটি গঠন করে অব্যাহতভাবে তাদের ফতোয়ার সমর্থনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। এরই মধ্যে ১০ হাজারের বেশি স্বাক্ষর নেয়া হয়ে গেছে। তারা আশা করছেন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ১ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারবেন। তার পরেই ব্যাপক ভিত্তিক প্রচারের জন্য সংশিষ্ট মহলে ফতোয়াগুলো সরবরাহ করবেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts