September 22, 2018

প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে পায়ের মাংশ খসে পড়েছে সাতক্ষীরার এক নির্মাণ শ্রমিকের

 

শহীদুজ্জামান ( শিমুল ) সাতক্ষীরা
প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে পায়ের মাংশ খসে পড়ছে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নির্মাণ শ্রমিক আকবর আলী গাজীর। তিনি আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত গহর আলীর গাজীর ছেলে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু সংবাদ পেয়ে তাকে নিয়ে আসেন সদর হাসপাতালে। তবে ডাক্তার জানিয়েছেন এখানে তার চিকিৎসা নেই। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা প্রয়োজন।
তিন মাস আগে ঢাকায় নির্মাণধীন একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সময় তার পায়ের তলায় একটি পেরেক ফোটে(বিদ্ধ) হয়েছিল। এর পর থেকে দিন দিন তার পা ফুলতে থাকে। একপর্যায়ে পা থেকে চামড়া ও মাংস খসে পড়া শুরু হয়। এ অবস্থায় তিনি প্রথমে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করান। পরে টাকার অভাবে চলে আসনে সাতক্ষীরায়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে দুই দিন রাখার পর ফিরিয়ে দিয়ে বলে এখানে চিকিৎসা হবে না। খুলনায় যেয়ে চিকিৎসার করাতে হবে। টাকার অভাবে চিকিৎসা না করিয়ে স্থানীয় কবিরাজদের দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন আকবার আলীর পরিবার।

rrr
চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করায় আকবার আলীর পায়ের ক্ষত দিন বাড়তে থাকে। খসে পড়তে শুরু করে পায়ের মাংস। দুগর্ন্ধ ছড়াতে থাকে পায়ের ক্ষত স্থান থেকে। এই অবস্থায় প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে আসা বন্ধ করে দেয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নির্মাণ শ্রমিক আকবার আলী।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আকবার আলি, জানান- ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে গিয়ে একটি বিল্ডিংয়ের ছাদের সেন্টারিংয়ের সময় পায়ে তক্তার পেরেক ফোটে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে তার পা থেকে মাংস খসে পড়তে শুরু করেছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ আমার চিকিৎসা যদি তিনি দায়িত্ব নিয়ে বড় কোন হাসপাতালে নিয়ে যান তাহলে তার সংসার বেঁচে যাবে।

আকবর আলীর স্ত্রী শরবানু , জানান– আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো না। অনেক কষ্ট করে একটি পাকা ঘর তৈরী করে অনেক ঋণ হয়ে যাই। এরপর বছর খানিক আগে কাজের সন্ধানে আমরা দুইজন ঢাকায় চলে যাই। সেখানে গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকের সহকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছিল তারা। পায়ে পেকের ফোটার এক সপ্তাহ পর থেকে অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করতো সে। দিন দিন জ্বালা যন্ত্রনা বাড়তে থাকে। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা করার পর সাতক্ষীরায় ফিরে আসে তারা।rrrrrr

সহকারি অধ্যাপক, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ , ডা. মো. জানান নাসিরউদ্দিন ইনফেকশন থেকে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অজ্ঞানতা আর অসচেতনতাই এর কারণ। ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা না করিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়ে তারা ভুল করেছে। ঢাকা বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ,আসাদুজ্জামান বাবু, তিনি বলেন, বিনা চিকিৎসায় একজন মানুষ দিন দিন মৃত্যুর মুখে ধাবিত হচ্ছে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই।তাকে বাঁচাতে সরকারী বা বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

Related posts