September 25, 2018

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার শেষ ভাষণ

স্টেট অব ইউনিয়নে শেষ ভাষণ দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

স্টেট অব ইউনিয়নে শেষ ভাষণ দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মঙ্গলবার রাতে ক্যাপিটাল হিলে জাতির উদ্দেশ্যে তিনি এ ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণে নিজের বিভিন্ন সফলতা আর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা জাতিকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ওবামা।

উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে ওবামা বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আট বছর পার করেছি। আমি আমার দেশ এবং দেশের মানুষের উন্নয়নের কথাই সব সময় ভেবেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি সব সময় সব বিষয়ে ইতিবাচক ছিলাম, সবাই যেখানে ব্যর্থ ছিল সেখানে আমি আশার আলো জাগিয়েছি। আমি মার্কিনদের চাকরির ক্ষেত্রে প্রসার ঘটিয়েছি। দেশে বেকারের সংখ্যা হ্রাস করেছি। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছি। আমি আশা করব শরণার্থী ইস্যুতে আমাদের যে অবস্থান রয়েছে তা ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে ।’

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি এটা নির্বাচনের মৌসুম। আর এটা প্রত্যাশার সময় যে ভবিষ্যত সময়ে আমরা কি পাবো। গত বছরের শেষের দিকে বাজেট এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত কাজে গঠনমূলক পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য মাননীয় স্পিকার এবং অন্যান্য নেতাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি আমরা সবাই মিলে সামনের সময়গুলোতেও একত্রে কাজ করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ রাতে আমি সামনের দিনগুলোর জন্য সহজ কিছু প্রথাগত প্রস্তাবের তালিকা জানাতে চাই। চিন্তার কিছু নেই। আমি রোগীদের চিকিৎসার সুব্যবস্থার জন্য কম্পিউটার কোডকে পার্সোনালাইজ করে ব্যবহারের পদ্ধতি ছাত্রদের শিখতে সাহায্য করেছি এবং উন্নয়নের জন্য যেসব কাজ করা প্রয়োজন সেগুলো চালিয়ে যাব। অভিবাসন পদ্ধতির জন্য একটি নির্ধারিত পদ্ধতি, আমাদের শিশুদের বন্দুক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, কাজ ও বেতনের মধ্যে সমতা, বেতনভোগী ছুটি, ন্যূনতম মজুরিসহ বিভিন্ন কঠিন কাজগুলো একত্রে সমাধান করতে হবে। আর এগুলোই এখনও সবার মৌলিক অধিকার বলে গুরুত্ব দিতে হবে। এই কাজগুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি হাল ছাড়ছি না।’

ভাষণে ওবামা ভবিষ্যতের প্রতি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘কিন্তু আমার এই শেষ ভাষণে আমি শুধু সামনের বছরের কথা বলতে চাই না। বরং আমি পরবর্তী পাঁচ বছর, দশ বছর বা তারও পরের সময়ের প্রতি জোর দিতে চাই। আসলে আমি ভবিষ্যতের ওপরই বেশি আলোকপাত করতে চাই। ’

ভাষণের এক পর্যায়ে ওবামা বলেছেন, ‘আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নয়। তিনি আরো বলেছেন, সন্ত্রাস এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে মার্কিনদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের ভবিষ্যত নিয়ে ভয় পাওয়া কিছু নেই। কেননা দেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর আমি আমার প্রচেষ্টায় বন্দুক আইনের ওপরও জোর দিয়েছি। আমি এদেশে বন্দুক সংক্রান্ত সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে চাই যেন সন্ত্রাসীরা অবাধে বন্দুক কেনা বেচা-কেনা করতে না পারে।’

ভাষণে ওবামা আরো বলেন, ‘আইএস এবং আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের জন্য আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক দশক ধরে অস্থিরতা চলতেই থাকবে।’ নিজের শেষ ভাষণে ওই দুই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আইএস এবং আল কায়েদা উভয়ই বর্তমান বিশ্বে আমাদের লোকজনের জন্য হুমকি স্বরুপ। তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। তারা নিজেদের জীবনেরও পরোয়া করে না। তারা বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। তারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সহজ-সরল মানুষদের মনের ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে। আর এদের দিয়ে মানুষ হত্যার মত জঘন্য কাজ করাচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে আইএস এবং আল কায়েদার হুমকির বিষয়টিকেও আলোকপাত করতে হবে। আইএস ও আল কায়েদার কারণে মধ্য প্রাচ্য, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অস্থিরতা কয়েক দশক ধরে চলতে থাকবে। আর এ কারণে এসব স্থান সন্ত্রাসীদের জন্য নতুন নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হতে পারে।’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts