September 19, 2018

প্রেমের টানে হায় আনসারি…

26

মুম্বইয়ের যুবক হামিদ আনসারি প্রেমের টানে গিয়েছিলেন চিরবৈরী পাকিস্তানে। ২০১২ সালের ঘটনা। তখনই পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। কিন্তু পাক পুলিশ বা কোনো কর্তৃপক্ষই তখন তাকে আটকের কথা স্বীকার করেনি। অবশেষে পেশওয়ার হাইকোর্টকে পুলিশ জানিয়েছে, ২০১২ সালে হামিদকে আটক করা হয়েছে। তবে এরপর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে তাকে তুলে দেয়া হয়েছে। এই প্রথম পাকিস্তানের পক্ষ থেকে হামিদ আনসারিকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেল।

প্রেমের টানে মুম্বই থেকে প্রথমে আফগানিস্তানের কাবুল গিয়েছিলেন হামিদ। সেখান থেকে নিজের পাশতুন প্রেমিকার খোঁজে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েন পাকিস্তানে। পেশওয়ারের কোহাটের একটি হোটেলে ঢুকার কিছু সময় পর থেকেই নিখোঁজ এ যুবক। তখনই পেশওয়ার হাইকোর্টের কাছে এক হলফনামায় পুলিশ তাকে আটকের কথা জানায়। ওই হলফনামা এই প্রথম হামিদের পিতামাতার কাছে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামিদকে গোয়েন্দা ব্যুরোর এক পরিদর্শকের তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয়। পরে তাকে আইএসআই ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। এর পর আর তাকে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। হাইকোর্ট তখনই সরকারকে আদেশ দিয়েছিল হামিদ আনসারিকে খুঁজে বের করতে। এ ছাড়া ইসলামাবাদ-ভিত্তিক একটি কমিটিও এ গুমের ঘটনা তদন্ত করবে।

২৬ বছর বয়সী হামিদ নেহাল আনসারি মুম্বইয়ের ব্যবস্থাপনার শিক্ষক। কাবুল বিমানবন্দরে চাকরির প্রস্তাব পেয়ে সেখানে যাবেন বলে বাবা-মাকে জানান তিনি। তবে নিরাপত্তার কথা ভেবে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাবা-মা। কিন্তু হামিদের জেদাজেদিতে হার মানেন তারা। কাবুলে পৌঁছার এক সপ্তাহ পরেই তার সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন তার পিতা-মাতা। তার কমিপউটার খুলে ফেসবুক ও ইমেইল অ্যাকাউন্ট চালু দেখতে পান তারা। সেখানেই তারা আবিষ্কার করেন পাকিস্তানের মেয়ে রাজিয়ার (ছদ্মনাম) সঙ্গে তার দুই বছরের প্রেম। একদিন রাজিয়া তাকে জানায়, তার পিতামাতা এ ফেসবুক সম্পর্কের কথা জানতে পেরেছে। তাই তাকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দেয়া হবে। এরপরই রাজিয়া হারিয়ে যায়।

আর নিজের প্রেমের টানে কাবুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আনসারি। সেখান থেকেই অবৈধ পথে পাকিস্তানে যাওয়ার ইচ্ছা তার। হামিদকে করা শেষ ফোন কলে রাজিয়া কেবল অঝরে কাঁদছিল। প্রথমে পেশওয়ারের কোহাটের আরেক পরিচিত নারীকে দিয়ে রাজিয়ার খোঁজ কোরান চিন্তিত আনসারি। পরে বৈধপথে কোহাটে ঢুকার ব্যাপক চেষ্টা করেন হামিদ। কিন্তু ব্যর্থ হন। এ ছাড়া কোহাট ছিল দারুণ ঝঞ্ঝাটপূর্ণ এলাকা। অনার কিলিং-ও প্রায়ই ঘটে সেখানে। এ বিষয়ে অসংখ্য পাকিস্তানির সঙ্গে কথা বলেন আনসারি। এর মধ্যে তিন অনলাইন বন্ধু তাকে কাবুল হয়ে অবৈধ পথে কোহাটে প্রবেশের বুদ্ধি দেয়। এমনকি বিস্তারিত নির্দেশনাও দেয়।

সে অনুযায়ী গিয়ে পেশওয়ার পর্যন্ত পৌঁছতে পারলেও, কিছু সময় পরই ধরা পড়ে মুম্বইয়ের এ রোমিও। তিন বছর পর জানা গেল, তাকে আটক করে রেখেছে পাক কর্তৃপক্ষ। তার মুক্তির জন্য তার পিতা-মাতা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts