September 18, 2018

প্রিয় নেত্রীর কাছে খোলা চিঠি

received_2014612648568813

আপনার প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।

নিউ ইয়র্কের আকাশে আজ ঘনকালো মেঘ। অঝর ধারায় সকাল থেকে বৃষ্টি নামছে। মাউন্ট সায়নাই এমনিতে এক ভীষন নীরব এলাকা । তার উপর মধ্য দুপুরের এই ঘন বৃষ্টি আরো বেশী নিশ্চুপ করে দিয়েছে চারপাশ।

প্রিয় নেত্রী — আমি আপনাকে লিখছি। বাতাসে এখন বাংলাদেশের গন্ধ। আমার মন ভালো নেই। আপনার ওখানে এখন তো মধ্যরাত। যতটা জানি এ সময়টায় আপনি একান্তে নামাজ আদায় করেন। আজও নিশ্চিত তাই করছেন। গত কয়েক দিন ধরে আমি শুধু আপনার কাছে চিঠি লিখছি। আমি লিখেছি আপনার কথা , আমার কথা আরোও সে অনেক কথা। আমি চাই এবং এটাই আমার গভীর চাওয়া, আমার এই চিঠিটা যেন আপনার কাছে পৌছে কোন একদিন। এক মমতাময়ী মা শত কোটি সন্তানের জননী ,সার্থক জন্মদাত্রী আপনাকে লাখো সালাম ।

আমার স্পষ্টই মনে আছে আপনার সাথে আমার প্রথম একান্তে দেখার দিনটি। শুধু আপনাকে দেখবো বলে রাতের পর রাত আমার ঘুম ছিলো না দুটি চোখে। কত কথা মনে করে রেখেছিলাম বলবো বলে। সময়ের একদিন আগে ঢাকায় আসলাম। সেটা ছিলো নভেম্বর মাস, শীতকাল।আমি একা ভয় ভয় লাগছিলো , পৌছে গেলাম আপনার কাছে। এক মহাবিস্ময় আতিথেয়তায় মুগ্ধ আমি আপনার সামনে দাড়িয়ে। আমার সারা শরীর থর থর করে কাঁপছে। আনন্দ আর ভয় এক সাথে মিলেমিশে আমাকে করেছে দিশেহারা। অবাক বিস্ময়বিহ্বল আমার পলকহীন চোখ শুধু আপনাকে দেখছিলো। নেত্রী, কিছু সময়ের জন্য এই আমি আর এই আমাতে ছিলাম না। বুকের ভেতরে কে যেন আমার জমানো কথা গুলি এক সাথে বলতে শুরু করেছে। আমি কিছুই শুনতে পেলাম না। সমস্ত
নীরবতা কে ভেংগে আপনি বলে উঠলেন“ এতো দুর থেকে সামনে এসে চুপ কেন? কতো না কিছু বলার আছে তোমার !! আমি কথা বলতে পারছি না আমার গলা ধরে আসছে। নেত্রী আমি তো সেই কিশোরী শায়লা যার কথা শুনে আপনার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজ হাতে গলায় মালা পরিয়েছিলেন। ১৯৭৯ সাল ,সারা বাংলায় জাতীয় শিশু —কিশোর প্রতিযোগীদের সম্মেলনে আমি প্রথম হয়েছিলাম। এ সম্মেলন ছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার এক নতুন স্বপ্নের জাগরণ । নেত্রী আমি তো সেই শায়লা “ ৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রতি বিকেলে শহীদ মিনারে ছিলাম। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাথে রাস্তায় মিছিল করেছি।

কত বার কালো পতাকা হাতে শিরোনাম হয়েছি দৈনিকের প্রথম পাতায়। নেত্রী আমি যে অনেক সাহসী একজন শায়লা —আপনার সামনে মুখ বুঝে দাড়িয়ে আছি, কথা বলতে পারছি না। আপনি কি কিছুটা বুঝতে পেরেছেন। আমার বিশ্বাস নিশ্চিত ।
আপনার সাথে ছবি তোলা নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকে। বুকের ভিতরে এক বরফ শীতল অনুভূতি নিয়ে ঠায় দাড়িয়ে আমি আপনার সব ছবি আমার হৃদয়ের মাঝে তুলে রেখেছি ।

নেত্রী ১৯৯৪ আমি আমার মা কে হারিয়েছি। আমার মেয়ে আইনাব তখন এক বছরের। বাবার সামনে দাড়িয়ে প্রায় আমি আমার মায়ের জন্য কাদিঁ। একদিন মেয়েকে আমার কোলে তুলে দিয়ে বাবা বললেন আজ থেকে তুমি তোমার মেয়েকে মা’ বলে ডেকো। তখন বুঝিনি আমি কেমন করে আমি আমার মায়ের শোক ভুলে গেছি।

নেত্রী আজ আমাদের মনে অনেক কিছু হারাবার শোক। তাই বলে আমরা দুঃখের ভেলায় ভাসছি না। শত দুঃখ কষ্টের মাঝে আজ আমরা আমাদের মা“কে খুজে পেয়েছি। আপনার ভয় কি! এক পাশে আপনার প্রিয় সন্তানরা , অন্য পাশে শহীদ জিয়ার আদর্শ সৈনিক আপনার পাশে ছায়ার মতো পাহাড়ায় আছে। আর আপনি তো সকল ভয় ডর কে দূরে সরিয়ে এক সংগামী জননী আমাদের মাথার উপর আছেন।

মা গো আজ আমরা সময়ের কাছে বড় অসহায়।শুধু এইটুকুই আমাদের ব্যর্থতা। রাজনীতিতে মত ভেদ থাকতেই পারে। তাই বলে আমাদের জাগ্রত বিবেক বোধ কোনদিন কোন অন্যায় কোন অমানবিক কাজের সংগী হতে পারে না। আমরা যে আপনার শিক্ষায় আপনারই আদর্শে গড়ে উঠেছি। আমরা সবাই আপনার সাথে স্ব—ইচ্ছায় নিরবাসনে যেতে চাই। আপনি কষ্টে আছেন যেনে আমরা ও ভালো নেই মা।

আমাদের আরো একবার আদেশ করেন মা। আপনাকে কথা দিলাম ঐ অন্ধকার ঘরের তালায় ভাঙ্গন ধরাবো, ধরাতেই হবে। এক নতুন দিনে, এক নতুন সূর্যের নরম আলোয় আপনার হাত ধরে হেটে যাবো আমরা বহুদূর এ আমাদের আমৃত্যু প্রতীক্ষা।

শায়লা আজীম
মাউন্ট সায়নাই
নিউ ইয়র্ক

Related posts