November 16, 2018

প্রিয় গ্রাহক, আপনার রি-রেজিস্ট্রেশন সফল হয়নি!

ঢাকাঃ  বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের শেষ দিন আজ ৩০ এপ্রিল। শেষ সময়ে বিপুল চাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া। অনিবন্ধিত সিম নিয়ে চরম ভোগান্তির আভাস মিলছে সংলিষ্টদের পক্ষ থেকে। তবে নিবন্ধনকারীদের অভিযোগেরও শেষ নেই। বলছেন, আঙ্গুলের ছাপসহ নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অপারেটরদের পক্ষ থেকে ফিরতি মেসেজ আসছে, ‘ প্রিয় গ্রাহক, অনিবার্য কারণবশত আপনার রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সফল হয়নি। অনুগ্রহ করে রিটেইলারের সাথে যোগাযোগ করুন’।

এমন নানা অভিযোগে নিবন্ধন না করেই ঘরে ফিরতে হয়েছে অনেক গ্রাহককেই। তাই ৩০ এপ্রিল সকাল থেকেই বিভিন্ন নিবন্ধন পয়েন্টে সিম নিবন্ধনকারীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। তাদের অনেকের মুখে সেই একই অভিযোগের সুর। সার্ভার না থাকায় নিবন্ধনের ভোগান্তিতে তারা।

মোহাম্মাদপুরের আল-আমিন বলেন, আমার এনআইডি নাম্বার বায়োমেট্রিক ডিভাইজে বার বার তুললেও সার্ভার পায় না। পরবর্তীতে এক পর্যায়ে সার্ভার পেলে আঙ্গুলের ছাপ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু আমাকে মোবাইল অপরারেটর কর্তৃপক্ষ থেকে ফিরতি এসএমএস দেওয়া হয় যে, প্রিয় গ্রাহক, অনিবার্য কারণবশত আপনার রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সফল হয়নি। অনুগ্রহ করে রিটেইলারের সাথে যোগাযোগ করুন’।

কাজল জানান, আমি সিম নিবন্ধনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আঙ্গুলের ছাপও দিয়েছি। কিন্তু মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে দুই দিনেও কোন ফিরতি ম্যাসেজ পাইনি।

শ্যামলী এলাকার ফয়সাল জানান, আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে এখনো সিম নিবন্ধন করতে পারিনি।

রিটেইলারদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেও পাওয়া যায় একই অভিযোগ। তবে অনেকেই বলেছেন, সমস্যা থাকার পরেও আমরা রেজিস্ট্রেশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ভোগান্তি হচ্ছে, তার পরেও অনেকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছি।

এদিকে, ৩০ এপ্রিলের বেশকিছুদিন আগে থেকেই গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাদের সিমটি নিবন্ধন করতে পারেনি। বায়োমেট্রিক মেশিনে মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের সার্ভারে ঢুকতে না পারায় এই সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক গ্রাহক। তবে অপারেটররা জানিয়েছেন, এই সমস্যা তাদের নয় এনআইডি সার্ভারের সমস্যা।

দেশের মানুষের হাতে থাকা ১৩ কোটি মোবাইল সিমের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৮ লাখ সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত হয়েছে। এর বাইরে আঙুলের ছাপ না মেলাসহ বিভিন্ন কারণে সোয়া এক কোটি গ্রাহক সিম নিবন্ধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

অবশ্য সিম পুনঃনিবন্ধনের সময় আরও কিছু বাড়তে পারে বলে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত এসেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের কথায়। সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তিনি।

এর আগে, গ্রাহক ভোগান্তি কমাতে নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে অপারেটরদের ডিভাইস বসানোর ‘অনুরোধ’ করা হলেও সবক্ষেত্রে সেটি না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। আগারগাঁওয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যালয়ে অপারেটর প্রতিনিধি ও এনআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি নিবন্ধনের সমস্যা দ্রুত সারানোর নির্দেশ দেন অপারেটরদের।

জানা যাচ্ছে, অনিবন্ধিত সিমগুলো বন্ধ করতেই তিন ঘণ্টা লেগে যাবে। তারপর শুরু হবে সেগুলো সচলের পালা। এই জটিলতা শেষ হতে লম্বা সময় লেগে যেতে পারে।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের কথায় জানা গেছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যেসব সিমের নিবন্ধন হয়নি, সেগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। তবে সমস্যা হবে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিম নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখা নিয়ে। নির্ধারিত সময় শেষে সেগুলো সচলের পালা। এই জটিলতা শেষ হতে লম্বা সময় লেগে যেতে পারে।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘নিবন্ধনের অতিরিক্ত চাপে এ সমস্যা হতে পারে। অপারেটর ও এনআইডি কর্তৃপক্ষের কারিগরি দল এ সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।

বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে,সিম পুনঃনিবন্ধনের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে শনিবার বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন হবে। বিটিআরসি কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমই সভাপতিত্ব করবেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভারে থাকা আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে চলছে সিমের এই নিবন্ধন; নতুন সিম কিনতেও যেতে হচ্ছে একই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে।আস

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৩০ এপ্রিল ২০১৬

Related posts