September 26, 2018

প্রাণভিক্ষাকে সাধুবাদ জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ

প্রাণভিক্ষাকে সাধুবাদ জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক প্রতিক্রিয়ায় এ সাধুবাদ জানান মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।

ইমরান বলেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার যে আবেদন করার জন্য আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কেননা, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আগে তাদের সব অপরাধ স্বীকার করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীরা যে আদর্শের কথা বলেছিল, আদর্শিক কারণে তারা মানুষ হত্যা করেছিল, কিন্তু আসলে আদর্শিক কোনো বিষয় এখানে ছিল না। বরং সেসময় নব্য একটা ধনিক শ্রেণি অর্থাৎ মুসলিম লীগ-জামায়াত দেশকে শোষণ করবার জন্য স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। এ ক্ষমা চাওয়ার মধ্যদিয়ে সে আদর্শ তো ভুলণ্ঠিত হলোই সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে যে কোনো আদর্শ নেই, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণেই স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল সেটা প্রমাণ হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচারের মামলায় অপরাধীরা একটি পক্ষ আর অপর পক্ষটি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। সুতরাং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কিংবা বিপরীতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার কোনো সুযোগ নেই।’

২০১৩ সালে তরুণদের জাগরণের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি কোনো অনুকম্পা প্রদর্শনের ক্ষমতা কোনো শাসক বা কারো সুযোগ নেই। যদি কোনো অনুকম্পা করা হয় তাহলে তরুণরা অতীতের ন্যায় রুখে দাঁড়াবে। সেটা আরো ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেন ইমরান।

ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানিয়ে ইমরান বলেন, ‘রিভিউ খারিজ হওয়ার পর সকল প্রকার আইনী প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আইনগত আর কোনো বাধা নেই।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী রিভিউ করারই কোনো সুযোগ ছিল না। আমাদের আপিল বিভাগ রায় দিয়ে রিভিউ করার সুযোগ দিয়েছে। আমরা সেটা মেনেও নিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি যে, যেহেতু সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, তাই আর কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।’

রাষ্ট্রপতিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র আরো বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রপতি, যিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি এ অপরাধীদের অর্থাৎ তার সহযোগী ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপোষ করে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করবেন আমরা তা প্রত্যাশা করি না।’

উৎসঃ   বা.মে.
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts