November 17, 2018

প্রশ্নফাঁসে জরিত কলেজ শিক্ষক, বিজি প্রেসের কর্মচারী!

ঢাকাঃ  প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশ্নফাঁস। মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হলেও ঠেকানো যায়নি। যাবে কী করে? পাহারাদার চুরি করলে মালিক ঠেকাবে কীভাবে?

গত ৮ জুন রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে আটক প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৯ সদস্যকে রিমান্ডে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জানতে পেরেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) মুদ্রণ শাখার এক কর্মচারী এবং এক কলেজ শিক্ষক জড়িত রয়েছেন। এদের একজন পরীক্ষার দু’দিন আগে অন্যজন ঘণ্টাখানেক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন।

রোববার এ বিষয়ে ডিবির এডিসি (উত্তর) মাহিদুজ্জামান সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল হোতা দু’জন। এদের একজন বিজি প্রেসের মুদ্রণ শাখার কর্মচারী আলমগীর। অন্যজন একটি কলেজের শিক্ষক। তার নাম হাছান।’

‘৯ জন আটকের পর থেকে আলমগীর ও হাছানের মোবাইল ফোন বন্ধ। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানেও আর যাচ্ছেন না। এ কারণে তাদের আটক করতেও একটু বেগ পেতে হচ্ছে’, বলেন ডিবির ওই কর্মকর্তা।

ডিবির এডিসি মাহিদুজ্জামান জানান, বিজি প্রেসের মুদ্রণ বিভাগের কর্মচারী আলমগীর প্রশ্ন ছাপার সময় প্রতিবার দু’টি করে প্রশ্ন মুখস্ত করতেন। পরে কাগজের রোল লোড করার সময় বাইরে এসে প্রশ্ন দু’টি কাগজে লিখে রাখতেন। এভাবে প্রতিবার দু’টি করে প্রশ্ন মুখস্ত করে লিখে রাখতেন। পরে সেগুলো মোটা অংকে বাইরে একটা চক্রের কাছে বিক্রি করে দিতেন।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, আলমগীর রাজধানীর তেজগাঁও বেগুনবাড়ি এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ। চক্রের অন্য সদস্যরা আটক হওয়ার পর থেকে আলমগীর পলাতক।

অন্যদিকে কলেজ শিক্ষক হাছান কিছুটা প্রযুক্তিনির্ভর। শিক্ষক হিসেবে কিছুটা সুবিধাও করতে পেরেছেন তিনি। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে স্মার্টফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে সাথে সাথেই হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ শিক্ষার্থীদের পাঠিয়ে দিতেন তিনি।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, কলেজ শিক্ষক হাছানের বাড়ি গাজীপুরের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে। তিনি ওখানকার একটি কলেজেই অধ্যাপনা করতেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই কলেজের নাম বলতে রাজি হয়নি ডিবি।

Related posts