September 20, 2018

প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও শান্তি মিশনে পাঠানোর প্রস্তাব

Captureঢাকা::সাধারণ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রাখা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন সদস্য সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং বিভাগীয় কমিশনারদের পদটিকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত করারও প্রস্তাব করছেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।

এছাড়াও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের মতো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুযোগ বহাল চান জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারের পদকে প্রথম গ্রেডে উন্নীত চান তারা।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন সামনে রেখে মোট ৩৪৯টি প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। এগুলো তারই অংশ। ডিসি সম্মেলন বলা হলেও এখানে বিভাগীয় কমিশনাররাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। প্রতিবছর মাঠপর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে তাদের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও এই সম্মেলন থেকে দেওয়া হয় ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের।

আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এটা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র জানায়, ডিসি সম্মেলন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাধারণ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিদেশে শান্তি মিশনে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর যুক্তি হলো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয়সহ যেকোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ প্রশাসনই সর্বাগ্রে ও প্রধান ভূমিকা নেয়। তাই সুযোগ দেওয়া হলে শান্তি মিশনেও তারা দেশের সুনাম রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বর্তমানে কেবল সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা শান্তি মিশনে যান।

শেরপুরের ডিসি প্রস্তাব করেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মুদ্রণের জন্য জেলা প্রশাসকের সাংগঠনিক কাঠামোতে উপযুক্ত ‘ফটোকপিয়ার’ যুক্ত করার। উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী বছর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

হাওর এলাকায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাওর ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন কিশোরগঞ্জের ডিসি।

বিনা মূল্যে বা প্রতীকী মূল্যে বন্দোবস্তকৃত কৃষি খাসজমির নামজারি করাসহ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১৮টি প্রস্তাব করেছেন বিভিন্ন জেলার ডিসিরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের ডিসি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি ও সদস্য পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল বন্ধে কঠোর নীতিমালা বা নির্দেশনা জারির প্রস্তাব করেছেন টাঙ্গাইলের ডিসি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নীতিমালা সংশোধন করে কোচিং বন্ধের প্রস্তাব করেছেন একজন ডিসি।

উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন বরিশালের ডিসি। কিন্ডারগার্টেনসহ প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেবল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্ধারিত বই পড়ানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি। এভাবে সরকারের ৫২টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয় সম্পর্কে মোট ৩৪৯টি প্রস্তাব দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।

Related posts