November 21, 2018

প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ধরা

PM-Fake-Sign-Arrest-06-500x350

ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর জাল করে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কোটায় এক ছাত্রীকে ভর্তির সুপারিশ করতে এসে ধরা পড়েছেন এক নারী; যিনি নিজেকে গণভবনের বাবুর্চি পরিচয় দিয়েছিলেন।মোছা. হাছিনা বেগম নামে ওই নারীকে আটক করে শেরে বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করেছে সরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা বশিরুল ইসলাম জানান, শেকৃবির ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ফাহিম জাহান দৃষ্টি (রোল ৩৯০৪৭) নামের এক ছাত্রীকে বিশেষ কোটায় ভর্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে গত ২৩ জানুয়ারি উপাচার্যকে একটি চিঠি দেন হাছিনা।

“এরপর গত ৭ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার মনজিলা ফারুকের ভুয়া স্বাক্ষরে আরেকটি চিঠি দেন ওই নারী। ওই চিঠিতে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদ সদস্য শেখ সেলিম ছাড়াও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূইয়া শফিকুল ইসলামের ভুয়া সুপারিশ আছে।”

গত ১২ ডিসেম্বর আরেকটি চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালকে পক্ষে প্রটোকল অফিসার মনজিলা ফারুক স্বাক্ষর রয়েছে। এই চিঠিতেও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভুয়া সুপারিশ ছিল।

বশিরুল বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পর ১২ ডিসেম্বর ফল ঘোষণা করা হয়। দৃষ্টি ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেও নির্বাচিত হয়নি।

“ভর্তি পরীক্ষার পরদিন থেকেই দৃষ্টিকে ভর্তির জন্য ওই নারী উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। উপাচার্যের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন দেখা করার পাশাপাশি ফোনেও যোগাযোগ করেন।”প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত চিঠিতে উপাচার্যের নামের বানান ছাড়াও ওই চিঠির ভাষা ও একাধিক বানানে ভুল থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় বলে জানান বশিরুল।

তিনি বলেন, “পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওইসব চিঠি ভুয়া হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যায়। আজ (রোববার) ওই নারী ফের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে ক্যাম্পাসে এলে তাকে আটক করে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।”

আটক নারী গণভবনে বাবুর্চি পদেও চাকরি করেন না বলে জানান বশিরুল।

ওই নারী জিজ্ঞাসাবাদে কিছু জানিয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নে জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, “শুধু বলেছেন, বস পাঠিয়েছেন, ভর্তি করাতে হবে।”

শেরে বাংলানগর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে এক নারীকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।”

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি বলে জানান ওসি।

জনসংযোগ কর্মকর্তা বশিরুল ইসলাম জানান, আটক নারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডি শেরে বাংলা নগর থানায় গেছেন।-বিডি নিউজ

Related posts