November 17, 2018

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় দারিদ্রতা ঘুচলেও বিচারের দাবীতে এখনও কাঁদে স্ত্রী লাইলী

এ কে আজাদ,চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ ঢাকায় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার আওয়ামীলীগ কর্র্মী নিহত কাঠ মিস্ত্রি আতিক উল্লাহর স্ত্রী লায়লী বেগম ৪ সন্তানকে নিয়ে মারাত্মক অভাব অনটনে খুপরি টিনের ঘরে দিন কাটিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে আতিকের পরিবারের দারিদ্রতা ঘুচলেও বিচারের দাবীতে এখনও নিভৃতে কাঁদে আতিকের স্ত্রী লাইলী বেগম।

দীর্ঘ ৯বছর দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করার পর। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আতিকের পরিবারকে ১০লাখ টাকার ডিপোজিট করে দিয়েছে। যা থেকে প্রতি মাসে সাড়ে ১০হাজার টাকা করে পাচ্ছে। এখন তার সংসারের দারিদ্রতা ঘুচে স্বচ্ছলতায় ফিরেছে। তৈরী হয়েছে খুপরি ঘর থেকে বিরাট টিনের ঘর। ঘরের আসবাবপত্রও তৈরী হয়েছে। এক সময় কেউ খোঁজ নিতে গেলে বসার একটু জায়গাও দিতে পারতোনা এখন যে যায় তাদেরকে ভাল ভাবে বসার জায়গা টুকু দিতে পারে। এতে সে খুব খুশি। তবে নিরবে নিভৃতে কাঁদে স্বামী হত্যার বিচারের জন্য। তার ইচ্ছে জীবিত থাকা অবস্থায় স্বামীর হত্যা কারীদের বিচার যেন দেখে যেতে পারে।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত আতিকের পরিবারের খোঁজ খবর কেউই রাখতো না। এমনকি আওয়ামীলীরে পক্ষে মৃত্যুবার্ষিকীতে কোন মিলাদ বা স্মরণসভার আয়োজনও হতো না। স্বজন হারানোর ব্যথা এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট তাদের জীবনকে করে তুলেছিল বিষাদময়। দীর্ঘ ৯ বছর যাবত শাড়ীর আঁচল দিয়ে বার বার অশ্রুশিক্ত নয়ন মুছেও শান্তি পায়নি স্বামী হারা লাইলী বেগম। এখনও পিতৃহারা ৪ সন্তানকে সেই বীভৎস দিনের প্রকাশিত পত্রিকার ছবি দেখিয়ে লোমহর্ষক হত্যার কথা বর্ণনা করেন লাইলী- বিচার চান খুনিদের।

আর শুধু কাঁদেন। চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ৭নং মোহনপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর পাঁচানী গ্রামের ছেলে আতিক পেশায় ছিলেন দিনমজুর কাঠ মিস্ত্রি, ঢাকায় এছাড়াও ঢালাই শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। স্ত্রী লাইলী ৪ সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। ২১শে আগস্ট আতিক কাজ কর্ম রেখে আওয়ামীলীগের জনসভায় যোগ দিয়েছিল অন্যান্য নেতা-কর্মীদের মতো। কিন্তু ঘাতকদের মিনিট কয়েকের গ্রেনেড হামলায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আতিক। নিহত হওয়ার পর ঢাকা থেকে মতলব উত্তরে এনে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। ১ মেয়ে ৩ ছেলে ও আতিক উল্লাহর মাকে নিয়ে পরিবারের উপার্জনক্ষম তখন কেউ আর ছিল না।

১ খানা দো-চালা খুপরি টিনের ঘর তাদের সম্বল ছিল। সন্তানদের লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করার চেষ্টায় লাইলী বেগম তখন থেকেই হিমশিম খাচ্ছিল। আতিক নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে প্রথমে ১ লাখ টাকা পেয়েছিল। ওই টাকায় গত ৯ বছরে তাদের এই ভাঙ্গা-গড় সংসারকে সামাল দিতেই নিঃশেষ হয়ে যায়। অবশেষে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর তাকে ১০লাখ টাকা দিয়ে ডিপোজিট করে দেয়।

সে টাকা থেকে প্রতি মাসে সাড়ে ১০হাজার টাকা করে পেয়ে লাইলী বেগম তার সংসার চালাচ্ছে বলে দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪.কমকে জানান। তিনি এই টাকাতেও সন্ত্রানদের পড়ালেখা করাতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানায়। তবে অনেক ভালো আছে বলে স্বীকার করেছে। এখন তার একটিই দাবী, স্বামীর খুনিদের বিচার। অন্যদিকে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুছের স্বচ্ছল পরিবার ১০লাখ টাকা পেয়ে আরো স্বচ্ছলতায় দিন কাটাচ্ছে। তবে তাদের বৃদ্বামা এই হত্যার বিচার দেখে যেতে না পারলেও এখন স্বজনদের দাবী কুদ্দুছ হত্যাকারীদের বিচার দেখে যাওয়ার। তারা দ্রুত এই বিচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে সরকারের কাছে জোরদাবী জানিয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts