September 21, 2018

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ সমূহ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

‡‡
তোফায়েল হোসেন জাকির ॥ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহনে তা বাস্তবায়নে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বিষয়গুলো হচ্ছে- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়ক কর্মসূচী, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানষিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পঃ এ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নপ্রসূত বিশেষায়িত প্রকল্প। তৃণমূলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে তাদের সঞ্চয়ে উৎসাহ দেওয়া, সদস্য সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেওয়া, সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় পুঁজি গঠনে সহায়তা এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করাসহ বহুমুখী কর্মকান্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ হাতে নেয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে প্রকল্পটি নতুন করে চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার ৪৮৫টি উপজেলায় চার হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৫২৭টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের একটি মডেল। সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এর আওতায় এনে তহবিল গঠন ও প্রয়োজনীয় ঋণদান প্রদানে এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চিন্তা এসেছিল দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের চিন্তা থেকেই। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আশ্রণ প্রকল্পঃ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের সব গৃহহীন পরিবারের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের অধিনে গৃহহীন প্রত্যেক পরিবারকে একটি করে ঘর করে দেয়া হয়েছে। প্রায় ২৩ হাজার পরিবারকে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। ঋণের টাকায় এসব পরিবার আয়বর্ধক নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী ও দারিদ্রমুক্ত হয়েছে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো- ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষের আবসন সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপ্রসূত এ প্রকল্প সারাদেশের গৃহহীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনসহ দারিদ্র বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশঃ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনা দেশকে দিন বদলের সনদ হিসেবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা নিয়ে যেতে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের ৪,৫৪৭ ইউনিয়নে চালু হয় ‘ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র’ যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নামে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরকারি ওয়েবসাইট ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’-এ ৪৩ হাজার দপ্তর এখন সংযুক্ত। এতে যুক্ত হয়েছে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নের ২৫ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইট। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অফিসের নানা কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। ২০১১ সালের ১৪ নভেম্বর দেশের সকল জেলায় জেলা ই-সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বহুবিধ অনলাইন কর্মসূচী বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে উপহার দিয়েছেন তাঁর নির্বাচনী ইস্তেহার ‘দিন বদলের সনদ’।
শিক্ষা সহায়ক কর্মসূচীঃ দেশের শিক্ষার মনোন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন অব্যহত রেখেছেন। শিক্ষা বিভাগের দুর্ণীতি রোধসহ অবকাঠামমো উন্নয়ন ও শূন্যপদ পুরণ করে আসছেন। এছাড়াও মাল্টিমিডিয়া ক্ল্সা চালুকরণ সহ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তুক প্রদান ও উপবৃত্তি প্রদান করে আসছেন বর্তমান সরকার। যা শিক্ষা ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
নারীর ক্ষমতায়ণঃ দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার আইনে সাধারণ আসনে নারীর প্রার্থী হওয়ার অধিকার অক্ষুণœ রেখে প্রতি ইউনিয়নে তিনটি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের বিধান রাখার মধ্য দিয়ে তৃণমূলে নারীর ক্ষমতায়নের সুযোগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক থেকে বলা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে নারীরা এ ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সফলতা লাভ করেছেন। ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে সরাসরি ভোটে মাত্র পাঁচজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ উপনেতা, স্পিকার প্রত্যেকেই নারী। জাতীয় সংসদে ২০ জন সরাসরি নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে ৫০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে বিচারপতি, সচিব, উপাচার্য, ডেপুটি গভনর, রাষ্ট্রদূত, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মানবাধিকার কমিশনসহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীরা কাজ করছেন।
ঘরে ঘরে বিদ্যুৎঃ ঘরে ঘরে বিদ্যুতে আলো জ্বালাটা শুধু এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষই বিদ্যুৎ পেয়ে গেছেন। আর ১০ ভাগ মানুষও পাবেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শুধু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নয়, বিদ্যুতের জন্য স্টেশন ,সাব স্টেশন, সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা প্রভৃতি কাজও তাঁর সরকার ব্যাপকভাবে করে যাচ্ছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঃ দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেন। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক এখন নারী ও শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসার আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। এই ক্লিনিকের অন্যতম সেবাই হচ্ছে নারী ও শিশুকেন্দ্রিক। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। বিশেষ সুত্রে জানা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য পরিচর্যা, শিশু রোগের সমন্বিত চিকিৎসা, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ, টিকাদান, যেকোনো রোগ বা জখমের চিকিৎসা, প্রসূতি, মারাত্মক অপুষ্টি, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্তদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিদের শনাক্ত ও রেফার্ড করা, জরুরি ও জটিল রোগী উচ্চতর পর্যায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা, শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য চিকিৎসা, প্রজনন ও নিরাপদ মাতৃত্বসেবা, পুষ্টি শিক্ষা, বয়স্কদের লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীঃ দেশের হতদরিদ্র মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিতে তাদেরকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারের এই উচ্চাভিলাষী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফলভোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ দাঁড়িয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সরকার বয়স্ক, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী, প্রতিবন্ধি দুস্থ ও দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারী, চা বাগানের শ্রমিক, হিজড়া, দলিত ও ভবঘুরে সম্প্রদায় এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
বিনিয়োগ বিকাশঃ এ কর্মসূচির মাধ্যেমে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিনিয়োগের প্রধান বাধাগুলো কি তা চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব বাধা দূর করে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ অকেটাই বাড়ছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিল্পনীতিও বিনিয়োগবান্ধব করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে বিদেশীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।
পরিবেশ সুরক্ষাঃ পরিবেশ সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক একটি কর্মসূচি। এ জন্যই সরকার ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ প্রনয়ন এবং পরে ২০১০ সালে এটি সংশোধন করে। পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বিধান ধারা ১২(১) মোতাবেক মহাপরিচালকের নিকট হতে পরিবেশ গত ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কোন এলাকায় কোন শিল্প প্রতিষ্টান স্থাপন বা প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। ধারা ১২(২) মোতাবেক এ আইন কার্যকর হবার অব্যাবহিত পূর্বে স্থাপিত শিল্প প্রতিষ্ঠান বা গৃহীত প্রল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ কার্যকরের পর অবিলম্বে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে জাতিসংঘ ঘোষিত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস, ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস, ৮ জুন বিশ্ব সমদ্রু দিবস, ২২ মে আন্তর্জাতিক জীব বৈচিত্র দিবস, ২৩ মার্চ বিশ্ব আবহাওয়া দিবস, ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস, বিশ্ব পর্বত দিবস এবং বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস সহ আটটি দিবস পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ব্রান্ডিং বিষয়ে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহনে তা বাস্তবায়নে উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

Related posts