September 25, 2018

প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টারঃ দ্রুত রফতানি বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতেই সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আরও ২৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যাবতীয় বিষয় তত্ত্বাবধান করছেন। প্রতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির খোঁজ রাখছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে এই ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ, মংলা, মিরসরাই, আনোয়ারা, ও শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে সূত্র জানায়।

এছাড়া, আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যে আরও কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানও নির্বাচন চূড়ান্ত করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলনীতি ২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০-এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল বিধিমালা ২০১৪ সংশোধন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে। এর ফলে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রায় ১ কোটি মানুষের। সরকারের এই উদ্যোগটি চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায়ও উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১০ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় তার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ) চীনের ওরিয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশে আরএমজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণের বিষয়ে একটি এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিজিএমইএ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জের বাওশিয়ায় ৪৯২ একর জমির ওপর নির্মিত হবে এই পার্ক। এতে বিনিয়োগ করা হবে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যেই এই শিল্প পার্ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানা গেছে, এই শিল্প পার্কটি অনুমোদিত ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি।

বাওশিয়ায় নির্মিতব্য বিজিএমইএ-এর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই শিল্প পার্কটি চালু হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প নতুন যুগে প্রবেশ করবে।এই শিল্পপার্ক থেকেই প্রতিবছর ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রফতানি সম্ভব হবে। এখানে কাজ করবেন আড়াই লাখ শ্রমিক। এটি হবে চীনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তৈরি পোশাক কারখানা ছাড়াও এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত শিল্পপার্কে ৫ তারকা হোটেল, শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, গাড়ি পার্কিংসহ শিল্প কারখানার জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মধ্যে যে ৩০টির জন্য স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। তার প্রতিটিই হবে মুন্সীগঞ্জের বাওশিয়ার আদলে অত্যাধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চল। প্রতিটি অর্থনৈতিক অঞ্চলেই গড়ে তোলা হবে বিভিন্ন শিল্পের জন্য পৃথক শিল্প অঞ্চল।

সরকার ইতোমধ্যেই যে ৩০টি এলাকায় ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন করেছে সেগুলো হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাগেরহাট জেলায় মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, আনোয়ারা (গহিরা) অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরের শ্রীপুরে জাপানিজ ইকনোমিক জোন, কক্সবাজারের সাবরং ট্যুরিজম এসইজেড, বরিশালের আগৈলঝড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল (২), ঢাকা আইটি এসইজেড কেরানীগঞ্জ, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়নগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ভোলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল, কুষ্টিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল, পঞ্চগড় অর্থনৈতিক অঞ্চল, নীলফামারী অর্থনৈতিক অঞ্চল, নরসিংদী অর্থনৈতিক অঞ্চল, মানিকগঞ্জ (আরিচা বিআইডব্লিইটিএর অব্যবহৃত জমিতে) অর্থনৈতিক অঞ্চল, ঢাকার দোহার অর্থনৈতিক অঞ্চল, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট অর্থনৈতিক অঞ্চল, শরিয়তপুরের জাজিরা অর্থনৈতিক অঞ্চল, শরিয়তপুরের গোসাইরহাট অর্থনৈতিক অঞ্চল, কক্সবাজারের টেকনাফের জালিয়ারদ্বীপ অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়নগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকনোমিক জোন, বাগেরহাটের মংলা ফমকম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, একে খান বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, আব্দুল মোনেম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ও মুন্সীগঞ্জের বাওশিয়ায় বিজিএমইএ-এর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, কৌশলগত কারণেই অনুমোদিত এই ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীন ও জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য ২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সংরক্ষিত আছে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্যও এ রকম একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে আরও ৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সব অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারের পক্ষ থেকে জমি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ, যোগাযোগ অবকাঠামো যোগানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts