November 16, 2018

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার জন্যই গ্রেনেড হামলা চালায় – এমপি বাবু

রফিকুল ইসলাম রফিক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আড়াইহাজারে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতের স্মরনে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল (২১ আগষ্ট) রবিবার বেলা ১১টায় এস এম মাজহারুল হক অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহম্মেদুল কবির উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত নজরুল ইসলাম বাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজালাল মিয়া, প্রধান বক্তা জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি কাজী বেনুজির আহমদ,খোরশেদ আলম, যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী মিয়া,সাবেক ভিপি মোজাম্মেল হক জুয়েল,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, আড়াইহাজার পৌর যুবলীগের সভাপতি সব্দর আলী ভুইয়া,গোপালদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আঃ লতিফ মোল্লা,উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন অর রশিদ সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম ভুইয়া।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্টের কালো রাত্রিতে স্বপরিবারে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি পাকিস্তানি দোসররা। তারা বার বার বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য হামলা চালিয়েছে। তারই সূত্রধরে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তারা শেখ হাসিনা হত্যার চেষ্টা চালায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। কিন্তু হামলায় ঝড়ে যায় বহু প্রাণ। সেদিনের সেই ভিবিষিকাময় ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

পরে ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের ও ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতের স্মরনে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জের আরও কিছু খবর…………………। 

নারায়ণগঞ্জ জেলার ত্রৈ-বার্ষিক কাউন্সিল

জেলা স্কাউটসের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ আনিছুর রহমান মিঞা বলেছেন, স্কাউটদের নিয়ে সমাজ ও জাতির উপকার হয় এমন দৃশ্যমান কর্ম সূচী গ্রহণ করতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ বিরুধী কমূ সূচী গ্রহনের মধ্যদিয়ে জনগনকে সচেতন করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা স্কাউটসের ঐতিহ্য দীর্ঘ দিনের নব-নির্বাচিত নির্বাহী কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা স্কাউটস কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে নব-নির্বাচিত কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন এ আমার প্রত্যাশা। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ স্কাউটস নারায়ণগঞ্জ জেলার ত্রৈ-বার্ষিক কাউন্সিল (সাধারন) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা স্কাউটস কমিশনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব শাহীন আরা বেগম ।শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আলী আকবর,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( রাজস্ব) এস এম নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সার্বিক) মোঃ গাউছুল আজম, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, আড়াই হাজার উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো কামাল হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দূছ ছামাদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দা মাহফুজা বেগম, ঢাকা অ লের আ লিক উপকমিশনার (বিধি ও গ্রোথ) এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম, আ লিক পরিচালক জনাব মোঃ সাইদুজ্জামান।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, জেলা স্কাউটস সম্পাদক জনাব ফজলুল হক ভূঁইয়া মন্টু। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চেীধুরী, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী হাবিব,সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু নাছের ভূইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা ইসলাম প্রমুখ সহ বিভিন্ন উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার সম্পাদক কাউন্সিলর বৃন্দ।

পদাধিকার বলে জেলা স্কাউটসের সভাপতি জনাব মোঃ আনিছুর রহমান মিঞা। ত্রৈ-বার্ষিক কাউন্সিল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জেলা স্কাউটস কমিশনার হিসাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)শাহীন আরা বেগম কে জেলা স্কাউটস কমিশনার ও নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের স্কাউট গ্রুপের গ্রুপ স্কাউট লিডার জনাব মোঃ ফজলুল হক ভূঁইয়া মন্টু কে সম্পাদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কাযৃনির্বাহী কমিটি গ্রঠন করা হয়। সহ-সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ গাউছুল আজম,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চেীধুরী, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুছ ছামাদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,সৈয়দা মাহফুজা বেগম, নারায়নগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল স্কাউট গ্রুপের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কাশেম জামাল,কোষাধক্ষ্য হাজীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ম্ঃ আলাউদ্দীন খান,যুগ্মসম্পাদক হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শেখ মোখলেছুর রহমান সেলিম, সভার শুরুতে ১৫ আগস্ট নিহত জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অনন্যা সদস্য ও ২১ আগস্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমান এর নিহত সহর্ধমনি সহ অনন্যা নিহতদের স্বরনে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জেলা স্কাউটস সম্পাদক জনাব মোঃ ফজলুল হক ভূঁইয়া মন্টু।

পরে ১৫ ও ২১ আগস্ট নিহত সকল শহীদদের স্বরনে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যক্ষ হালিম মজহার। জেলা স্কাউটস কমিশনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন আরা বেগম বলেন,প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দক্ষ স্কাউট দল গঠন করতে হবে, সকলের সহয়াতায় বিগত দিনের স্কাউট কার্য়ক্রম সফল ভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।সহায়তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। ঢাকা অ লের আ লিক উপকমিশনার (বিধি ও গ্রোথ) এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জের স্কাউটিং আন্দোলন বিগত দিনের চেয়ে অধিকতর বৃদ্ধি পেয়েছে। এ আন্দোলকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নতুন নির্বাহী কমিটি নিরলস ভাবে কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এসময় কাউন্সিল সভায় সকল কাউন্সিলার বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপগঞ্জে গৃহবধূ নির্যাতনের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে পৃথক স্থানে স্বামীসহ শশুরবাড়ীর লোকজন সাদিয়া আক্তার (২৩) ও মাসুদা বেগম (৩৭) নামে দুই গৃহবধুর উপর শারিরিক নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার আড়িয়াব ও রোববার সকালে মাঝিনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ সাদিয়া আক্তার গোলাকান্দাইল দক্ষিনপাড়া খালপাড় এলাকার বজলুল শেখের মেয়ে। মাসুদা বেগমের জেলার আড়াইহাজার উপজেলার দয়াকান্দা এলাকার মৃত মতি মোল্লার মেয়ে।

গৃহবধূর মা আলেয়া বেগম জানান, পাঁচ বছর আগে সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে আড়িয়াব এলাকার জসিম উদ্দিন ভুইয়ার ছেলে আসাদ ভুইয়ার ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা ও স্বর্নালংকারসহ দেড় লক্ষ টাকার মালামাল প্রদান করা হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে তাসফিয়া নামে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় । বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শাশুরী আয়শা বেগম গৃহবধূকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে জালা যন্ত্রনাসহ শারিরিক নির্যাতন করতো। রোববার সকালে স্বামীসহ শশুরবাড়ির লোকজন গৃহবধূ সাদিয়া আক্তারের উপর মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন করে তিন বছরের কন্যা সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে স্থানীয় কমিশনার বিচার শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে। নির্যাতনকারীরা স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন বিচার শালিস না মেনে চলে যায়। এ ঘটনায় গৃহবধূর মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অপর গৃহবধু মাসুদা বেগম জানান, ১৫ বছর আগে মাঝিনা এলাকার মৃত ইসহাক মৃধার ছেলে দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে মাসুদা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে জন্নাতুল ফেরদাউস ও নুসরাত জাহান নিশাতি নামে দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই মাসুদ বেগম জানতে পারে দেলোয়ার হোসেন তাকে না জানিয়ে শিউলী বেগমকে দিত্বীয় বিয়ে করে। দেলোয়ার হোসেন বেশ কিছুদিন ধরেই সংসারের কোন খরচ দেয় না। রোববার সকালে স্বামী দেলোয়ার হোসেন, স্বতীন শিউলী বেগম, রহম আলী, আমেনা বেগম, সোহেল মিলে গৃহবধু মাসুদা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে তাকে শারিরিক নির্যাতন চালায়। এছাড়া যদি আর কখনো স্ত্রীর অধিকার দাবি করলে মাসুদা বেগমকে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে পৃথক ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, পৃথক ঘটনায় তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেয় হবে।

রূপগঞ্জে মদসহ সাগর গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে বিদেশী মদসহ সাগর (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২১) দুপুরে উপজেলার শিংলাবো এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাগর ওই এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম জানান, যুবক সাগর শিংলাবোসহ আশ-পাশের এলাকায় বিদেশী মদ বিক্রি করে আসছে বলে পুলিশের কাছে সংবাদ ছিলো। দুপুরে শিংলাবো এলাকার বাড়ি থেকে পাঁচ বোতল বিদেশী মদসহ সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। এ ব্যপারে রূপগঞ্জ থানায় মাদক দ্রব্যে নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আসামীকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রূপগঞ্জে স্বামী স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকেরা স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকালে উপজেলার তারাব পৌরসভার কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার নবী হোসেন ও জাহাঙ্গীরদের সাথে তাদের বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। রোববার সকালে ঐ বিরোধের জের ধরে নবী হোসেন ও জাহাঙ্গীরসহ তার লোকজন শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ শুরু করে। শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফরিদা বেগম এর প্রতিবাদ করেন। এসময় শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফরিদা বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এািগয়ে আসলে নবী হোসেন ও জাহাঙ্গীরসহ তাদের লোকজন প্রান নাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আনোয়ার প্রার্থী হলে বিএনপি হবে লাভবান!

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে চারিদিক চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। ইতিমধ্যেই মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য এমপি শামীম ওসমান সহ জেলা ও মহানগরের আ’লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। তারা যে কোন কিছুর বিনিময়ে আনোয়ার হোসেনকে আ’লীগের মনোনয়ন করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। কিছুদিন পূর্বে আওয়ামীলীগ থেকে আনোয়ার হোসেনকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামীলীগের এক সহযোগী অঙ্গসংগঠন । অপরদিকে একই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি। সিটি করপোরেশনের প্রথম মহিলা মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে জন জরিপে এগিয়ে থাকলেও তিনি যাতে কিছুতেই আওয়ামীলীগের মননয়ন না পান, সে বিষয়েও কাজ করছে আওয়ামীলীগের একাংশ।

গত নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে নির্বাচনের আগমূহুর্ত্বে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। ফলে বিএনপির ভোটগুলো পেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে পরাজিত করে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি বিজয়ী হয়েছিলো। এমনটাই দাবী করেছিলো তখনকার পরাজিত প্রার্থী শামীম ওসমান।

গত নির্বাচনে কোরাবানীর গরুর মত কোরবানী হওয়া তৈমূর আলম খন্দকার এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন না বলে আগে থেকেই ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি আর আগের মত ভুল করবেনা। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে বিএনপি, এমনটাই জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। তাই বিএনপির ভোটগুলো এবার বিএনপির ব্যালটেই থাকছে।

এদিকে আওয়ামীলীগ থেকে যদি আনোয়ার হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং বর্তমান মেয়র যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন তাহলে সবচেয়ে বিএনপির প্রার্থীই লাভবান হবেন বলে ধারনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বিশ্লেষকদের মতে, নাসিক নির্বাচনে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি নির্বাচনে অংশগ্রহন করলে আওয়ামীলীগের ভোট দু’ভাগে বিভক্ত হবে। যদি নির্বাচনে কোন কারচুপি বা ভোট জালিয়াতির মত ঘটনা না ঘটে তবে, এর এক ভাগ আনোয়ার ও আরেক ভাগ আইভি হতে পারে। কিন্তু এতে বিএনপির ভোট কোন ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং এবারের নাসিক নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। বিশ্লেষনরা আরো বলেন, আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধার করা যদি যোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থীতা দিতে ভুল করে তাহলে নাসিক নির্বাচনে আ্ওয়ামীলীগ একুলও হারাবে ঐকুলও হারাবে। তাদের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকবে আর এ সুযোগে বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরবে বিএনপি।

বাবুরাইলে ৫ খুনঃ সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণ পেছালো

আদালতে আসামী এসে দাঁড়িয়ে থাকলেও সাক্ষী না আসায় নির্ধারিত দিনে শহরের বাবুরাইলের নৃশংস ৫ খুন মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। আর মামলার আলামত চেয়েও পায়নি বাদী।
রবিবার (২১ আগষ্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে ৫ খুন মামলায় একজনের সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত দিন ছিল। সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতে মামলার একমাত্র আসামী ভাগ্নে মাহফুজকে আনা হলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত সাক্ষী না আসায় এদিন আর সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এড. ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, রবিবার ৫ খুন মামলায় একজনের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সাক্ষী না আসায় এদিন সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে আসামীকে দুপুরে কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত। তবে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়নি। এছাড়া মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম এদিন মামলার আলামত নেয়ার জন্য আদালতে আসলেও প্রতিবেদন না পাওয়ায় তাকে দেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী শহরের বাবুরাইল এলাকার আশেক আলী ভিলার নীচ তলায় মামা শফিকের বাসায় অবস্থান করে নির্বিঘে মামী তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে স্কুলছাত্র শান্ত (১০) ও মেয়ে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া (৬), তাসলিমার ভাই মোরশেদুল (২২) ও তাসলিমার জাঁ লামিয়াকে (২০) শ্বাসরোধ ও শিল পোঁতা দিয়ে আঘাত করে একাই হত্যা করে ভাগ্নে মাহফুজ। এঘটনায় তখন শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২১ জানুয়ারী আদালতে মাহফুজ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

অল্পের জন্য রক্ষা শতাধিক যাত্রীর

অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর গামী প্রায় শতাধিক রেল যাত্রী। প্ল্যাটফর্মের সন্নিকটে পৌঁছেও ট্রেনের গতি কমানোর পরিবর্তে অসাবধানতাবশত বেড়ে যাওয়ায় ট্রেনের বগি প্ল্যাটফর্মের উপড়ে উঠে যায়। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রবিবার (২১ আগস্ট) সকাল ১১টায় কমলাপুর রেলস্টেশনের নারায়ণগঞ্জ প্ল্যাটফর্মে (২১৭) নাম্বার লোকাল ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কমালাপুর রেলস্টেশন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে (২১৭) নম্বর লোকাল ট্রেনটি কমলাপুর রেলস্টেশনে আসে। নারায়ণগঞ্জ প্ল্যাটফর্মের কাছে এসে হঠাৎ গতি বেড়ে গেলে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে উঠে যায়। তবে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। এ সময় অল্পের জন্য রক্ষা পান শতাধিক যাত্রী।

জেলায় শুরু হচ্ছে ই-মোবাইল কোর্ট

পাইলটিং হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় শুরু হচ্ছে ই-মোবাইল কোর্ট। এলক্ষ্যে রবিবার (২১ আগষ্ট) দুপুরে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো: আনিছুর রহমান মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন আরা, (সার্বিক) মো: গাউছুল আজম, (রাজস্ব) এস এম নজরুল ইসলাম, সদর এসিল্যান্ড মাসুম আলী বেগ, ফতুল্লা এসিল্যান্ড নাহিদা বারিকসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ।

এসময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে ই-মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়।

স্বস্তির ভাদ্রের বৃষ্টিতে নগরীতে ভোগান্তি

বৃষ্টি তুমি আরো কিছুক্ষন থাকনা আমার পাশে, শরীর মন জুড়িয়ে নেই একটু এক নি:শ্বাসে। খরতাপের দিনগুলোয় বৃষ্টি তুমি আসবে বলে, অপেক্ষার প্রহর গুনি। অপেক্ষার ক্ষন ফুরিয়ে অবশেষে বৃষ্টি তুমি এলে ।

বেশ কয়েকদিন ধরেই তীব্র রোদের তাপ ভোগাচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। হঠাৎ বৃষ্টির আশীর্বাদ একদিকে স্বস্তির আভাস দিয়ে গেলেও গণপরিবহনের স্বল্পতার ভোগান্তিতে ব্যস্ত নগরবাসীকে পড়তেই হয়েছে। ভাদ্রের বৃষ্টিতে এ যেন স্বস্তির উল্টো পিঠে ভোগান্তি! এছাড়া থেমে থেমে দিনভর বৃষ্টি হওয়ার কারনে নগরীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় নগরবাসীর ভোগান্তির মাত্রা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

রবিবার (২১ আগষ্ট) সকাল থেকেই শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাত হয়েছে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত আকাশ মেঘলা ছিল। সকাল থেকে বৃষ্টির কারনে অনেক গণপরিবহনই ব্যস্ততম পথে একটু সময় নিয়ে বেড় হয়েছে। আর এতেই ভোগান্তিতে নাকাল ব্যস্ত মানুষগুলো। পরিবহণ স্বল্পতায় অনেকেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে হেঁটেই গন্তব্যে রওনা দেন।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘুরে নগরবাসী যাত্রীদের মধ্যে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বৃষ্টিকে আশির্বাদ হিসেবে গ্রহণ করে ভোগান্তিকে ক্ষীণকরেই দেখেছেন। তবে কর্মজীবী মানুষ গুলোর কাছে একটু স্বস্তি যেন অতৃপ্ত পাওয়ার মতই। নগরীর সকল ভোগান্তি থেকেই স্থায়ী মুক্তি চান এই শহরের মানুষ।

না’গঞ্জের ৪ চেয়ারম্যানের আ’লীগ প্রীতি

নারায়ণগঞ্জের চারজন জনপ্রতিনিধি, তাঁরা সকলেই চেয়ারম্যান। দুইজন উপজেলা ও দুইজন ইউনিয়ন পরিষদের। বিএনপির এ চারজন চেয়ারম্যান এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রেখে চলেছেন। কেউ কেউ হাতে নৌকা নিয়ে ফটোসেশন করছেন। কেউবা করছেন এমপিকে তোষণ। আওয়ামী লীগের এমপিরা উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে এক মে আসার উদাত্ত আহবান জানালেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের লোক হয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এভাবে ‘প্রীতি’ রাখাটা ভালো লক্ষণ না।

আলমগীর হোসেন টিটু
আলোচিত চারজন চেয়ারম্যান হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু, ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ও বন্দরের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল।

সবশেষ ২০ আগস্ট শনিবার রাতে আলমগীর হোসেন টিটু বিএনপি ছেড়ে রূপগঞ্জ আসনের এমপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে ফুল দিয়ে ছেড়ে দেন বিএনপিকে যে দলের স্থানীয় নেতৃত্বে রয়েছেন কাজী মনিরুজ্জামান। জেলা বিএনপির সেক্রেটারী পদেও থাকা কাজী মনিরুজ্জামান ও আইনজীবী পেশা নিয়েও ছাত্রদলের রাজনীতি করা আমিরুল ইসলামের একনিষ্ট কর্মী ছিলেন আলমগীর হোসেন টিটু যাঁকে গত ২৩ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয়ের পর ‘গর্ব’ করার মত নেতা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তবে গর্বিত সেই নেতাই শনিবার রাতে এমপি গোলাম দস্তগীর গাজির হাতে ফুল দিয়ে রীতিমত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন কারণ কয়েকদিন আগেও কাজী মনিরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে এসেছিলেন অন্তত ৩শ নেতা। কিন্তু আলমগীর আদৌ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন নাকি শুধু ফুল দিয়েছেন সেটা এখনও ধোয়াশার মধ্যে আছেন।

আতাউর রহমান মুকুল
আতাউর রহমান মুকুল বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বিএনপি নেতা। বিএনপির সমর্থন পেয়ে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বন্দরে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোটের আগে ও পরে তাঁকে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গভীর সখ্যতা করতে। বিজয় দিবসের র‌্যালীতে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানও ধরেছিলেন তিনি। বিএনপির চেয়ে বেশী প্রীতি আওয়ামী লীগের। স্থানীয় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান তো বটেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের পেছনেও ভৌ দৌড় দিতে দেখা গেছে এ নেতাকে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে যখন ‘কুকুর’ গালি দেওয়া হয় তখন জেলা পরিষদের মিলনায়তনে এ নেতাকে মুচকি হাসি দিয়েই সেই অশ্লীল গালি হজম করে আওয়ামী লীগকে তুষ্ট করতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক জনপ্রিয় এমপি আবুল কালামের একান্ত ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত আতাউর রহমান মুকুলকে এবার দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা ধরতে। ১৯ আগস্ট সকাল ১১টায় বন্দর উপজেলাধীন ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে যখন চেয়ারম্যানদের হাতে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা তুলে ফটোসেশন করা হয় তখন স্ব চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে সেই নৌকায় হাত রেখে বেশ খুশী ও প্রাণবন্ত সঙ্গে মুখে হাসি ফুটেছিল মুকুলের যিনি ওয়ান এলেভেনের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার সামনে থেকে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

এর আগে অনেক বিএনপির অনেক অনুষ্ঠান বয়কট করে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে খোশমেজাজে দেখা মিলে মুকুলের। ওইসব নিউজ সম্পর্কে অবশ্য পরে কিছুটা সমালোচনাও করেন এমপিরা। তাঁরা বলেন, গোল চিহ্ন দিয়ে এভাবে জনপ্রতিনিধিদের হেয় করা হলে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্থ হবে।

এদিকে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে মুকুলকে মধ্যস্থকারী হিসেবে রেখে তার নেতা সাবেক এমপি আবুল কালামকে দেওয়া হচ্ছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে লড়ার প্রস্তাব।

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন প্রধান আলোচক যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশীদ। তিনি যখন বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করে কঠোর বিষোদগার করছিলেন তখনও সেটা হজম করে নেন অনেক নেতাকর্মীদের কাছে কথিত বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল।

মনিরুল আলম সেন্টু
গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সদর উপজেলার যে ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে সবার দৃষ্টি ছিল কুতুবপুরের দিকে। কারণ এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু যিনি বছরখানেক আগে স্থানীয় এমপি শামীম ওসমানকে ‘পীর’ হিসেবেই আখ্যায়িত করে বক্তব্য রাখেন। শেষতক সেন্টু বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে। তবে এ জয় নিয়েও উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন। বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে ভেতরের অনেক খবর। স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপি সহসাই সেন্টুকে দলে ফেরাতে ব্যর্থ হলে টানা তিনবারের নির্বাচিত এ চেয়ারম্যানকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে পারে। ভোটের দিন কুতুবপুরের অনেক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেলপাড়ার একটি কেন্দ্রে বুকে নৌকার প্রতীকের কাগজ সাটিয়ে সেন্টুর আনারসের প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, দলের একজন মন্ত্রীর সঙ্গে মনিরুল আলম সেন্টুর ঘনিষ্টতা ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক বছর আগে যখন সেন্টুকে ডিবি গ্রেপ্তার করে তখন ওই মন্ত্রীই বিষয়টি দেখভাল করেছিলেন যদিও তখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। ছিলেন একজন এমপি।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের একজন যুবলীগ নেতার সঙ্গেও ‘বন্ধুত্ব’ সম্পর্ক রয়েছে সেন্টুর সঙ্গে। ওই নেতা সহ আরো কয়েকজনের কারণেই শামীম ওসমানের সঙ্গে সু সম্পর্ক গড়ে তোলার কাজটি শুরু করে। এ কারণেই গত বছরের ২ জুন যখন কুতুবপুরে সমাবেশে শামীম ওসমান উপস্থিত হন তখন বক্তব্যে তাঁকে ‘পীর’ সাহেব আখ্যায়িত করেন সেন্টু। সে বক্তব্যের পরেই ছড়াতে থাকে নানা গুঞ্জন।

এদিকে সেন্টুকে দল থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সেন্টুকে বিএনপি দল থেকেও বহিস্কার করে।

আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সেক্রেটারী। তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের যেমন ঘনিষ্টজন তেমনি ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমেরও আত্মীয় সঙ্গে আস্থাভাজন। আলোচিত এ নেতা বিএনপির অনুষ্ঠানে যতটাই নীরব ততটাই সরব আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমানের পদলেহনে।

গত ১ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা কমিটির সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে এর আগেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। আওয়ামী লীগ ঘেঁষা ওই বিএনপি নেতা শ্রমিক দিবসে মিছিল নিয়ে ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে বাধা দেয় নেতকর্মীরা। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের একের পর এক তোপের কারণে শেষতক মিছিল ও র‌্যালী থেকে সরে যেতে বাধ্য হন আজাদ বিশ্বাস। এ নিয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের এক অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে যখন ‘কুকুর’ গালি দেওয়া হয় তখন জেলা পরিষদের মিলনায়তনে এ নেতাকে মুচকি হাসি দিয়েই সেই অশ্লীল গালি হজম করে আওয়ামী লীগকে তুষ্ট করতে দেখা গেছে।

না’গঞ্জে পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেট!

নারায়ণগঞ্জে আসন্ন ঈদ উল আজহা উপলক্ষ্যে সিটি করপোরেশেন সহ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নিয়ন্ত্রন নিয়ে এবার সিন্ডিকেট তৈরি করেছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। এ সিন্ডিকেট নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম টাকায় হাট নেওয়ার জন্য ছক কষা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করে কে কোন হাটের বিপরীতে টেন্ডার ড্রপ করবে তার পুরো বিষয়গুলো পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ১৪টি পশুর হাটের ইজারা আহবান করেছে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এ টেন্ডার তথা ইজারা আহবান করা হয়। ওই ১৪টি হাট হলো ১০ নং ওয়ার্ডে লক্ষ্মী নারায়ণ মিল সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশনের খালি জায়গা, ২৫ নং ওয়ার্ডে উত্তর লক্ষন খোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাট, ২৫ নং ওয়ার্ডে চৌরাপাড়া অস্থায়ী পশুর হাট, ২০ নং ওয়ার্ডে সোনাকান্দা অস্থায়ী পশুর হাট, ২১ নং ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন রূপালী আবাসিক এলাকার খালি জায়গা, ২২ নং ওয়ার্ডে বন্দর ১ নং খেয়াঘাটের উত্তর পাশে শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন খালি জায়গা, ২৩ নং ওয়ার্ডে জামাল সোপ খেয়াঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা অস্থায়ী পশুর হাট, ২৪ নং ওয়ার্ডে নবীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে অস্থায়ী পশুর হাট, ৫ নং ওয়ার্ডে রাখি টেক্সটাইল মিলের পাশে আব্দুর রব সাহেবের খালি মাঠ, ৬ নং ওয়ার্ডে সফরআলী ভূইয়ার বালুর মাঠ, ৭ নং ওয়ার্ডে গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলস্ খালি মাঠ, ৮ নং ওয়ার্ডে গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলস্ খালি মাঠ, ৯ নং ওয়ার্ডে জালকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ, ১৮ নং ওয়ার্ডে সৈয়দপুর শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন কোল্ড স্টোরেজের পাশে মোঃ নাজির ফকির এর খালি জায়গা।

এবার শহরের খানপুর বরফকল মাঠের ইজারা আহবান করেনি সিটি করপোরেশন। গতবার এটা নিয়ে অনেক ঝামেলার পর বিনা অনুমতিতেই সেখানে হাট বসানো হয়। ফলে এটার মোটা অংকের একটি রাজস্ব থেকে বি ত হয় সিটি করপোরেশন।

বিগত দিনে পশুর হাটের ইজারা নেওয়া নাম প্রকাশে একজন জানান, এবার সবগুলো হাট নিয়েই ইতোমধ্যে শলাপরামর্শ করা হয়েছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ দলের প্রভাবশালী নেতাদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট করা হয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের বাইরে কেউ যেন সিডিউল কিনলেও পরামর্শ ছাড়া জমা না দেয় সেটাও বলা হয়েছে। টার্গেট করা হয়েছে যে কোন মূল্যে বার বার কমমূল্যে সিডিউল জমা দিয়ে যাতে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দেওয়া হবে।
এখানে উল্লেখ্য গত বছর শহরের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট ‘বরফকল হাট’ এবার সিন্ডিকেটের কবলে চলে যায়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে দুইগণ কম মূল্য দিয়ে হাট ইজারা নেওয়ার জন্য দরপত্র জমা দিলেও সিটি করপোরেশন সেগুলো বাতিল করে দেওয়ায় পুরো হাটের নিয়ন্ত্রন চলে যায় ওই সিন্ডিকেটের কবলে। ২০১৫ সালে ৩২লাখ টাকার রাজস্ব আয় ধরে রাখতে শেষতক সিটি করপোরেশন ‘খাস কালেকশন’ করার ভেতরগত উদ্যোগ নিলেও সিন্ডিকেটটি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের কব্জায় থাকায় অহেতুক ঝামেলা এড়াতে বাতিল করা হয়।

এদিকে ‘নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে কোন অবস্থায় গরুর হাট বসানো যাবে না’ উচ্চ আদালতের দেওয়া এমন নিদের্শনা থাকলেও সেসব এলাকাতেই অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য দরপত্র (টেন্ডার) আহবান করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)।
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান হাবিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১৪টি স্পটে অস্থায়ী পশুর হাটের আহবান করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩টি স্পট উচ্চ আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী পারে রয়েছে। সেগুলো হলো ২০নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা অস্থায়ী পশুর হাট, ২১ নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন রূপালী আবাসিক এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ এর খালি জায়গা ২২ নং ওয়ার্ডের বন্দর ১নং খেয়াঘাটের উত্তর পাশে শীতলক্ষ্যা নদী সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ এর খালি জমি।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় পাড়ে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নদীর পাড়ের ৩টি স্পটে অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য দরপত্র আহবান করেছে। যা সম্পূর্ন অবৈধ এবং আদালতের নির্দেশ অবমাননা স্বরূপ।

সেই জজ মিয়া এখন কদমতলী

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আলোচিত চরিত্র জজ মিয়া। যাকে নিয়ে সিআইডির তিন কর্মকর্তা সাজিয়ে ছিলেন ‘জজ মিয়া নাটক’। হতদরিদ্র জজ মিয়া একুশে আগস্ট মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর ভিটেমাটি ছাড়া হন। গ্রামের জমিজিরাত বিক্রি করে এখন ভাড়া থাকতো নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায়। গত কয়েক মাস আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে কদমতলী এলাকাতে চলে গেছেন।

এর আগে গণমাধ্যমে জজ মিয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বারবার অনুরোধ করছি, আমার দিকে একটু তাকানোর জন্য। আমার কোনো ঠিকানা নেই। আমি কি এই দেশের নাগরিক না? আমিতো তার জন্যই মামলা খাইছি। প্রধানমন্ত্রী কত মানুষের দিকে তাকায় কিন্তু আমার দিকে একটু তাকায় না। আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও অনুরোধ করি আমার দিকে একটু তাকানোর জন্য।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য কল্পিত নাটক সাজায় সিআইডি। ২০০৫ সালের ৯ জুন নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় জজ মিয়াকে। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বানিয়ে সিআইডি ওই সময়কার তিন কর্মকর্তা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে জজ মিয়ার কাছ থেকে। বিনিময়ে তার মাকে প্রতিমাসে সংসার খরচের জন্য দুই হাজার টাকা করে দিত বলেও অভিযোগ করেন তার মা। সেই নাটকের নেপথ্য কারিগর ছিলেন সিআইডির ওই সময়কার বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিক ও আবদুর রশীদ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ফাঁস হয় আসল ঘটনা। ২০০৯ সালের ২৬ জুলাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে জেল থেকে ছাড়া পান জজ মিয়া। বিনা অপরাধে তার জীবন থেকে হারিয়ে যায় চারটি বছর।

জজ মিয়া গ্রেফতারের পর সংসারে নেমে আসে চরম অর্থকষ্ট। অর্ধাহার-অনাহারে জীবন কাটে তার বৃদ্ধা মা, এক বোন ও অপর তিন ভাইয়ের। মা জোবেদা খাতুন গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি বলেন, ছেলের এই অবস্থায় আমার সংসার ছারখার হয়ে গেছে। আজও সেই ক্ষতি পূরণ হয় নাই।

হামলার দিন কোথায় ছিলেন, কি করতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময় আমি গাড়ি চালাতাম না। আমি শাপলা চত্বর এলাকায় ফলের ব্যবসা করতাম। মাঝে মাঝে স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় পোস্টার বিক্রি করতাম। ২-৩ মাস পর পর বাড়িতে যেতাম। ঘটনার ৭-৮ মাস পর আমারে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমারে গ্রামের চৌকিদার অ্যারেস্ট করছে। চৌকিদার আমাদের বাড়িতে এসে বলেন, তোমার নামে থানায় মামলা আছে। থানা থেকে কবির দারোগা আসতেছে। তুমি এখানে বস। এরপর সেনবাগ থানার কবির দারোগা এসে আমাকে হ্যান্ডকাপ লাগায়। আমার এলাকার জামাল মেম্বার তাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে? কিন্তু দারোগা কোনো জবাব দেয়নি। থানায় নেয়ার পর কবির দারোগা বলে, তোমার নামে এখানে কোনো মামলা নাই। ঢাকা থেকে এসপি রশিদ (সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ) আসতেছেন। ঢাকায় তোমার নামে বড় মামলা আছে।

জজ মিয়া বলেন, রাতে এসপি রশিদ থানায় গিয়ে বলে কই জজ মিয়া কই। লকাপের ভেতর থেকে আমাকে বের করে আনা হয়। একটা নতুন গামছা কিনে এনে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। থানার সব স্টাফ বের করে দিয়ে আমারে কয়েক জন লোককে দেখিয়ে বলে এদের তুই চিনস। আমি বলি না চিনি না। তখন এসপি রশিদ বলে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা কইরা পালাইয়া আছস। আমি বলি ওইদিন আমি ঘটনার সময় বাড়িতে বাবুলের চা দোকানে ছিলাম। টেলিভিশনে দেখে এলাকার লোকজনের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করছি। সেখানে শিক্ষক, গ্রামের মুরুব্বিরা সবাই ছিলেন। আপনারা তাদের জিজ্ঞাসা করেন। রশিদ সাব আমাকে বলে, আমরা যা বলি তাই হবে। পরে পুলিশ আমারে ব্যাপক মারধর করে। একপর্যায়ে বলে যে, আমাদের কথা না শুনলে তোরে ক্রসফায়ারে দিব। আর কথা শুনলে তোরে বাঁচাইয়া রাখব। মাইরের চোটে আমার হাতের হাড্ডি ভেঙে যায়। এরপর তারা আমারে সেনবাগ থানা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে। এরপর ক্রসফায়ারে মারার ভয় দেখিয়ে তারা যা শিখিয়ে দেয় সেগুলো কোর্টে বলতে বলে।

এদিকে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জজ মিয়া নাটকের রূপকার সিআইডির সাবেক ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে। তারা বর্তমানে জামিনে আছেন এবং আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।

জজ মিয়া উপাখ্যান: ঘটনার ১০ মাসের মাথায় ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীরকোট গ্রামের বাড়ি থেকে জজ মিয়াকে আটক করে সিআইডি। গ্রেফতারের পর ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে জজ মিয়ার কাছ থেকে সিআইডি সাজানো জবানবন্দি নেয়।

এই জজ মিয়াকে দিয়েই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে তদন্তের নামে ‘আষাঢ়ে গল্প’ ফাদেন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি আবদুর রশিদ ও তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন। সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনিও এই সাজানো ছকে কথিত তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ গল্প সাজানোর ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন বলে পরবর্তীকালে তদন্তে জানা যায়।

আদালতে দেয়া সেই সাজানো জবানবন্দিতে জজ মিয়া বলেছিলেন, ‘তিনি আগে কখনো গ্রেনেড দেখেননি। গ্রেনেড ও বোমার মধ্যে পার্থক্য তিনি জানেন না। পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে তিনি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন। আর বড় ভাইয়েরা হচ্ছেন সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোলা মাসুদ ও মুকুল।’ এ সাজানো গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটা। উল্লিখিত সন্ত্রাসীদের বেশির ভাগ চারদলীয় জোট সরকারের সময় ভারতে পালিয়ে যায়।
এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৬ সালের আগস্টে এ নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। তিনি বলেন, জজ মিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকেই সিআইডি তার পরিবারকে মাসে মাসে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছিল। জজ মিয়াকে গ্রেনেড হামলা মামলায় রাজসাক্ষী করতে সিআইডির প্রস্তাবের কথাও ফাঁস করে দেন তিনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিষয়টি পুনঃতদন্ত করলে প্রকৃত কাহিনী বেড়িয়ে আসে।

জনপ্রতিনিধিদের সমস্যা খুজে উন্নয়ন করতে হবে – এমপি খোকা

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁবাসীর দুর্ভোগ ও সমস্যা জানাবে স্থানীয় মেম্বাররা। সেসব সমস্যা সমাধানে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। শুধু উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান করলেই চলবে না একই সঙ্গে সমাজ পরিবর্তনে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিমূর্লে কাজ করার জন্য মেম্বারদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

রোববার (২১ আগস্ট) সকালে সাদিপুর ইউনিয়নে নব নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় নব নির্বাচিত সাদিপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানরা এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘জনগণ নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। সোনারগাঁয়ের প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে বেড়াতে হবে। দেখতে কোথায় কোন এলাকায় মানুষ কষ্টে আছে। কোন রাস্তা ঠিক করতে হবে। কোথায় কি প্রয়োজন। এসব কিছু আপনার খুঁজে বের করে আমাকে জানাবেন আমি এসব সমস্যা সমাধান করবো। শুধু তাই নয় মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাদিপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হেনা আক্তার, মেম্বার মো. নূরুজ্জামান, মো. হেকিম উদ্দিন, মো. রফিক, মো. আশরাফ আলী, রাশিদা আক্তার, মো. মহসিন, মো. আবু হারেছ মাস্টার, সাবেক মেম্বার মাঈনুদ্দিন।

না’গঞ্জে ১২ গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা

পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বে নারায়ণগঞ্জে ১২টি গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। এসকল গার্মেন্টের মধ্যে ৫টি রূপগঞ্জে, ৩টি সিদ্ধিরগঞ্জে, ২টি ফতুল্লায় ও ২ টি সোনারগাঁয়ে অবস্থিত। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ আ লিক ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটি-১,২ ও ৩ এর সমন্বিত সভায় এই ১২টি গার্মেন্টের তালিকা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান সমূহের উপ মহা পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
সভায় আসাদুজ্জামান জানান, রূপগঞ্জের বরপা এলাকার বেনেটেকস ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, অন্তিম নিটিং ডাইং এন্ড ফিনিশিং লিমিটেড, লিতুন ফেব্রিক্স, তারাবো হাটিপাড়া এলাকার ক্লাক্সটোন এপারেলস লিমিটেড, তারাব এলাকার ফেভারিট নিটওয়্যার, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বিসিক শিল্পনগরীর সাম্পান সুজ, রাইসা ফ্যাশন, ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকার ডিজাইন অ্যাটায়ার্স, কুতুবাইলের সাকুরা ডাইং এন্ড গার্মেন্টস, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির জুপিটার ফ্যাশন, পাঠানটুলীর বেবিলন নীট কম্পোজিট।

উল্লেখ্য গত ঈদুল ফিতরের পূর্বে ২১টি গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান সমূহের উপ মহা পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে গেল রোজার ঈদের আগে অনুষ্ঠিত ক্রাইসি প্রতিরোধ কমিটির সভাতে শিল্পপুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল শতাধিক গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের আশা রয়েছে। তবে ঈদুল ফিতরের পূর্বে দু’একটি গার্মেন্ট ছাড়া বাকীগুলোতে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়েছিল।

রূপগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুই দিনে বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের কামড়ে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছে। এদিকে পাগলা কুকুরের ভয়ে ছেলে মেয়েদের স্কুলের যাওয়া নিয়ে তাদের অভিবভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শনিবার থেকে রোববার পর্যন্ত উপজেলার কা ন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার কা ন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। শনিবার দুপুর থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার কা ন পৌরসভার কালাদী, কা ন খাঁপাড়া, জেলে পাড়া, দাস পাড়া, জামাইপাড়া, বেপারীপাড়া এলাকার মোঃ বাবু মিয়া(২১), কুলসুম আক্তার(১২), রুমান মিয়া(০৫), হাবিবুর রহমান (৫৩), সঞ্জিবন চন্দ্র দাস (৩৯), মজিবুর রহমান (৫০), রাফি আক্তার (৫), বৃষ্টি বেগম (২৪), রাজেশ চন্দ্র দাস (৯), রাজিব মিয়া (১২), নিলুফা আক্তার(১৪)সহ কমপক্ষে ১৮জন পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু রাফি আক্তারের অবস্থা আশংখা জনক বলে জানা গেছে।

এদিকে বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরে কামড়ানোর ভয়ে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।

কা ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, পাগলা কুকুরে কামড়ের ভয়ে এ বিদ্যালয়ের অনেক ছেলে মেয়েদের তাদের অভিভাবক বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক অভিভাবক ফোন করে আমাকে জানিয়েছে, কুকুরের কামড়ের ভয়ে তারা আপাতত তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারবেনা।

কা ন পৌর মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা বলেন, আমরা এক বছর আগে আমাদের এ পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুর নিধনের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু একটি মানবাধিকার সংস্থা আমাদের বিরুদ্ধে উপজেলায় কুকুর নিধন বন্ধের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ করে। তাই আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা আপাতত কুকুর নিধন করতে পারছিনা।

বন্দরে দীর্ঘ হচ্ছে নিখোঁজের তালিকা!

বন্দরে নিখোঁজের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হতে চলেছে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। কেউ কেউ পরকীয়া প্রেমের টানে কিংবা ঋন পরিশোধের ভয়ে গৃহছাড়া হয়ে নিখোঁজ থাকলেও কেউ কেউ বা সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ-কিডন্যাপার অথবা কারো আক্রোশের শিকার হয়ে গুমও হয়ে যায়।

সম্প্রতি চান মিয়া(৪৫) নামে এক অটোচালক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যবয়সী এ অটোচালকের নিখোঁজ হওয়ার ১৭দিন অতিবাহিত হতে চললেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে চরম শংঙ্কা বিরাজ করছে। স্বামী’র সন্ধান পেতে স্ত্রী মোসাম্মৎ নাহার বেগম বাদী হয়ে নিখোঁজের ১১দিন পর অর্থাৎ ১৬ আগষ্ট বন্দর থানায় একটি সাধার ডায়েরী করেন। যার নং ৬৫৭। গৃহবধূ এন্ট্রিকৃত ডায়েরীতে উল্লেখ করেন, তার স্বামী (স্থানীয় তালতলা এলাকার মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে) চান মিয়া অটোরিকশা কেনার জন্য গত ৫ আগষ্ট সকাল ৯টায় নগদ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। প্রায় ১১দিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করার পরও তার সন্ধান না পেয়ে স্ত্রী নাহার বেগম বাদী হয়ে ১৬ আগষ্ট বিকেলে বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts