September 19, 2018

প্রথম পূর্ণিমায় মিলেছে ইলিশের দেখা!

ঢাকাঃ দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভাদ্রের প্রথম পূর্ণিমায় মিলেছে ইলিশের দেখা। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরা ট্রলারগুলো নিয়মিত সাগরে জাল ফেলতে পারেনি। সাগরে আহরিত ইলিশ সড়কপথে রাজধানীসহ অন্য মোকামে সরাসরি চলে যাচ্ছে। বরিশালের মোকামে কেবল স্থানীয় নদীর ইলিশ আসছে বলে বাজার দর সহনীয় পর্যায়ে আসেনি।

তবে দশ-বারো দিন হলো মাছের দেখা মেলায় ও দাম ভালো পাওয়াতে জেলেরা বেশ খুশি-ই বটে।

ইলিশ গবেষক ড. মো.আনিচুর রহমান বলেন, ইলিশের মূল মৌসুম হলো ভাদ্রের মাঝামাঝি থেকে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়। উজানের ঢল বা বানের পানি না হলে ইলিশ সাগর থেকে নদীতে আসে না এটাই নিয়ম। তাই উত্তারঞ্চলে বন্যার পর থেকে নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে। কয়েক বছর ধরে সরকার মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের অভিযান কঠোর করায় এর সুফল মিলছে।যার ধারাবাহিকতায় এবারও মূল সিজনে বড় সাইজের ইলিশ মিলবে বলে আশাবাদি তিনি।

পুরাতন হিজলার জেলে আ. ছত্তার বলেন, গেল পূর্ণিমার আগ থেকেই নদীতে মাছের দেখা মিলেছে। নদীতে পানির চাপ থাকায় জোয়ার আর ভাটায় দুইবার জাল পেতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছেন। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে তুফানের তোড়ে মেঘনায় ট্রলার নামানো যায় না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুই সপ্তাহ হলো ইলিশের দেখা মেলায়, আর বাজার দর বেশি থাকায় খোশ মেজাজে দেখা গেছে এই জেলেকে।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাইকার আবুল কালাম আজাদ জানান, বাজারে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৮০ হাজার টাকা মণ, এক কেজি ওজনের মাছ ৪৪ হাজার, ৬০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ৩৫ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের মণ চলেছে ২২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ২০ আগস্ট সাগর থেকে মাছ নিয়ে কয়েকটি ট্রলার এসেছিল এই ঘাটে। ওসময় এখনকার চেয়ে মণ প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কম দামে বিক্রি হয়েছিল।

বরিশালের মোকামে ইলিশের দাম বেশি থাকলেও বিভিন্ন অবতরণ কেন্দ্র থেকে রাজধানী বা উত্তরবঙ্গে সরাসরি মাছ চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বিপাকে পড়তে হয়। জেলেরা লাভবান হলেও লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের একথা জানান মাছ ব্যবসায়ী ইয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গেল বছর ভাদ্র মাসের এই সময়ে হাজার থেকে বারো’শ মণ মাছ আসতো এখন যার পরিমাণ অর্ধেকটা মাত্র। যার কারণে মাছের দর তেমন কমেনি। তবে সাগরের বোট না আসা পর্যন্ত বাজার সহনীয় হবে না বলে মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী।

তমা ফিশিং বোটের সত্ত্বাধিকারী বাপ্পি দাস বলেন, জৈষ্ঠ্য মাস থেকেই সাগরে বোট পাঠাচ্ছেন। প্রতি মাসে দুই ট্রিপ করে শ্রাবণ মাসের প্রথমটা মিলিয়ে ৫ টি জোয়ে তেমন মাছ মেলেনি। লোকসান গুনতে হয়েছে। শ্রাবণের শেষ জোয়ে কিছুটা মাছ পেয়েছেন, বিক্রি করে বাজারের পয়সা মিলেছে। ভাদ্রের পূর্ণিমার জোয়ে জেলেরা গভীর সাগরে মাছের দেখা পেয়েছেন, তবে বৈরী আবহাওয়ার সিগনাল পেয়ে তীরে ফিরে আসতে হয়েছে। একযোগে শত শত ট্রলার মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসায় এখন বরফের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বরফের জন্য অপেক্ষা কারোবা সাগরে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় রবিবার (২১ আগস্ট) থেকে ফের সাগরে যেতে শুরু করেছে ট্রলারগুলো। এবার মহিপুর থেকে ৭২ ঘন্টা চালানো দূরত্বে ইলিশের দেখা মিলছে। পাঁচ বছর ধরে পূবের খড়ি থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিমের খাড়িতে ইলিশ বিচরণ করছে বলে ভারতীয় জেলেরা বোট প্রতি এক থেকে দেড়’শ মণ করে মাছ পাচ্ছেন।

রবিন দাস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, এবারের মাছের গঠন ও কালার দেখে বোঝা যাচ্ছে সামনে প্রচুর ইলিশ মিলবে। এই আশাতেই ফিশিং বোট ফের সাগরে পাঠিয়েছেন বলে জানান তিনি।

Related posts