September 22, 2018

প্রথম জেলা পরিবেশ অলিম্পিয়াডে ড.ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

57

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হলো বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ কুমিল্লার সার্বিক পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে যুব সমাজ সচেতন, সোচ্চার, সক্রিয় ও সংগঠিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে কুমিল্লা অ লের পরিবেশের ক্ষেত্রে শহরে ডাস্টবিনের অভাব, যানজট, অধিক জনসংখ্যা, সুষ্ঠু পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অভাব, অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও পাহাড় কাটা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, সচেনতার অভাব, শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণের সমস্যা অন্যতম। এক্ষেত্রে নিজে সচেতন থেকে অন্যকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি, দেশজ উদ্ভিদ রোপন ও প্রশাসনকে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন সমবেত ছাত্র-ছাত্রীরা। কুমিল্লা মহানগরীতে নির্বিচারে নদী-দীঘি-পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয় ভরাট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলেও তারা জোর দাবি জানান।

সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং বেলুন ও চিল অবমুক্তির মাধ্যমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ মিলনায়তনে গতকাল (১৬ জানুয়ারি, ২০১৬) প্রথম জেলা পরিবেশ অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। সকাল ৯টা থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। মুহূর্তের মধ্যেই এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। উদ্বোধন ঘোষণা ও পরিবেশ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানের ৫০ মিনিটের পরীক্ষার পর সকাল ১১টায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। নির্বাচিতদের নিয়ে উদ্ভাবনী পর্ব; অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বন্ধুত্ব; পরিবেশ সচেতনতার নানা বিষয়ের প্রশ্ন-উত্তর ও খোলামেলা মতবিনিময়; অতিথি-আয়োজক ও গুণীজন এবং পরিবেশবাদীদের দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন, পরিবেশ রক্ষার শপথ ও পুরস্কার বিতরণী এ ধরনের নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল পরিবেশ অলিম্পিয়াড। এ অলিম্পিয়াডের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল‘পরিবেশ রক্ষাই সবার সুরক্ষা’। পরিবেশ অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটি এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা আ লিক শাখার আয়োজনে এ অলিম্পিয়াডটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র এনডাওমেন ফা- কমিটির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন আহমেদ। তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের সামনে আসতে পেরে, কথা বলতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। তিনি উপস্থিত সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে বলেন, তোমরা এখন যথেষ্ট পরিবেশ সচেতন হয়ে গেছো এজন্য তোমাদেরকে অভিনন্দন। কিন্তু তিনি সকলকে মনে রাখার পরামর্শ দেন যে, পরিবেশের যে কোন সমস্যা এটা শুরু হয় কারণ আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে চাই। বাংলাদেশও তা চায়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে সবচেয়ে আগে যেটা দরকার সেটা হলো আমাদেরকে শিখতে হবে যে, আমরা পরিবেশকে সম্মান দেখাতে পারি কি-না। বাইরের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের নাগরিক জীবনে বায়ুদূষণ ও পানি দূষণের মতো শব্দদূষণও সমানভাবে ক্ষতিকর।
55
আমাকে অনেক পরিচয়ে এখানে পরিচিত করিয়ে দেয়া হয়েছে কিন্তু আমি যে পরিচয়ে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করি তা হলো, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন বিশ্বাবিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করেছি। বহু বছর আগের একজন কথা শিল্পী অস্কার ওয়াইল্ড অর্থনীতিবিদদের সম্পর্কে বলেছিলেন, যে তাঁরা সবকিছুর দাম জানে কিন্তু কোন কিছুর মূল্য জানে না এ কথাটি তুলে ধরে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি গাছ যখন কেটে ফেলা হয়, কেন কেটে ফেলা হয়, কারণ কেটে দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু যিনি কাটেন অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটেন, তিনি কিন্তু এই গাছের দাম জানেন  মূল্য জানেন না। আমরা অনেক কিছুর পরিকল্পনা করি, শিল্প কারখানা করলে কত আয় হবে তার সবকিছু জানি, কিন্তু তাতে কত মূল্য দিতে হয় পরিবেশের দিক থেকে তাতে সবসময় আমরা সচেতন হই না। আমরা অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হতে চাই, আমরা মধ্য আয়ের দেশ হয়েছি, আরও উন্নত হতে চাই। কিন্তু সমস্যা হলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে তার একটা দ্বন্দ্ব হয়, পরিবেশের দ্বন্দ্ব। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হলো বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ।

কারণ যেখানেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, সেখানেই শিল্পায়ন হয়েছে, নগরায়ন হয়েছে। যখনই কৃষি জমি থেকে শিল্প তৈরি হয়, গ্রাম থেকে নগর হয় তখনই আমরা প্রাকৃতিক সম্পদ জমি, বনভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা সবকিছুর ওপর চাপ সৃষ্টি করি এবং দুষণ সৃষ্টি করি। বাংলাদেশে আমাদের সবচেয়ে বেশি পরিবেশ সচেতনতা দরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সচেতনতা দরকার কারণ অন্য যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বেশি ঘনবসতিপূর্ণ। এ ধরনের একটি দেশে যেখানে এতো মানুষ আছে, সেইখানে নগরায়ন ও শিল্পায়ন করতে গেলে প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন। পৃথিবীতে অনেক দেশে জলদস্যু কথা থাকলেও বাংলাদেশে এর সাথে যুক্ত হয়েছে বনদস্যু ও ভূমিদস্যু। সেজন্য আমাদের দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবেশ রক্ষা ও এর ভারসাম্য রক্ষা করা সবচেয়ে কঠিন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন একবার কুমিল্লা শহরে এসেছিলাম। অনেক ছোট শহর ছিল। এখন কুমিল্লা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অনেক বড় হয়েছে, দালান কোঠা অনেক হয়েছে, অনেক শিল্প হয়েছে। কিন্তু তখন আমি কুমিল্লা শহরকে যে স্বপ্নের শহর মনে করতাম চারদিকে খোলামেলা মাঠ আর দীঘি। দীঘি আর মাঠের শহর ছিল কুমিল্লা, কোন ধূলাবালি ছিল না, পরিচ্ছন্ন একটি শহর ছিল।

এখন কুমিল্লা ঘুরে দেখে মনে হল অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নত হয়েছে কিন্তু অনেক অপরিচ্ছন্ন হয়েছে, অনেক বিশৃঙ্খল হয়েছে সেই খোলামেলা জায়গা এখন আর খুঁজে পাই না। খুঁজে খুঁজে আগের জায়গাগুলিকেও পাওয়া যায় না। একসময় বাংলাদেশ ছিল দুর্ভিক্ষের দেশ, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। স্বাধীনতার সময় আমরা যতটুকু ধান উৎপাদন করতাম, এখন তার তিনগুণ ধান আমরা উৎপাদন করি। সারা পৃথিবীর মানুষ অবাক হয়ে দেখছে বাংলাদেশের কৃষকরা কীভাবে এতো অল্প জমিতে এতো খাদ্যশস্য উৎপাদন করে। কিন্তু তার পাশাপাশি জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়্গো করতে করতে জমির উর্বরতা এমন কমে যাচ্ছে যে, একই ফসল উৎপাদন করতে গেলে ক্রমাগতভাবে বেশি সার ব্যবহার করতে হচ্ছে। তার থেকেও মারাত্মক হলো ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে এবং ফলমূল-শস্য ইত্যাদি বাজারজাত করতে গেলে বা সংরক্ষণ করতে হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করতে হচ্ছে। রাসায়নিকযুক্ত ফলমূল বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য যতটা ক্ষতিকর হচ্ছে, পৃথিবীর অন্য কোথাও আর তা দেখা যায় না।

প্রসঙ্গত তিনি বলেন, ঢাকা ছিল প্রাদেশিক একটি ছোট শহর। সেই ঢাকা শহর এখন সারা পৃথিবীর ১০ টি জনবহুল নগরীর একটি। তার মানে প্রতি দশকে যে হারে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বেড়েছে পৃথিবীর আর অন্য কোন দেশে সে হারে এতো জনসংখ্যা বাড়েনি। যার ফলে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উন্নত যে নগরী, সবচেয়ে কম বাসযোগ্য সে নগরী। এজন্য আমাদের অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। এ সময় সরকারকে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করার পরামর্শও দেন তিনি। তিনি বলেন, এই কুমিল্লা শহর বড় হচ্ছে কিন্তু অপরিচ্ছন্ন যেন না হয়। অপরিকল্পিতভাবে যেন দালান-কোঠা না করা হয়। তেমনিভাবে কুমিল্লা শহরের একটি মিউনিসিপ্যালিটি আছে, সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলি আছে, তাদের দায়িত্ব হবে  তাদের আওতায় যা আছে সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা, দীঘিগুলিকে রক্ষা করা, রাস্তাগুলিকে পরিষ্কার করা। এছাড়া সব দায়-দায়িত্ব সবার ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না, নাগরিকদেরও নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থেকে পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য সবপর্যায়ের সবার ভূমিকা রয়েছে এবং সবচাইতে বেশি ভূমিকা সরকারের, স্থানীয় সরকারের, নাগরিক সমাজের, বাপার মতো এ ধরনের যে নাগরিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদেরও এবং সর্বশেষ পরিবারের ও প্রত্যেকটি নাগরিকের।

কলেজ পর্যায়ের মোট ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭০০ জন শিক্ষার্থী এ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি প্রফেসর ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা অলিম্পিয়াড কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবীব। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সঞ্চালনা করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক এবং জাতীয় পরিবেশ অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র পাল।

পরিবেশের সুরক্ষা হচ্ছে দেশের সুরক্ষা, নিজের সুরক্ষা উল্লেখ করে বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিজ নিজ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে হবে। সারা দেশের মানুষকে পরিবেশের জ্ঞান দিতে হবে, এজন্য শিক্ষার্থীদের ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

শিক্ষার্থী নিজেদেরকে শাণিত করার মধ্য দিয়ে পরিবেশক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার ও কাজ করার অর্থাৎ অবদান রাখার আহ্বান জানান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ও স্থপতি ইকবাল হাবীব। তিনি বলেন, পরস্পরকে সহযোগিতা করার জন্য নিজের সম্পর্কে আরও জানতে হবে, পরিবেশকে জানতে হবে এবং তা অন্যকে জানাতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পরিবেশ অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ ও ফলাফলেও ওপর ভিত্তি করে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননাও প্রদান করা হয়। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ, কুমিল্লা কমার্স কলেজ এবং রূপসী বাংলা কলেজ। পরিবেশ অলিম্পিয়াড কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখার জন্য আলাদাভাবে ভিক্টোরিয়া কলেজকে আলাদাভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রীটেনিয়া ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ আর্টস সোশ্যাল সাইন্স এন্ড ল বিভাগের ডীন প্রফেসর মতিউর রহমান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্টার সোহেল আহসান নিপু, অরূপ সাহা, ভিক্টোরিয়া কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ হাবিব আহসানুল্লাহ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কুমিল্লা আ লিক শাখার সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গরাও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্বে অংশ নেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন ক্রিড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু, মিতা পাল, সাপ্তাহিক আমোদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জনাব বাকীন রাব্বী, দুপ্রক জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহ মোঃ আলমগীর খান, মানবাধিকারকর্মী আলী আকবর মাসুম, রোকেয়া বেগম শেফালী, আমাদের কুমিল্লার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহজাদা এমরান, মাহমুদা আক্তার, নজরুল পরিষদের নির্বাহি সদস্য মেজবাহুল হক রানা, আবদুল্লাহ আল মাহবুব প্রমুখ।

তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের সূচনা হবে এবং পরিবেশক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে বিধান চন্দ্র পাল তাঁর বক্তব্যে জানান, বাপা সভাপতি প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদকে স্মরণ করেই সারা দেশব্যাপী বাপার আয়োজনে এই অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে উদ্দীপনামূলক সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন সৃজনী সাহা, দিপশিখা দাস, সিথী সেন, সান্তা সাহা, সিফতাহুল মাহমুদ দীপ্র, সুমন রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানটিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন ব্রীটেনিয়া ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ণ মেডিক্যাল কলেজ এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়।

পরীক্ষা পর্বের ফলাফল যাচাই করে ১৯ জনকে চ্যাম্পিয়ন এবং ১ জনকে চ্যাম্পিয়ন অব দি চ্যাম্পিয়নস্ হিসেবে মনোনীত করা হয়। চ্যাম্পিয়ন অব দি চ্যাম্পিয়নস্ হওয়ার গৌরব অর্জন করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের মোঃ এনামুল হক হৃদয়। চ্যাম্পিয়ন সম্মান অর্জন করা ১৯ জন হলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের কাজী মোঃ আব্দুল্লাহ আল গীফারী, মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজের মোঃ আজীম উদ্দিন, কুমিল্লা সরকারী কলেজের আলাউদ্দিন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের রবিউল আলম, কুমিল্লা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের তামান্না আক্তার ও ইয়াছমিন আক্তার, রূপসী বাংলা কলেজের মোঃ রিয়াদ আলম, মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজের রাসেল আহমেদ ও আব্দুল্লাহ আল (মামুন), শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের মোঃ ওমর ফারুক, ইবনে তামিয়া কলেজের ওসমান গণি মজুমদার, কুমিল্লা সরকারি কলেজের তানজিরুল ইসলাম সামি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মোঃ রাকিবুল হাসান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের মোঃ সোহানুর রহমান ও কে এম আরাফাত সাকিব, ইবনে তামিয়া কলেজের আবদুল্লাহ আল মানসুর, সরকারি কলেজের সাথী দেবনাথ গোফা, কুমিল্লা বিজ্ঞান কলেজের মোঃ রাজু মিয়া এবং ভিক্টোরিয়া কলেজের সুমাইয়া আক্তার।

অলিম্পিয়াডের নানা পর্বে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, পরিবেশকর্মী, গুণীজন ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানসমূহের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থেকে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ও অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে ভূমিকা পালন করেন। উল্লেখ্য যে, বিভাগীয় পর্যায়ে এ অলিম্পিয়াডকে উদ্দেশ্য করে গঠিত আয়োজক কমিটিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আয়োজনের লক্ষ্যে প্রায় দুই মাসব্যাপী নিবেদিতভাবে কাজ করেছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Related posts