September 24, 2018

প্রথমবারের মত সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে যাচ্ছে বাপেক্স

ঢাকাঃ  বঙ্গোপসাগরের ম্যাগনামা অবকাঠামোতে অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য অষ্ট্রেলীয় কোম্পানি সান্তোসের সাথে চুক্তি করতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্স। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে যাচ্ছে দেশীয় কোনো সংস্থা। ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর বিশাল সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এ যৌথ উদ্যোগ নতুন পথ খুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরের ১৬ নম্বর ব্লকে অবস্থিত ম্যাগনামা কাঠামোতে জরিপ চালিয়েছিল সান্তোস। এর পাশেই বন্ধ হয়ে যাওয়া সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রটি ছিল। কাঠামোটিতে প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুদ আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাগনামায় অনুসন্ধান কূপ খনন করতে দীর্ঘদিন ধরেই অংশীদার খুঁজছিল সান্তোস। কয়েকদফা দর কষাকষির পর তাদের সাথে অনুসন্ধান কূপ খননে রাজি হয় বাপেক্স। বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদ চলতি মে মাসেই এ সংক্রান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে বাপেক্স স্থলভাগে গ্যাস কূপ খনন করলেও সমুদ্রে করেনি। এজন্য খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে ম্যাগনামায় একটি কূপ খননের জন্য পেট্রোবাংলার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল সান্তোস। সে সময় তারা ৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ব্যাংক চেকও জমা দেয়। দীর্ঘদিন দর কষাকষির পর গত ২২ মার্চ সান্তোস বাংলাদেশ’র সভাপতি এন্ড্রু ডিগ্যারিস বাপেক্সের শর্তগুলোতে রাজি হয়ে একটি চিঠি দেন। এরপর বাপেক্স বোর্ড চুক্তির ব্যাপারে অনুমতি দেয়।

সান্তোসের চিঠিতে জানানো হয়, ম্যাগনামা অবকাঠামোটি বঙ্গোপসাগরের উজানে ৫১৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। সমুদ্রের এই অঞ্চলে সান্তোস দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ চালিয়েছে। ম্যাগনামা কাঠামোর পাশেই থাকা সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৫৫০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ম্যাগনামা কাঠামোয় বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও খনিজ সম্পদ রয়েছে। এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে। জানা যায়, এ যৌথ বিনিয়োগে ৫১ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে সান্তোসের, বাকি ৪৯ ভাগ থাকবে বাপেক্সের। জাতীয় কোষাগার কিংবা গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে বাপেক্সের অর্থায়ন হবে। সম্প্রতি বাপেক্স সান্তোসের সাথে যৌথ বিনিয়োগের একটি ‘কনফিডেন্সিয়াল চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে।

বাপেক্স সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে ১৯৯৪ সাল থেকে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্প জরিপ পরিচালনার জন্য সান্তোস ৯২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার খরচ করে। যৌথ উদ্যোগের চুক্তির জন্য ওই খরচের অর্ধেক (৪৬ মিলিয়ন ডলার) তারা বাপেক্সের কাছে চেয়েছিল। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এখন বাপেক্স ১৬ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। সান্তোসও ভবিষ্যতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্পাদনে সহযোগী থাকার আশা জানিয়ে এতে সম্মতি দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অর্ধেক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ডলার দিবে বাপেক্স। সবমিলিয়ে কূপটি খননে বাপেক্সের খরচ হবে ২৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার। আতিকুজ্জামান বলেন, এর আগে বাপেক্স সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান করেনি। তাই এটি আমাদের জন্য একটি সুযোগও। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। শীতের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।ইত্তেফাক

Related posts