November 17, 2018

প্রত্যাশার বেলুন উড়িয়ে সাফে যাচ্ছে বাংলাদেশ

106939_s1

সাফ ফুটবলে একমাত্র শিরোপাটি বাংলাদেশ জিতেছে ২০০৩ সালে। শেষবারের মতো ফাইনাল খেলেছে ২০০৫ সালের করাচি সাফে। সর্বশেষ দুটি আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এবার দেশি কোচ মারুফুল হকের অধীনে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন নিয়ে আজ ভারতের কেরালার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন মামুনুলরা। আগামী বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ।
মেসোডোনিয়ান কোচ নিকোলে ইলিয়েভস্কির অধীনে ২০১১ সালে দিল্লি সাফে অংশ নেয় বাংলাদেশ। নিকোলার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওই সাফে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে নেপাল সাফ খেলতে যান ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফের শীর্ষরা। সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার পরও ক্রুইফ নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলের দশম আসরের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার করতে ব্যর্থ হন। সাফে ব্যর্থ হলেও ক্রুইফ ধীরে ধীরে যখন দলটি তৈরি করছিলেন, ঠিক তখন তাকে বরখাস্ত করে বাফুফে। তার জায়গায় ইতালিয়ান ফ্যাবিও লোপেজকে দায়িত্ব দিয়ে জাতীয় দলের সর্বনাশ করেন দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ এই সংস্থাটি। সেখান থেকে মারুফুল চেষ্টা করছেন মাত্র তিন সপ্তাহের ট্রেনিংয়ে সাফের ভালো কিছু উপহার দিতে। বাফুফের কর্মকর্তাদের বিশ্বাস মারুফুল পারবেন। সাফের উদ্দেশে দলের দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে সেই আশার কথাই ব্যক্ত করেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহাম্মেদ। ২০১৩ সালের সাফ প্রস্তুতি আর এবারের সাফ প্রস্তুতিতে ফেডারেশনের ভূমিকায় রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। সেবার একজন বিদেশি হেড কোচ, বিদেশি সহকারী কোচ, বিদেশি ফিটনেস ট্রেইনার, বিদেশি গোলকিপিং কোচ ছিলেন দলে। এছাড়া দেশ-বিদেশে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। আর এবার পুরোপুরি দেশি কোচিং স্টাফ আর নেপালের বিপক্ষে একটি মাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ। নাবিল আহমেদ বলেন, ‘২০১৫ সালে জাতীয় ফুটবল দল অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে, কোচ বদল হয়েছে তিনবার, ডি ক্রুইফ, ফাবিও লোপেজের পর দেশি কোচ মারুফ দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এ বছর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভালো দলের বিপক্ষে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছে, এছাড়া সারা বছর তারা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, ভিন্ন ভিন্ন কোচের অধীনে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তারা এখন আগের চেয়ে বেশি পরিপক্ব। আমাদের আশা এবার ফুটবল দল ভালো খেলবে। নতুন বছরের প্রথম তিন দিন জাতিকে একটা আনন্দের উপলক্ষ করে দেবে।’ উল্লেখ্য, ১লা জানুয়ারি সাফের সেমিফাইনাল ও ৩রা জানুয়ারি ফাইনাল। জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলামও বিশ্বাস করেন এবার সুযোগ আছে ভালো কিছু দেখার। ‘আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি দেশের হয়ে সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য। আমরা শুরুতে ২৮ জন ছিলাম আর ২০ দিন আগে সাফের অনুশীলন শুরুর আগে আমরা সবাই কোচকে সামনে রেখে শপথ করেছিলাম শিরোপা জয়ের জন্য সবকিছু করবো আমরা।’ মামুনুল গতবারও ছিলেন দলের নেতৃত্বে। ভারতের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের ১-১ গোলে ড্র আর পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও শেষ মুহূর্তের গোলে হারে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। অবশ্য স্বাগতিক নেপালের কাছে প্রথম ম্যাচেই ২-০ গোলে হেরে পথচলা কঠিন হয়ে গিয়েছিল মামুনুলদের। এবার ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না দেশ সেরা এই ফুটবলার। মামুনুল বলেন, ‘আমরা নিজেদের শতভাগ দিয়ে টিমওয়ার্ক নির্ভর ফুটবল খেলতে চাই। সর্বশেষ সাফে শেষ মুহূর্তে একাধিক ইনজুরি আমাদের দলের কাঠামোটা নষ্ট করে দিয়েছিল। এবার সে সমস্যা নেই, খেলোয়াড়রা মাঠে ও মাঠের বাইরে এবার অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ রয়েছে।’ মামুনুল আরও বলেন, ‘ফুটবলারদের মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করা হয়েছে এবার। আমরা যাতে এক গোল করে রক্ষণাত্মক হয়ে না যাই এবং গোল খেয়ে যাতে হতোদ্যম না হই সে ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি। আমরা চাই সাফের শিরোপা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা উদ্দীপনার নজির রাখতে। যা তাদের অনুপ্রাণিত করবে দেশের জন্য ফুটবল খেলতে। আমরা তৈরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য।’

Related posts