November 21, 2018

প্রতি কুড়িতে ডিমের দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা!

এম লুৎফর রহমানঃ মানুষের প্রাত্যহিক খাবার ডিমের মূল্য আবারো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। প্রতি কুড়ি ডিম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কুড়ি প্রতি পাইকারী বাজারে বেড়েছে ৪০ টাকা। পক্ষান্তরে খুচরা বাজারে বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। খুচরা দোকানগুলোতে এক হালি ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্য দ্বিতীয় বার বৃদ্ধি পেলো।

ডিমের এই মূল্য বৃদ্ধির কারণ সর্ম্পকে পাইকারী ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খামারীরা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারণে তারাও বাড়তি দরে ডিম বিক্রি করছে। খুচরা বিক্রেতাদেরও একই কথা। পাইকারী বিক্রেতারা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারণে তারাও দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে। পাইকারী ও খুচরা সকল বিক্রেতাদেরই অভিযোগ হচ্ছে ডিমের খামারীদের বিরুদ্ধে। খামারীরা যখন তখন তাদের খেয়াল খুশীমত ডিমের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকার ডিমের মূল্য নিয়ন্ত্রনে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। অথচ ডিমের প্রাত্যহিক গ্রাহক হচ্ছে খেটে খাওয়া শ্রমিক শ্রেণী। রান্না বান্নার ঝামেলার কারণে অনেক শ্রমিক দিনে দু’বারই ডিম খায়। ডিমের এই অস্বাভাবিক মূল্যের কারণে শ্রমিক শ্রেণীই বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত আগস্ট মাস থেকে ডিমের দাম অব্যাহত গতিতে বাড়তে থাকে। তখন এক সপ্তাহে কুড়ি প্রতি ডিমের মূল্য বেড়ে যায় ৪০ টাকা। সেই থেকে ডিমের দাম খুব একটা কমেনি। খামারীরা ডিমের মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা এক কুড়ি ডিম কখনোই কিনেনা, তাদেরকে বেশী সবচেয়ে বেশী মূল্যে ডিম কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমিক শ্রেণীর মানুষেরা। এক হালি ডিমের বেশী কিনতে পারে না। তাদেরকে বর্তমানে এক হালি ডিম ক্রয় করতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ব্যায় করতে হচ্ছে।

১ টি ডিমের মূল্য দাড়িয়েছে ১০ টাকা। কোন কোন এলাকায় ১ টি ডিম খুচরা মূল্যে ১২ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে। ডিমের এই মূল্য অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশী এবং সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। যে সমস্ত নিম্ন আয়ের মানুষ ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা মাসিক বেতনে চাকুরী করে তাদের পক্ষে ১০ বা এর বেশী টাকা দিয়ে ডিম কিনে খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশুদেরকে দৈনিক একটি করে ডিম খাওয়ানো পরামর্শ দেন ডাক্তররা। কিন্তু ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারনে লাখ লাখ গরীব শিশু প্রতিদিন ডিম খাওয়া থেকে বি ত হচ্ছে।

সরকারী হিসেব মতে বছরে নরসিংদীতে ডিমের বার্ষিক চাহিদা হচ্ছে ২৪ কোটি ৯৬ লাখ। সে ক্ষেত্রে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে নরসিংদীতে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডিম। এ ক্ষেত্রে ৫ কোটির অধিক সংখ্যক ডিম অতিরিক্ত উৎপাদিত হয়েছে। এরপরও হঠাৎ ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারী আড়ত থেকে ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছে। তারা বেশী দামে কিনে এনে বেশী দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

নরসিংদী প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীতে ডিম উৎপাদন খামার রয়েছে কমবেশী ৯০০টি। এসব খামারগুলো বর্তমানে সম্পূর্ণ চালু রয়েছে। এসব খামারে কমবেশী ২০ লাখ মুরগী প্রতিদিন ডিম দিচ্ছে। এরপরও ডিমের মূল্য বৃদ্ধির যুক্তিসংগত কোন কারণ নেই।নরসিংদী থেকে ডিম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতিদিনই রফতানী হচ্ছে। ১৯৯২ সালের পূর্বে নরসিংদী তথা দেশে ডিমের কোন ঘাটতি ছিল না। দেশীয় ডিম উৎপাদন কমে গেলে ভারত থেকে ডিম আমদানী করে ডিমের চাহিদা পুরন করা হতো।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডিমের মূল্য হঠাৎ বেড়ে যায়। তখন সরকার খামারীদেরকে ডেকে ডিমের মূল্য কমানোর জন্য অনুরোধ জানালে তারা সরকারকে এই মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করে যে, ডিমের মুল্য যুক্তি সংগত পর্যায়ে রেখে ব্যবসা করা হবে। অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে হালি প্রতি ১০ টাকার বেশী দরে ডিম বিক্রি করবে না। খামারীদের এই অঙ্গীকারের ফলশ্র“তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভারত থেকে ডিম আমদানী বন্ধ করে দেন। এরপর কিছুদিন খামারীরা ডিমের দাম যুক্তিসংগত পর্যায়ে রাখলেও পরবর্তীতে প্রতিযোগিতা করে ডিমের মূল্য বাড়িয়ে দেয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর খামারীরা নিজেদের খেয়াল খুশিমত ডিমের মূল্য বাড়িয়ে দেয়।

যার ফলে ৮ টাকা হালির ডিম এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন খামারীদেরকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। পারছেনা পাইকারী ব্যবসায়ীদেরকেও নিয়ন্ত্রনে আনতে। প্রতিদিনই তারা খাবারের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে ডিমের মুল্য বাড়িয়ে মনোপলি ব্যবসা করছে। একইভাবে দেশের সকল মুরগী খামারী ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট করে যখন তখন মূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সরকার খামারীদের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ডিমের মূল্য দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts