September 24, 2018

প্রতিরাতে চলছে কোটি টাকার জুয়া

798

নানা নামে, নানাভাবে দেশব্যাপী অবাধে চলছে জুয়া। কাটাকাটি, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস, রেমি নানা নাম। জুয়ার নামে কোটি কোটি হাতিয়ে নিচ্ছে আয়োজক চক্র। সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকে।

আইনানুসারে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও নানা কৌশলে কর্তাদের ম্যানেজ করেই চলছে জুয়ার আসর। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন ক্লাবে, হোটেলে, বাসায়, বস্তিতে, চলছে জুয়া। প্রতিটি উল্লেখযোগ্য জুয়ার আসর থেকে প্রতি রাতে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পাচ্ছেন নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালীরা।

শুধু রাজধানী নয় পুরো দেশেই রয়েছে জুয়াড়িদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। জুয়ার আসরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন প্রভাবশালীরা। ‘বড় ভাই’ হিসেবে পরিচিত এ প্রভাবশালীরা থানা-পুলিশ ও এলাকার মাস্তানদের ম্যানেজ করেন।

ঢাকার অন্তত ১০টি ক্লাব এখন শুধুই জুয়ার আখড়া। অথচ এগুলো খেলাধুলার চর্চার জন্য গঠন করা হয়েছিল। সন্ধ্যার পরপরই ক্লাবগুলোর সামনে বাড়তে থাকে গাড়ির বহর। বিত্তশালীদের ভিড় বেড়ে যায় ক্লাবে।

গভীর রাত পর্যন্ত জুয়া খেলা হয় ক্লাবগুলোতে। জুয়াকে কেন্দ্র করে চলে মাদকসেবনও। এসব ক্লাবে জুয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন এক প্রভাবশালী নেতা ও তার অনুসারীরা। জুয়ার উপার্জনের বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে তাদের পকেটে। জানা গেছে, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস, রেমি, ফ্ল্যাসসহ ইনডোর গেমস নামে চলছে এসব জুয়া খেলা। এরমধ্যে রেমি ও হাজারী খেলায় আয়োজকরা নেন বিজয়ীদের কাছ থেকে ২০ ভাগ, ফ্লাস ও কাটাকাটিতে ১০ ভাগ। এভাবে প্রতি আসর থেকে বিপুল টাকা আয় করেন আয়োজকরা। রাতভর জুয়া চালানোর পর পেশাদার প্রতিযোগিতাগুলোতে ক্লাবগুলো ভালো দল নামাতে পারছে না। নেই খেলোয়াড় তৈরির কোনও আয়োজনও।

জুয়ার এসব আসার টিকিয়ে রাখতে গত পাঁচ বছরে উচ্চ আদালতে ৭২টি রিট হয়েছে। কোন রিটেই জুয়ার পক্ষে রায় দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আইনজীবী সা কা ম আনিছুর রহমান খান বলেন, সংবিধানে জুয়াখেলা নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাষ্ট্রকে বলা হয়েছে। সংবিধান অনুসারে সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত সকল ব্যক্তি এবং সকল পর্যায়ের আইন কর্মকর্তাসহ প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারী জুয়াখেলা নিরোধ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন। তারা কেউই জুয়াখেলা চালু করার বা অব্যাহত রাখার অনুকূলে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। বরং জুয়া দ-নীয় অপরাধ বলে জানান তিনি।

সূত্রমতে, শুধু ঢাকার পাশে মেলা ও রাজধানীর ক্লাব নয়। জুয়ার আসর বসছে এখন যত্রতত্র। ঢাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাতেও বসছে জুয়ার আসর। পাড়া-মহল্লার জুয়ার আসরগুলোতেও লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়। গত ২৮শে আগস্ট উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের উত্তরা ইন হোটেল থেকে পুলিশের এক কনস্টেবল এবং ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১১ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে ২৫শে আগস্ট উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরের ৩৫ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাসা থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানসহ আসর থেকে ৫২ জনকে আটক করে পুলিশ। ১২ই জুলাই উত্তরার মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব জুয়া খেলার সময় ১৪ জন জুয়াড়িকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, জুয়া আইনত দণ্ডনীয়। আইন ভঙ্গ করে কেউ জুয়ার আসর বসাতে পারে না। এরকম কোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মানবজমিন

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts