September 23, 2018

প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ২ শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার

tচাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী ভবানীপুর-ফতেপুর মহল্লা থেকে গত রোববার সকালে নিখোঁজ দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন মেঘলা (৭) ও মেহজাবিন আক্তার মালিহার (৬) লাশ তিন দিন পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে।

সুমাইয়া ওই মহল্লার প্রবাসী মিলন রানার মেয়ে ও মেহজাবিন মহল্লার আব্দুল মালেকের মেয়ে। প্রতিবেশী ভ্যানে করে দই বিক্রেতা ইয়াসিন আলীর (৬০) বাড়িতে তার ছেলের স্ত্রী লাকী আক্তারের (২৪) শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে লাশ দুটি বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লাকীর স্বামী মো. ইব্রাহীম বিদেশে থাকেন।

সুমাইয়া খাতুনের খালাতো ভাই আবু তালেব জানান, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে না পাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে সুমাইয়ার খালা ফাতেমা বেগম, নূরজাহান বেগম ও ফুফু শাহনাজকে নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজা শুরু করি। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রতিবেশী ভ্যানচালক মো. ইয়াসিনের বাড়িতে গেলে তার ছেলের স্ত্রী লাকী আক্তার তার বাড়িতে খুঁজতে দিতে বাধা দেয়। জোর করে ঘরে ঢুকে তার শোবার খাটের নিচ থেকে পৃথক দুটি বস্তায় বন্দী অবস্থায় সুমাইয়া ও মেহজাবিনের লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিশুদের লাশ উদ্ধার করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, ওই বাড়ী থেকে লাকি আক্তারসহ চারজনকে এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে। শিশুদের হত্যার কারণ, ঠিক কিভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে ও হত্যার সময় এখনও জানা যায়নি। তবে শিশুদের গলার স্বর্ণালঙ্কারের লোভে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মূল সন্দেহভাজন লাকি আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সুমাইয়া খাতুন মেঘলা ও মেহজাবিন আক্তার মালিহা দুজনই স্থানীয় ছোটমনি বিদ্যা নিকেতনের প্রথম ও নার্সারী শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারা রোববার বেলা ১১টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বাইরে খেলতে যায়। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই মেহজাবিন আক্তার মালিহার বাবা আব্দুল মালেক বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

Related posts