September 22, 2018

প্রতিবছর খরায় আক্রান্ত ৩০-৪০ লাখ হেক্টর জমি


ঢাকাঃ  জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার খরায় আক্রান্ত হয়।

দেশের উত্তর-পুর্বাঞ্চলের প্রায় ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সোমবার গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) আবহাওয়া পূর্বাভাস ও ক্রপ মডেলিং ল্যাব উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানান।

ইনস্টিটিউটের ভিআইপি সভাকক্ষে ‘এগ্রো মেটেরিওলজি ও ক্রপ মডেলিং সেন্টার’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রির মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ, ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আনছার আলী এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সমন্বয়ক ড. এম এ ছালেক ও ব্রির পরিচালক (প্রশাসন ও সা. পরি.) ড. মো. শাহজাহান কবীর।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্রির কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিয়াজ মো. ফরহাত রহমান।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন মাত্রার খরায় আক্রান্ত ৮৩ লাখ হেক্টর চাষযোগ্য জমির শতকরা ৬০ ভাগ জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়। আকস্মিক বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে দেশের ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে। প্রতি বছর হাজার হাজার একর পাকা বোরো ধান আকস্মিক বন্যায় আক্রান্ত হয়। এসব ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ও ক্রপ মডেলিং করে ক্ষতি অনেকটা কমানো সম্ভব।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। কেননা কৃষিই জলবায়ুর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল।

তারা মনে করেন, সঠিক সময়ে সঠিক দুর্যোগের পূর্বাভাসের মাধ্যমে কৃষকের ক্ষতি অর্ধেক হ্রাস করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বন্যা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৯৩টি দুর্যোগের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময়ে দেশের কৃষি ও অবকাঠামো খাতে ৫৯০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। অথচ সঠিক সময়ে দুর্যোগের পূর্বাভাসের মাধ্যমে এই ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস করা যাবে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়।

মূল প্রবন্ধে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে গম চাষ ব্যাহত হবে। ধান গাছের কচি থোড় থেকে ফুল ফোটার সময় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি হলে ধানে চিটা হবে। অধিক আর্দ্রতার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা তাপমাত্রা, ছত্রাক ও ব্যকটেরিয়ার দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবাণুর রোগ সৃষ্টির সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

প্রবন্ধে আরো বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় বন্যার ফলে সরাসরি লবণাক্ত পানি দিয়ে জমি ডুবে যাওয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে মাটির নিচে থাকা লবণাক্ত পানির ওপরের দিকে বা পাশের দিকে প্রবাহিত হওয়ার কারণে মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত জমির পরিমাণ বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিমিত বৃষ্টিপাতের অভাবে ২০৫০ সালে ১৬ শতাংশ এবং ২১০০ সালে ১৮ শতাংশ উন্নীত হবে বলে আশঙ্কা আছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ুর বৈরী প্রভাবের কারণে আগামী সময়গুলোতে কৃষি তথা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর চ্যালেঞ্জ বাড়তে থাকবে। এতে সন্দেহ নেই। তাই আবহাওয়ার মতো কৃষির ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ও ক্রপ মডেলিং ব্যবস্থা গড়ে তুলে দুর্যোগক্ষতি প্রশমনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতি থেকে দেশের কৃষককে রক্ষা করতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।

Related posts