September 24, 2018

প্রতিটি দেশেই নিজস্ব দূতাবাস ভবন হবে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাঃ  রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাস ভবন ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকা প্রতিটি দেশেই বাংলাদেশ মিশনের নিজস্ব ভবন হবে।

শনিবার রাতে জেদ্দা কনফারেন্স প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে রিয়াদে নতুন এ ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দূতাবাসগুলোর এই নিজস্ব ভবন বহির্বিশ্বে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতীক’ হয়ে উঠবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এভাবে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের নিজস্ব ভবন হবে।

সম্প্রতি জাপান সফরের সময় টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জেদ্দার অনুষ্ঠানে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন তৈরি হয়েছে এবং ভারত ও পাকিস্তানেও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে মুসলিম উম্মাহর জন্য ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, পরবর্তীতে জেদ্দাতেও বাংলাদেশ মিশনের নিজস্ব ভবন তৈরি করা হবে।

হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য হজ অফিস জেদ্দা থেকে মক্কায় স্থানান্তর করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা তার সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘সুযোগ-সুবিধা দেখার’ জন্য দূতাবাস কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে বলেন।

তিনি বলেন, প্রবাসে যারা যেখানেই কাজ করুক, তাদের ভালমন্দ দেখা আমাদের দায়িত্ব।

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এই মূল কথা এ অনুষ্ঠানেও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

সেই সঙ্গে নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর কেউ অবহেলার চোখে দেখবে না। সম্মানের সাথে দেখবে।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।

বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে শুক্রবার সৌদি আরবে পৌঁছে প্রথমেই ওমরাহ পালন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই রাতে জেদ্দা থেকে মক্কায় পৌঁছে হারাম শরীফ সংলগ্ন মক্কা গেস্ট প্যালেসে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর প্রধানমন্ত্রী তাওয়াফ শুরু করেন।

ওমরাহ শেষে প্রধানমন্ত্রী দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন।

ওমরাহ পালন শেষে মক্কায় ফজরের, যোহরের ও আসরের নামাজ আদায় করে শনিবার বিকেলে জেদ্দা কনফারেন্স প্যালেসে আসেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।

ওমরাহ পালনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ ভালভাবে শেষ করিয়েছেন। খুব ভালভাবে ওমরাহ পালন করেছি। বাংলাদেশের মানুষের জন্য দোয়া করেছি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী এএইচ মহমুদ আলী, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম মসীহ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি বাদশাহ সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের এই তেলসমৃদ্ধ দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এটাই প্রথম সফর। সর্বশেষ ২০১৩ সালের নভেম্বরে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

রবিবার সকালে তিনি জেদ্দায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর দুপুরে জেদ্দার আল আন্দালুসে আল সালাম প্রাসাদে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন।

সোমবার মদিনায় হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর রওজা জিয়ারত করবেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকালে মদিনা থেকে দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৫ মে ২০১৬

Related posts