November 16, 2018

প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে আওয়ামী লীগের ট্রাম্পকার্ড সাত সাফল্য

পৌরসভা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপি নন এমন কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের প্রচারণায় প্রাধান্য পাচ্ছে আওয়ামী লীগের অর্জিত সাত সাফল্য। এগুলো হলো, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ শুরু, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, ছিটমহল বিনিময়, আগুন সন্ত্রাসের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা।
প্রচারণায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, একদিকে নৌকা প্রতীকের এতো সফলতা, অন্যদিকে তৃণমূলে জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেয়ায় আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা। তাই ব্যালটে সিল মারার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও ভোটারের বিবেচনাবোধে কাজ করবে বলে তারা জানিয়েছেন।

২৫ এমপির বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ:এদিকে দলের ২৫ এমপির বিরুদ্ধে পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ করেছে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। ওই এমপিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দলের হাইকমান্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে তারা। তৃণমূল আওয়ামী লীগের এই অনুরোধ কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ডকে জানিয়ে দিয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই এসব এমপিরা তাদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের পাঠানো প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে দলের হাইকমান্ড ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের পৌর মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। এ কারণে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ অনেকটাই আশাবাদী। তৃণমূল আওয়ামী লীগও হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই দলকে কিছুটা ভাবনায় ফেলেছে। স্বজনদের নাম বাদ পড়ায় দলের ২৫ এমপির মদদে ৬৯ বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে এখনো অটল রয়েছেন। যদিও দল থেকে তাদের সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনীতির হিসাব কষতে গিয়ে সংসদ সদস্যরা দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ না শোনার ভান করে চলেছেন। নিজের অবস্থান সুসংহত করা ছাড়াও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে রয়েছেন এসব এমপি। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহীদের সঙ্গে তারা নিয়মিত গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারণার কৌশলও ঠিক করে দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ দলের সত্, যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে। জনপ্রিয়রা নৌকা প্রতীক পাওয়ায় বিদ্রোহীদের নিয়ে চিন্তিত নয় আওয়ামী লীগ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts