November 18, 2018

প্রকাশ্য ধর্ষণের দায়ে ৬ ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড!

এম লুৎফর রহমান
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
প্রাণ আরএফএল গ্র“পের ২০ বছর বয়স্কা এক মহিলা কর্মচারীকে প্রকাশ্য দিনদুপুরে গণধর্ষণ ও ধর্ষণক্রিয়ার পর্ণোগ্রাফি ধারণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ ধর্ষককে অর্থদন্ডসহ ফাঁসির দন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষক আশিকুর রহমান (৩৫), ইলিয়াছ (২১), রুমিন (২০) ও রবিন (২২) নামে ৪ ধর্ষককে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদন্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদন্ড এবং ইব্রাহিম ও আব্দুর রহমান নামে ২ ধর্ষককে একই আইন ও ধারায় মৃত্যুদন্ড ও ২ লাখ টাকা করে অর্থদন্ড এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনের ৮ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২ লাখ টাকা করে অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) শামীম আহম্মদ এই রায় প্রদান করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত ধর্ষক আশিকুর রহমান পলাশ থানার বাগমারা গ্রামের মৃত কুদ্দুস আলীর পুত্র, ধর্ষক ইলিয়াছ একই গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র, ধর্ষক রুমিন একই গ্রামের সিরাজ শেখের পুত্র, ধর্ষক রবিন একই গ্রামের হানিফার পুত্র, ধর্ষক ইব্রাহিম একই গ্রামের মন্টু মিয়ার পুত্র এবং ধর্ষক আব্দুর রহমান একই গ্রামের আব্দুস সালাম মিয়ার পুত্র।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সনের ২৩ মে পলাশ থানার বাগপাড়া গ্রামে অবস্থিত প্রাণ আরএফএল কোম্পানীর ফার্নিচার-২’র এক মহিলা কর্মচারী তার অফিসের প্রাত্যহিক কাজ শেষ করে একই একই গ্রামের মুক্তা ভিলায় তাদের নিজস্ব মেসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ধর্ষীতা মহিলা কর্মচারী বেলা আড়াইটায় জনতা মিল গেইটের সামনে পৌছলে ধর্ষক আশিকুর, ইলিয়াছ ওরফে শফিকুল, রুমিন, রবিন, ইব্রাহিম ও আব্দুর রহমান তাকে ধরে জোরপূর্বক পার্শবতী একটি নির্যন স্থানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় রুমিন তার মোবাইলে ধর্ষণক্রিয়ার ছবি ধারণ করে রাখে। এসময় তাকে সহযোগিতা করে ধর্ষক ইব্রাহিম ও আব্দুর রহমান। ধর্ষিতা মহিলা কর্মচারী এই ঘটনা প্রাণ আরএফএল কোম্পানীর সহকারী ব্যবস্থাপক ডিপিএল (এ্যাডমিন) এএসএম সাদেকুল ইসলামকে জানালে তিনি ঘটনাটি কোম্পানীর উর্ধতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেন।

উর্ধতন কর্মকর্তাগন এব্যাপারে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিলে সহকারী ব্যবস্থাপক এএসএম সাদেকুল ইসলাম কোম্পানীর ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ কামাল হোসেন, এজিএম মোঃ ফজলে রাব্বী এবং ধর্ষিতা কর্মচারীকে নিয়ে পলাশ থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে। দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পলাশ থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৬ ধর্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। দাখিলকৃত চার্জশীট অনুযায়ী ১২ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষগ্রহণ ও পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ বিচারক শামীম আহম্মদ গতকাল মঙ্গলবার এক জনাকীর্ণ আদালতে ৬ ধর্ষকের ফাঁসি ও অর্থদন্ডাদেশ ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞ বিচারক তার রায়পত্রে ধর্ষকদেরকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া আসামীগনকে রায় ঘোষণার ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে আপলি করার সুযোগ দিয়েছেন। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. কানিজ ফাতেমা ও এড. একেএম ওয়ালিউল্লাহ। আসামী পক্ষে ছিলেন এড. এমএ আউয়াল, এড. মিঠু ও এড. মনিরুজ্জামান।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts