September 25, 2018

প্রকাশের অপেক্ষায় মীর কাসেমের আপিলের রায়

ঢাকাঃ  জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাসেম আলীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত আকারে রায় ঘোষণা করেন । আপিল বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তা নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। এবং ট্রাইব্যুনাল সেটি হাতে পেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবেন। এরপর সে মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা যাবে।

রায় পুনর্বিবেচনার ( রিভিউ ) আবেদন করা হলে দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে যাবে। পরবর্তীতে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং রিভিউ রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর না করলে কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে।

গত ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর ফাঁসি দণ্ড বহাল রেখে দেওয়া আপিলের রায়ে মীর কাসেমের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আপিল নাকচ করে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ই বহাল রাখা হয়।

এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে হত্যার দায় থেকে এই জামায়াত নেতা অব্যাহতি পেলেও ১১ নম্বর অভিযোগে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডই বহাল থাকে।

২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন মীর কাসেম আলী।

এর আগে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা মোট ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয়। এগুলো হলো ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ। এর মধ্যে দুটিতে (১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগ) মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চারটি অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

১১ নম্বরে রয়েছে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ছয়জনকে আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। এই অভিযোগে বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ১২ নম্বর অভিযোগে রয়েছে রঞ্জিত দাস ও টুন্টু সেনকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ। এ অভিযোগে বিচারকদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়। ১১ ও ১২ নম্বর ছাড়া বাকি ১২টিই অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ ।

প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে ২ নম্বর অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ৩, ৪, ৬,৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে তাকে সাত বছর করে মোট ৪২ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই আটটি অভিযোগে তাকে সর্বমোট ৭২ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। তবে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস (অব্যাহতি) দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলের নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মীর কাসেম আলীর বিচার শুরু হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১ জুন ২০১৬

Related posts