September 23, 2018

প্যারিস ও ব্রাসেলস হামলার মুল হোতা গ্রেফতারঃ কে এই আব্রিনি?

নাজমুল হোসেন, লন্ডন থেকেঃ  আজ শুক্রবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গত বছরের নভেম্বরে চালানো প্যারিস হামলার মূলহোতা মোহাম্মদ আব্রিনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার বেলজিয়ামের গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

পশ্চিম ব্রাসেলসের আন্ডারলেক্ট এলাকায় তার এ গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। পুলিশ গতকালই তার একটি ভিডিও প্রকাশ করে তার খোজ দেয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আবেদন জানিয়েছিল। ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, আব্রিনি খুব শান্তভাবে বিমানবন্দর থেকে ব্রাসেলস শহরের দিকে যাচ্ছে, যেখানে আতঙ্কিত মানুষ পাগলের মতো দৌড়াচ্ছিল শহরের দিকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য।

শুধু প্যারিস হামলাই নয়, গত ২২ মার্চ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে হামলার সাথেও সে জড়িত বলে বেলজিয়ান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছে।

বেলজিয়ামের গণমাধ্যমগুলোকে সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে হামলার আগ মুহূর্তে সিসিটিভি ক্যামেরায় যে লোকটিকে সাদা টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে সে লোকটাই গ্রেফতারকৃত আবরিনি। তবে সরকারি আইনজীবী কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ব্রাসেলসের বিমানবন্দর ও মেট্টো রেলস্টেশনে বোমা হামলায় ৩২ জন লোক নিহত হয়। এছাড়া গত বছরের ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আইএসের হামলায় ১৩০ জন নিহত হয়েছিল।

গত বছর প্যারিস হামলার পর ভিডিও ফুটেজে আরেক হামলাকারী গ্রেফতার হওয়া সালাহ আব্দেসলামের সঙ্গে আবরিনিকে গাড়িতে উঠতে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই ইউরোপের মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় তার নাম ছিল।

এছাড়া চার মাস আগে মরক্কো বংশোদ্ভূত বেলজিয়ানের নাগরিক ৩১ বছরের আবরিনির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।গ্রেফতারি পরোয়ানা তাকে একজন ভয়ানক ও সম্ভবত অস্ত্রধারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

ইউরোপের পুলিশ তার অবস্থান বা গতিবিধি হারিয়ে ফেলেছিল, কিন্তু ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে হামলার পর স্কেয়ারবেক (ব্রাসেলসের একটি ডিসট্রিক্ট) নামক স্থানের একটি ফ্ল্যাটে তার ডিএনএ পাওয়া যায় যেখানে বিমানবন্দরে হামলাকারীরা বসবাস করতো। এ এলাকা থেকে বিমানবন্দরে হামলাকারীরা একটি ট্যাক্সি ভাড়া করায় পুলিশ পড়ে এ ফ্লাটের খোজ পায়। তখনই বুঝা যায় যে, প্যারিস হামলার সাথে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার বা হামলাকারীদের মধ্যে যোগসূত্র আছে।

সে অবশ্য পুলিশের কাছে আগেই একজন চোর ও মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত ছিল। জানা যায়, গত বছরের গ্রীস্মে সে সিরিয়া গিয়েছিল।সেখানে তার  ২০ বছর বয়স্ক ছোট ভাই সোলেয়মান থাকতো। সে অবশ্য সিরিয়ায় ২০১৪ সালে মারা যায়। সোলেয়মান আইএসের ফ্রেন্স ভাষার শাখায়  আব্দুল হামিদ আবাউদের নেতৃত্বে কাজ করতো।  আব্দুল হামিদ আবাউদ গত বছরের নভেম্বরে চালানো প্যারিস হামলায় পুলিশের হাতে নিহত হয়।

মোহাম্মদ আব্রিনি সিরিয়া ছাড়াও কয়েকবার যুক্তরাজ্যের বারমিংহামে এসেছিল। এবং সন্দেহমুলক কাজের জন্য কয়েকজনের সাথে দেখা করেছিল। এখানকার একটি স্টেডিয়ামে সে ছবিও তুলেছিল।

হামলার সাথে জড়িত অনেককে ধরলেও ইউরোপের অনেক দেশ আবারো হামলার সম্ভাবনায় সর্বচ্চো সতর্কতাবস্থায় রয়েছে।বিশেষ করে আইএস কর্তৃক সম্প্রতি সম্ভাব্য তিনটি  শহরে নাম উল্লেখ করে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর থেকে।

Related posts