November 19, 2018

প্যানেলভুক্ত সব শিক্ষক এখনই নিয়োগ পাচ্ছেন না!

ঢাকাঃ  নিয়োগ বঞ্চিত প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে মানববন্ধন সাবেক রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিলেও এখনই সবাই নিয়োগ পাচ্ছেন না। নতুন জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবাইকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ‘পঞ্চম পদ’ নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করেও সবাইকে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। নিয়োগে চরম অনিয়ম হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে গত ৯ জুন নিয়োগের নতুন নির্দেশনা দিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে গত ৬ জুন জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়ের শূন্য পদে প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের মেধাক্রম অনুযায়ী সাতদিনের মধ্যে নিয়োগ দিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। তবে ওই চিঠিতে নতুন সৃষ্টি হওয়ার শূন্য পদের বিষয়ে কিছু বলা না থাকায়, মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিস এ পদে প্যানেলভুক্তদের নিয়োগ দিচ্ছে না।এতে নিয়োগে বেশ জটিলতা দেখা দেয়।

সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্যানেলভুক্ত সবাই এ দফায় নিয়োগ পাবে না বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। হাইকোর্টের রিটে জয়ীদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও মেধাক্রম অনুয়ায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিয়োগবঞ্চিতরা। তারা বলছেন,নিয়োগে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না, হাইকোর্টকে অবমাননা করা হচ্ছে।

নিয়োগবঞ্চিত প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা বলেন,বর্তমানে ১৭ হাজার ৪৪৪টি পদ খালি রয়েছে। আবার ২২ হাজার ৯২৫ টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সে হিসেবে প্যানেলভুক্ত নিয়োগ প্রার্থী হিসেবে অপেক্ষমান ২৮ হাজার ৬১১ জনকে নিয়োগ দিলেও ১২ হাজার পদ খালি থাকে। কিন্তু নিয়োগে অনিয়ম করায় প্রায় ৮ হাজার প্রার্থী নিয়োগবঞ্চিত থাকছেন।

জানা যায়, ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনকে নিয়োগের জন্য একটি প্যানেল গঠন করা হয়। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার জনকে নিয়োগ দেয় সরকার।

সবাইকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ২২ হাজার ৯২৫টি স্কুল জাতীয়করণ হওয়ায় প্যানেলভুক্তদের নিয়োগ স্থগিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কেননা, প্যানেলভুক্তরা সবাই ছিল বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য বাছাই করা। সুতরাং তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাবেন না। পরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা ২৮ হাজার ৬১১ জন প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করে। এসময় ৪২৮টি রিট করে ১৬ হাজার প্রার্থী। হাইকোর্ট ১৬ হাজার প্রার্থীর পক্ষেই রায় দেয়। হাইকোর্ট গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেয় রিট জয়ী ১৬ হাজার শিক্ষককে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ৬০ কর্মদিবস পার হয়ে গেলেও ওই দফায় প্রার্থীদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। প্যানেলভুক্তরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর আদালত অবমাননা করেছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান গত ৬ জুন সংসদে বলেন,প্যানেলভুক্ত সবাইকে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু আদালতের রায় এবং মন্ত্রীর বক্তব্য উপেক্ষা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ২৮ হাজারের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী ১৭ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন। এতে করে রিট জয়ী ১৬ হাজার শিক্ষকের মধ্যে ৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বঞ্চিত হচ্ছেন।

আন্দোলনরত হাইকোর্টে রিটে জয়ী হওয়া এক প্রার্থী বলেন, হাইকোর্টের রায় অবমাননা করে অধিদফতর নিয়োগ দিচ্ছে মেধানুযায়ী। আমরা যারা চার বছর ধরে মামলা লড়লাম, রায় পেলাম তারাই বঞ্চিত হচ্ছি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই নিয়োগ দিতে গিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা দেখছেন, প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের চেয়ে পদ কম। তাই পদ খালি ও সৃষ্টির সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে ২০১৭ সালের মধ্যে সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়োগ দিতে চাই। এ বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করব।’

Related posts