November 19, 2018

পৌর নির্বাচনের জয়-পরাজয়

বিভুরঞ্জন সরকার

৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে, দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে রাজনীতি-সচেতন সকলের মনেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় এবং নানা অভিযোগ-অনুযোগ তোলা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকায় নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হয়েছে।

নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার যে আশঙ্কা বিভিন্ন মহল থেকে করা হয়েছিল, বাস্তবে সে রকম হয়নি। তবে কিছু কিছু জায়গায় তেমন ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যুও হয়েছে। গোলযোগের কারণে কয়েকটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তারপরও নির্বাচনটি অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন না অনেকেই। বিশ্লেষকরা একে ‘মন্দের ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন।

আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘শতভাগ ভালো’ নির্বাচন অনুষ্ঠান খুব সহজ কাজ নয়। বিএনপি যেভাবে একে প্রহসনের নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে তার সঙ্গে একমত হবেন না অনেকেই। বিএনপি বলেছে, উৎসবমুখর পরিবেশ তো দূরের কথা, মারামারি, সংঘর্ষ, গোলাগুলি, সহিংসতায় পুরো নির্বাচন ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিএনপির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় না। ৩ হাজার ৫৫৫টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি প্রায় দুশ কেন্দ্রে সহিংসতা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ করেছে। এই অভিযোগ সত্য ধরা হলেও শতকরা ৬ ভাগেরও কম কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে পুরো নির্বাচনটি ট্র্যাজেডি বা প্রহসনের বলে দাবি করলে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি অসম্মান বা অবজ্ঞা প্রকাশ করা হবে।

৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনটি সব দিক থেকে আদর্শ বলা না গেলেও এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার মতো নয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে কোনো নির্বাচনই এর চেয়ে ভালো হয়নি। ভবিষ্যতে তারা ক্ষমতায় গেলেও এর চেয়ে ভালো নির্বাচন করতে পারবে বলে মনে হয় না। অথচ দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের পরের দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে পৌর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ভয়ভীতির পরিবেশে জোরপূর্বক বিএনপি-প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে। কিন্তু তাই বলে সে সব ঘটনা সামগ্রিক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার মতো নয়। বিএনপি চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এটা সব মহলেই প্রশংসিত হয়েছে। এখন যদি নির্বাচন নিয়ে তাদের সমালোচনা, প্রতিবাদ ইত্যাদি উত্থাপনের পরও ফলাফল মেনে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে নিজেদের পরিচালিত করে, তাহলে সেটাই হবে বিএনপির জন্য লাভজনক ও দেশের জন্য মঙ্গলময়।

পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া বিজয় পেয়েছে। এই ফলাফল খুব বেশি অপ্রত্যাশিত ছিল না। বিএনপি ছাড়া আর কেউ এটা মনে করেনি যে, পৌর নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। সরকারি দল আশা করেছিল, তারা ২০০ থেকে ২১০টি পৌরসভায় জয় পাবে। কিন্তু তারা ১৮০টি পৌরসভায় জয়ী হয়েছে। ১৭টি পৌরসভায় জয় পেয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

অন্যদিকে নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট বিএনপির প্রার্থীরাই পাবে। কোন বিবেচনা থেকে ওরা এই ভোটের এই হিসাব দিয়েছিল সেটা আমরা জানি না। কিন্তু এটা কারও অজানা নয় যে, দেশে ৮০-৯০ শতাংশ ভোট কখনও বিএনপি বা আওয়ামী লীগের নয়। দুই দলেরই প্রচুর সমর্থক আছে, ভোটও আছে। কিন্তু সেটা ৮০:২০ কখনও নয়। নৌকা ও ধানের শীষের লড়াইয়ে এক মার্কা এগিয়ে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য মার্কা পিছিয়ে থাকে। এবার নৌকা এগিয়েছে। নৌকার জনপ্রিয়তার পাল্লা ভারি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ভোটের আগে সবাই জয়ের আশা করে। বিএনপিও করেছে। কিন্তু ভোটের পরেও যদি জয় না পেয়ে পুরো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হয় তাহলে সেটা রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ছাড়া আর কিছু হয় না। আমাদের দেশে যে কোনো নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হয়ে থাকে। সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাচনের পরিবেশ ছিল সুশৃক্সখল, শান্তিপূর্ণ। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও ছিল। কয়েকটি ক্ষেত্রে এই অবস্থার ব্যত্যয় ঘটেছে। সে রকম না হলেই ভালো হত।

তবে বিএনপি জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে আর আওয়ামী লীগ জিতলে সেটা হবে প্রহসনের নির্বাচন- এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে গণতান্ত্রিক রাজনীতি অগ্রসর করে নেওয়া যাবে না।

পৌর নির্বাচনের আগে ২৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেছিলেন, ‘‘আপনারা সবাই মিলে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তি যে কোনো স্বৈরশাসকের অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী যুদ্ধে অবিচল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছি।’’

একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ভিন্ন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘আমি খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করব, নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত, ভোট গণনা পর্যন্ত থাকুন। নির্বাচন বয়কটের মতো কিছু করবেন না।’’

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী যুদ্ধে অবিচল থাকার যে অঙ্গীকার বেগম জিয়া ব্যক্ত করেছিলেন তিনি তা রক্ষা করেছেন। এভাবে সৈয়দ আশরাফের অনুরোধও রক্ষিত হয়েছে। এটা আমাদের দেশের রাজনীতির জন্য একটি বড় ঘটনা।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নির্বাচন একটি মুখ্য উপাদান। অথচ নানা উছিলায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা কিংবা অংশ নিলেও মাঝপথে রণে ভঙ্গ দেওয়ার একটি খারাপ প্রবণতা বিএনপির মধ্যে প্রবল হয়ে উঠেছিল। বিএনপি যে এই খারাপ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য।

নির্বাচনের ফলাফল যদি বদলে দেওয়া হত কিংবা জোরপূর্বক বিএনপি-প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হত, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হত। এমনকি স্থানে স্থানে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটত। কিন্তু দেশের কোথাও তেমন গণঅসন্তোষের খবর জানা যায়নি। মানুষ এটা মনে করেনি যে, নির্বাচনে তারা যে রায় দিয়েছে সরকার তা পাল্টে দিয়েছে।

বিএনপির দাবি অনুযায়ী সত্যি যদি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার তৈরি হত, তাহলে বেগম জিয়ার আহ্বান শুনে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে মানুষ সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের ভোটের মর্যাদা রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করত। সে রকম কোথাও হয়নি। বড় ধরনের অনিয়ম মানুষ প্রত্যক্ষ করেনি বলেই নির্বাচনের পর সব জায়গায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থেকেছে। বেগম জিয়াকে মানুষের এই মনোভাব বিবেচনায় নিতে হবে।

পৌর নির্বাচন সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। সবগুলো পৌরসভায় বিএনপি-প্রার্থী জয়লাভ করলেও বেগম জিয়া ক্ষমতায় যেতে পারতেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব সময় জাতীয় রাজনীতির বাইরে স্থানীয় ইস্যুগুলোই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এলাকার উন্নয়ন যে প্রার্থীর পক্ষে করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়, তার পক্ষেই ভোটাররা ঝুঁকে থাকেন। সে জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দলের সমর্থকরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন।

সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে এ রকম ঘটেছে বলে মনে হয়। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের বিস্ময়কর উন্নতি হচ্ছে। মানুষ নিজের চোখেই সব পরিবর্তন দেখছে। মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলনের কথাও কেউ ভুলে যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা, নির্বাচনের মাত্র কদিন আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্য মানুষকে গভীরভাবে আহত করেছে। পৌর নির্বাচনে এসবের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা যায়।

আওয়ামী লীগের একচেটিয়া বিজয় ‘জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া’ বলে মনে করে বিএনপি যদি পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করে তাহলে ভুল করবে। তাদেরকে এটা স্বীকার করতে হবে যে, রাজনীতিতে তারা ভুল করেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েও শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়ে যে ভুল করেছে, তার খেসারত তাদের আরও অনেক দিন দিতে হবে।

পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার সংকেত দিয়েছে। পেয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। মানুষ আশা করবে, বিএনপি এই ধারা থেকে সরে বা দূরে যাবে না।

পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবগুলো রাজনৈতিক দলেরই অনেক কিছু শেখার আছে। নির্বাচনে প্রায় ২০টি দল প্রার্থী দিয়েছিল। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী দলীয়ভাবে, দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র হিসেবে তারা ভোটের লড়াইয়ে ছিল।

ভোটের ফলাফল থেকে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া দলীয় পরিচয়ে জাতীয় পার্টির মাত্র ১ জন মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আর কোনো দলের কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি। এমনকি মহাজোটের শরীক জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজনও নির্বাচিত হননি।

অথচ স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জামায়াতের দুজন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থীদের নির্বাচিত হতে পারা খুব সাধারণ বিষয় বলে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল। এই দলের শীর্ষনেতাদের অনেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দন্ডিত ও কারারুদ্ধ। তিন জনের মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে। জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবি বিভিন্ন মহল থেকেই উঠেছে। সব মিলিয়ে তারা খুবই কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের প্রার্থীরা কীভাবে ও কেন মানুষের সমর্থন পাচ্ছে সেটা খুঁজে দেখা দরকার। দেশে এত সব সক্রিয় রাজনৈতিক দল যখন মানুষের সমর্থন লাভ করতে পারছে না, তখন জামায়াত কীভাবে সেটা পারছে, তার কারণ অনুসন্ধানে ব্যর্থ হলে যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করেন তাদের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা না-থাকা সমান হয়ে যাবে।

বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যাপারে দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আছে। কেউ কেউ বলে থাকেন, মানুষ নাকি এই দুই দল থেকে মুক্তিলাভের জন্য ‘তৃতীয় শক্তি’র সন্ধান করছে। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে কী দেখা যাচ্ছে? মানুষ তো আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে আর কোনো দলের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে না। আবার যে দলের রাজনীতি দেশের জন্য, মানুষের জন্য, অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য ক্ষতিকর, সেই জামায়াতের দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না।

কেন এমন হচ্ছে, সমস্যাটা কোথায়, এটা খুঁজে বের করা খুবই জরুরি।

পৌর নির্বাচনের মধ্য থেকে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীন সংকটও চরমভাবে প্রকাশ পেয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নানা চেষ্টা-তদবির করে, বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও দলের সব বিদ্রোহী প্রার্থীকে শেষ পর্যন্ত বাগে আনতে পারেনি। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের ১৭ জন এবং বিএনপির দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ থেকে এটা বোঝা যায় যে, দল দুটো প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সুবিবেচনার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়নি। আওয়ামী লীগের এত বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়লাভ দলের জন্য একটা সতর্ক সংকেত। তৃণমূলে কারা জনপ্রিয়, কাদের প্রতি জনসমর্থনের পাল্লা ভারি সেটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জানা থাকলে এ রকম হত বলে মনে হয় না। শোনা যায়, শুধু দলীয় তথ্যের উপর ভিত্তি করে নয়, বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট বিবেচনায় নিয়েও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। তাহলে এত বিদ্রোহী প্রার্থী কীভাবে ভোটে জিতে এলেন?

বিজয়ী এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের কি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে? তাদের দলে রাখলে যেমন ভবিষ্যতে দলীয় শৃক্সখলা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, তেমনি তাদের দল থেকে বের করে দিলেও দলের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা দেখা দেবে। দল আরও জনবিচ্ছিন্ন হবে। কারণ এদের জনসম্পৃক্ততা যে বেশি সেটা ভোটের ফলাফলে সন্দেহাতীতভাবেই প্রমাণিত।

নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক ঘটনা। বেশি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে, আর কম আসন পাওয়ায় বিএনপি হেরেছে- এই সহজ হিসাবের বাইরে গিয়েও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে আমাদের দেখা উচিত এই নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে প্রভাব রাখার মতো বিশেষ কোনো উপাদান যুক্ত করতে পারল কিনা।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেদের সবলতা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে ভবিষ্যৎ নীতি-কৌশল নির্ধারণে মনোযোগী হলেই হবে রাজনীতির প্রকৃত জয়।

লেখকঃ বিভুরঞ্জন সরকার,সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts