November 17, 2018

পেসার থেকে স্পিনার হয়েই কিফের বাজিমাত

hভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বল হাতে নাজেহাল করেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে স্টিভ ও’কিফ ১৩.১ ওভার বল করে একা তুলে নিয়েছেন ছয় উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি স্পিনার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করলেন ৩২ বছর বয়সে।

আরো চমকে দেয়ার মতো তথ্য হচ্ছে, ও’কিফ তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মিডিয়াম পেসার হিসাবে! পরে ক্লাব কোচের পরামর্শে তার স্পিনার হয়ে ওঠা।

শুক্রবার ভারতের ইনিংস ১০৫ রানে শেষ হয়ে গেল বাঁ-হাতি স্পিনার ও’কিফের দাপটেই। যা দেখে উচ্ছ্বাস গোপন করে রাখতে পারেননি শেন ওয়ার্ন। ধারাভাষ্য দেয়ার কাজে তিনি পুণেতেই আছেন।

কিংবদন্তি লেগস্পিনার টুইট করলেন, ‘সক (ও’কিফের ডাকনাম) দুর্দান্ত। প্রান্ত বদল করে ছন্দ খুঁজে পেয়েছো’। সেই সাথে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না তিনি। ওয়ার্ন টুইট করলেন, ‘মাইকেল ভন এত নীরব কেন? এবার বুঝতে পারছ তোমার ছেলেরা এখানে কতটা খারাপ ক্রিকেট খেলেছিল? অস্ট্রেলিয়াকে শাসন করতে দেখে নিশ্চয়ই কষ্ট হচ্ছে।’

লাঞ্চের পর নিজের তৃতীয় স্পেলে ও’কিফের বোলিং পরিসংখ্যান? ৪.১-১-৫-৬! সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ম্যানেজান কেট হাচিনসন বলছিলেন, ‘‘ও’কিফ ক্যারিয়ার শুরু করেছিল মিডিয়াম পেসার হিসাবে। নিউ সাউথ ওয়েলসে হক্‌সবেরি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে নতুন বলে বোলিং করত। পরে ক্লাব কোচ ওকে বুঝিয়েছিল যে, ওর শারীরিক গঠন স্পিন বোলিংয়ের জন্য বেশি উপযুক্ত। ১৫ বছর বয়স থেকে বাঁ-হাতি স্পিন বোলিং শুরু করেছিল ও’কিফ।’’

অস্ট্রেলীয় স্পিনার অবশ্য সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন এক ভারতীয়কে। এস. শ্রীরাম। চলতি সিরিজে অস্ট্রেলীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসাবে কাজ করছেন তিনি। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের সময় ভারতের স্কোর তখন ৭০/৩।

ড্রেসিংরুমে ফেরামাত্র শ্রীরাম ছাত্র ও’কিফ’কে বলেছিলেন, বিরতিতে মাঠে নেমে বল করতে। যাতে পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়। আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এসে তিনি বলে গেলেন, ‘‘লাঞ্চের আগে ছয় ওভার বল করে কোনো উইকেট পাইনি। বলের গতি একটু বাড়াতে গিয়ে হাফভলি দিয়ে ফেলছিলাম। শ্রী স্যার বলেছিলেন, লাঞ্চের সময় বিভিন্ন কোণ ও সিম পজিশন নিয়ে পরীক্ষা সেরে নিতে। যতক্ষণ না স্বাচ্ছন্দবোধ করছি, বল করতে বলেছিলেন। তাতেই সাফল্য পেয়েছি।’’

মন্টি পানেসরকেও ধন্যবাদ দিচ্ছেন ভারতের প্রধান ঘাতক। দুবাইয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক স্পিনারের কাছে ক্লাস করে এসেছিলেন ও’কিফ। ‘‘মাত্র দুই দিনের ক্লাসেই মন্টি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আমার কী করা উচিত। পাশাপাশি চেন্নাইয়ে ‘এ’ দলের হয়ে সিরিজের অভিজ্ঞতাও সাহায্য করেছে,’’ বলছেন আচমকাই স্টিভ স্মিথের প্রধান বোলিং অস্ত্র হয়ে ওঠা ও’কিফ।

Related posts