September 25, 2018

পেলে মশাল না জ্বালানোয় ব্রাজিলে তোলপাড়

স্পোর্টস ডেস্কঃ আট বছর আগে বেজিংয়ের বার্ড নেস্ট স্টেডিয়াম মুগ্ধ করেছিল গোটা বিশ্বকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে। চার বছর আগে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক স্বপ্নালু করেছিল বিশ্ববাসীকে ড্যানি বয়েলের মূর্ছনায়। বেজিং কিংবা লন্ডনকে অর্থ ব্যয় ও পরিবেশনায় পেছনে ফেলতে পারেনি রিও ডি জেনিরো ঠিকই। কিন্তু বিশ্বখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়াম স্বল্প খরচে যে ভাবালু আবহের সৃষ্টি করেছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ রিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, তাতে ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত চর্বিতচর্বণ হবে জনে জনে। মানুষ আর আলোর জাদুতে রিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেভাবে প্রকৃতিকে তুলে ধরেছে আম-জনতার কাছে, যেভাবে পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের বাণী পৌঁছে দিয়েছে সবাইকে, তাতে স্যালুট পেতেই পারে! তারপরও কথা রয়ে গেছে। সমালোচনার রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন সমালোচকরা। ব্রাজিলের আরেক পরিচয় যেখানে পেলের নামে, সেই পেলেকে দেখা যায়নি অলিম্পিকের ধারেকাছে। অথচ শুরুতে শোনা গিয়েছিল অলিম্পিক মশাল জ্বালাবেন ব্রাজিল ফুটবলের ‘প্রাণপুরুষ’ পেলে।

কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর অল্প কিছু আগে পেলে জানিয়ে দেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি মশাল জ্বালাতে পারবেন না। অথচ, পার্কিনসন্স রোগ নিয়ে ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে মশাল জ্বালিয়েছিলেন ‘গ্রেট’ মোহাম্মদ আলি।

ব্রাজিল বরাবরই সোচ্চার আমাজন বন নিয়ে। বন রক্ষার জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে সেই শুরু থেকে। রিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের থিমও ছিল পরিবেশ রক্ষা ও পরিবেশ বাঁচানোর। ৬ হাজার ভলান্টিয়ার আলোর কারসাজিতে মারাকানাকে স্টেজ বানিয়ে পরিবেশন করেন আমাজন বন। লেজার শোয়ের ছন্দে বিশাল সবুজ সাম্রাজ্যের ব্রাজিলকে কীভাবে আবিষ্কার করে পর্তুগিজরা, সেটা ফুটিয়ে তোলার পর দেখানো হয় সবুজের সমারোহ। ৫০০ বছর আগের পর্তুগিজদের জাহাজ ভিড়ানো থেকে আজকের সাম্বার ব্রাজিল, ফুটবলের ব্রাজিল হয়ে ওঠার ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অসাধারণভাবে।

আলো-আঁধারির খেলার পাশাপাশি ছিল অন্ধকারও। মাঠে যখন প্রায় ৮০ হাজার দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ, তখন স্টেডিয়ামের বাইরে হাজার তিনেক ব্রাজিলিয়ান প্রতিবাদ জানান অলিম্পিক আয়োজনের। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, অঢেল অর্থ খরচ করে অলিম্পিক আয়োজনের কোনো কারণ নেই। এই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহার করা উচিত ছিল। তবে সব সমালোচনাকে পেছনে ফেলেছে পেলের অনুপস্থিতি। আতশবাজির কারসাজি ও লেজার শোয়ের ছন্দের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অসাধারণ হয়ে উঠত, যদি পেলে মশাল জ্বালাতেন। কিন্তু পেলে এলেন না পেশীতে টান পরার কথা বলে। ৭৫ বছর বয়স্ক পেলে অনুষ্ঠান শুরুর ঘণ্টা কয়েক আগে জানিয়ে দেন অসুস্থতার জন্য আসবেন না। নিজের ঘনিষ্ঠ এক চ্যানেলকে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘স্পন্সর বা কারও চাপে সরে দাঁড়াইনি। শরীর এতটাই খারাপ যে মাঠে বসে থাকা এবং মশাল জ্বালানো আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল।

একমাত্র ঈশ্বরই জানেন আমার শারীরিক অবস্থা কতটা খারাপ।’ শোনা যায়, পেলে মশাল জ্বালাননি তার দুই মার্কিন স্পন্সরের চোখ রাঙানিতে। পেলে না আসায় শেষ মূহূর্তে মশাল জ্বালান ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে ম্যারাথনে ব্রোঞ্জজয়ী ডি লামার। মশাল না জ্বালানোয় সমালোচনার তীক্ষবাণে বিদ্ধ হচ্ছেন পেলে। সমালোচকদের সামনে উদাহরণ গ্রেট বক্সার মোহাম্মদ আলি। ১৯৯৬ সালে আটলান্টা অলিম্পিকে শত অসুস্থতা সত্ত্ব্বেও মশাল জ্বালিয়েছিলেন প্রয়াত গ্রেট আলি। ঘুমিয়ে পড়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন না জ্যামাইকান স্টার উসাইন বোল্টও। মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন গলফার ছিদ্দিকুর রহমান। রিও-তে পরের দুই সপ্তাহে জন্ম নিবে বহু তারকার। কিন্তু পেলের অনুপস্থিতি ছাপিয়ে গেছে সবকিছুকে।

Related posts