November 17, 2018

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া ৪টি মহাদেশ যা অনেকেরই অজানা !

Continent-MuktoMoncho

পৃথিবীতে মহাদেশ মোট কয়টি? প্রশ্নটি শুনলেই হয়তো আপনার মাথায় খেলা করবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা কিংবা অ্যান্টার্কটিকার হিসেব।

সত্যিই তো! এর বাইরে আর মহাদেশ আছে নাকি? না, নেই। কিন্তু এখন নেই তার মানে তো এটা না যে কখনোই ছিল না। ভাবছেন আসলেই ছিল নাকি? হ্যাঁ! সত্যিই ছিল। আর তাও একটা দুটো নয়। চার চারটে নামের মহাদেশ ছিল আমাদের এই পৃথিবীতে যারা কোনো না কোনো ভাবে হারিয়ে গিয়েছে সময়ের গর্ভে। আর আজকের মুক্তমঞ্চের আয়োজন এই হারিয়ে যাওয়া মহাদেশ গুলোকে নিয়েই!

১. হাইপারবোরিয়া

অনেক বেশি উত্তরে অবস্থিত এই মহাদেশটির সম্পর্কে জানা যায় কিছু লেখা থেকে। সেখানে বলা হয় হাইপারবোরিয়ানদের আবাসভূমি এই হাইপারবোরিয়া মহাদেশের কথা। যেখানে ২৪ ঘন্টা সূর্য থাকতো আকাশে। বছরের একটা দিন কেবল সূর্য ডুবত এবং অত্যন্ত অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে তাদের এক দিনের পরিমাণ এখনকার সময়ের হিসেবে এক বছর! সময়ের হিসেবে এক হাজার বছর বাঁচতো এখানকার মানুষেরা।

আর এর কারণ হিসেবে তাদের ভেতরে রোগ ও যুদ্ধের অভাবের কথাই উল্লেখ করা হয়। সেই সাথে স্বর্গীয় রক্তের অধিকারী হওয়ার খেতাব তো রয়েছেই। বেশ কয়েকবার আক্রমণের শিকার হতে গিয়েও হয়নি মহাদেশটি। সূর্যের হিসেব অনুযায়ী এখনকার আর্কটিক- সার্বিয়ার দিকটাকে হাইপারবোরিয়ার অংশবিশেষ হিসেবে মনে করা হয়। কেবল তাই নয়, মনে করা হয় একানকার বাসিন্দারা ছিল মহাশূণ্যের অন্য কোন গ্রহ থেকে আসা প্রাণী। তবে সত্যি যেটাই হোক না কেন, এখনো অব্দি মহাদেশটির মুছে যাওয়ার কারণ বের করা যায়নি।

২. থুলে

গ্রীস আবিষ্কারক পিথেয়াস প্রথম আবিষ্কার করেন উত্তর ব্রিটেনের এই মহাদেশটিকে। লেখকের কথানুযায়ী পরিচিত কিছু দ্বীপের কাছ থেকে টানা ছয়দিন দাঁড় বাওয়ার দুরত্বে আর্কটিক সার্কেলের কাছেই কোথাও অবস্থিত মহাদেশটি। প্রথমদিকে কেউই পিথেয়াসের কথাকে আমলে নেয়নি। কারণটা ছিলেন পিথেয়াস নিজেই। অনেক রঙ মিশিয়ে গল্প বলবার খ্যাতি ছিল তার।

তবে এর পর পাওয়া বেশ কিছু প্রমাণ সবাইকে ভাবতে সাহায্য করে যে আসলেই হয়তো থুলে বলে কিছু একটা ছিল। কিংবা এটাও হতে পারে যে বর্তমানের আইসল্যান্ড ও আশপাশের কিছু স্থানকেই থুলে বলে ভেবেছিলেন পিথেয়াস। তবে আর যে যাই বলুক না কেন, নাজিদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে পিথেয়াসের কথা সত্যি। থুলে নামের একটা মহাদেশ ছিল যেটাতে বসবাস করত অসাধারণ শক্তির সব মানুষেরা। অনেকে একে আর্য জাতির উত্পত্তিস্থল হিসেবেও ভেবে থাকেন।

৩. লেমুরিয়া

ব্যাপারটা প্রথম ভাবা হয় যখন লেমুরবাসীদের হাড় পাওয়া যায় ভারত ও মাদাগাস্কারের মতন দুটো স্থানে। বিজ্ঞানী ফিলিপ স্ক্যাটলার দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাবার চেষ্টা করেন আর ধারণা দেন যে একটা সময় ভারত আর মাদাগাস্কার এক ছিল। সত্যি বলতে কি ফিলিপই প্রথম এমন ভাবেননি। ১৭০০ ও ১৮০০ শতকের দিকে এমন ধারণা ছিল আরো অনেকেরই। তবে সেগুলো অতটা জনপ্রিয়তা পায়নি।

কিন্তু ফিলিপ পুরো ব্যাপারটাকে অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তোলেন। সবাইকে ভাবতে শেকান যে মাদাগাস্কার আর ভারতের মাঝখানে একটা যোগাযোগস্থল ছিল। যেখানটা হঠাৎ পানির তলায় ডুবে গেলে লেমুরিয়া মহাদেশ ভেঙে যায়। ভারত চলে যায় অনেক অনেক দূরে। লেমুরিয়া নিয়ে অনেক অনেক গল্প লেখা হলেও আজ অব্দি সেসবের প্রমাণ মেলেনি কারো কাছে।

৪. মু

অগাস্টাস লি প্লোঞ্জিয়নের শখ ছিল ভ্রমণ আর লেখালেখি। সেটা করতে গিয়েই একবার মায়ান কিছু ধাঁধার মানে বের করে ফেলার দাবী করেন আগাস্টাস। আর সেখানকার লেখা অনুযায়ী মু বলে এক হারিয়ে যাওয়া মহাদেশের কথা বলেন তিনি। যেটার অবস্থান ছিল অতলান্তিক মহাসাগরে। গ্রিস ও মিশরের চাইতেও পুরোন এই মহাদেশের হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে হঠাৎ হওয়া এক ভূমিকম্পকে দায়ী করেন তিনি।

জেমস চার্চওয়ার্ড নামক আরেক ব্যাক্তি কিছু নথিপত্র থেকে খুঁজে পাওয়া তথ্য নিয়ে আসেন সবার সামনে। সেখানে তিনিও নিশ্চিত করেন মু নামক মহাদেশটির কথা। ৬০ লক্ষ লোকের আবাসস্থল এই মু মহাদেশটিকে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত বলে তুলে ধরেন তিনি। অনেকেই যদিও এখন মু মহাদেশের ধ্বংসাবশেষ জাপানের উয়োনাগুনিতে খুঁজে পাওয়ার দাবী জানান, এর সত্যিটা পুরোপুরি জানা হয়নি কারোরই

 

Related posts