November 21, 2018

পুলিশ ও যুব সেচ্ছাসেবীর সহযোগিতায় নারী ও শিশু উদ্ধার


মো: জহিরুল ইসলাম,পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীতে শশুর বাড়ির লোকজন নির্মমভাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ বাড়িতে আটকে রেখে শারিরিক ও মানুষিক ভাবে  নির্যাতিত এক নারী ও শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও যুব সেচ্ছাসেবীরা। শনিবার তাদের অসুস্থ অবস্থায় নির্যাতিতার স্বামীর বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়।

জেলার সদর উপজেলার ৫নং কমলাপুর ইউনিয়ন চরবলইকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো: গনি মৃধার মেয়ে মহিমা আক্তারকে পাশর্^বর্তী গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে একই গ্রামে ফারুক ঢালীর ছেলে মনজু ঢালীর (বর্তমান লেবানল প্রবাসী) সাথে বিবাহদেন। মনজু বিদেশ যাওয়ার পর থেকে তার শশুর বাড়ির লোকজন দীর্ঘ দিন যাবৎ মহিমাকে শারিরিক ও মানুষিক ভাবে  নির্যাতন করে আসছিল। তাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে মহিমা ও তিন মাসের নবজাতক মেয়ে শারিরিক অসুস্থতায় ভোগলেও তারা কোন ধরনের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে নাই। এদিকে মহিমা কোন ভাবেই বাবা, মাসহ কারো সাথে যোগাযোগ না করতে পেরে লিখিত চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি তার দুর সম্পর্কের এক আত্মীয়কে অবহিত করেন।

শনিবার সকালে মহিমার বাবা জাতিসংঙ্গ জনসংখ্যা তহবিলের নারী নির্যাতন ও শিশুবিবাহ প্রতিরোধে গঠিত পটুয়াখালী লোকাল ইয়ুথ পার্লামেন্টের সদস্যদের অবহিত করলে যুব স্পীকার  মো: জহিরুল ইসলাম ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন প্রতিনিধি মো: বশিরুল ইসলাম মহিমার বাবা কে গলাচিপা থানায় নিয়ে আসে। মহিমার বাবা বিষয়টি লিখিত ভাবে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আ: রাজ্জাক মোল্লাকে অবহিত করলে তিনি সাথে ডিওটিরত এসআই মো: সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম পাঠিয়ে ও যুব সেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় মহিমা ও মেয়েকে দুপুর ১টার দিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তার বাবার সাথে পটুয়াখালী প্রেরন করে। উদ্ধার করার সময় মনজুর মা শান্তী ও বোন লিমা, লিজা পুলিশ এবং সেচ্ছটসেবীদের গলাগাল ও হামলা করে।

এসময় মেয়ের বাবা গনি মৃধা পুলিশকে বলেন, আমি যাদের সহযোগীতায় আমার মেয়েটিকে পেয়েছি তাদেরকে ধন্যবাদ ও চিরকৃতজ্ঞ। এবং মহিমা তাকে ও তার নবজাতকে ডাইনির হাত থেকে বাচানোর জন্য পুলিশের ছালাম করেন।

মো: জহিরুল ইসলাম ও মো: বশিরুল ইসলাম জানান, আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পুলিশকে তথ্য দিয়েছি, মেয়ের বাবা কে সহযোগিতা করেছি। আমরা জানি পুলিশ এখন নারী নির্যাতন বিষয় কাজ করছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আ: রাজ্জাক মোল্লা বলেন, বাংলাদেশ সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধে খুব শক্ত অবস্থানে আছে। নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, নির্যাতিতার পাশে দাড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। তবে পুলিশকে যথাসময় তথ্য দিয়ে যে কোন ধরনে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ তিনি দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সকল কাজে জনসাধারনের সযোগিতা কামনা করেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts