September 24, 2018

পুলিশদের পেটালো যুবলীগ কর্মীরা

নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের গাড়ি রিকুজেশনকে কেন্দ্র করে পুলিশের ২ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়েছে যুবলীগ কর্মীরা। এ সময় পুলিশের কয়েকটি দলকে ঘন্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। বন্ধ করে দেয় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার তারাব পৌরসভার বিশরোড গোলচত্ত্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এদিকে যুবলীগ নেতাকর্মীরা দাবী করেছে, পুলিশের লাঠিপেটায় যুবলীগ নেতা আহত হওয়াকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-পুলিশ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় যুবলীগ নেতাকর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘন্টা ব্যাপী অবরোধ ও দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

নারায়ণগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এএসপি বদরুল আলম জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে তার নেতৃত্বে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যে গাড়ি রিকুজেশনের জন্য তারাব বিশ^রোড গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় একটি প্রাইভেট গাড়ি আটক করলে তারাব পৌর যুবলীগের সভাপতি আব্দুল আউয়াল গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার জন্য সুপারিশ করতে আসেন। হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট জিয়াউদ্দিন জিয়া তার অনুরোধ রক্ষা না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আব্দুল আউয়াল। সে হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট জিয়া সহ একজন কনষ্টেবলকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা ট্রাফিক পুলিশের একটি দল হাইওয়ে পুলিশের সহযোগীতায় এগিয়ে এসে আব্দুল আউয়ালকে এএসপি বদরুলের সামনে নিয়ে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের দুটি দলকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

সংবাদ পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের আলাদা তিনটি টহলদল অবরুদ্ধ পুলিশদের ছাড়িয়ে নিতে ঘটনাস্থলে গেলে যুবলীগ কর্মীরা তাদের উপর আক্রমন করে বসে। এতে রূপগঞ্জ থানায় এসআই ফরিদ হোসেন, শাজাহান মিয়া, পুলিশ কনষ্টেবল খোরশেদ আলম ও কেবল চন্দ্র সরকার গুরুতর আহত হয়। ৪ পুলিশ সদস্যর আহত হওয়ায় বিষয়টি স্বীকার করে রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, পুলিশ এ্যাষ্টলের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের পরামর্শমতে আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা আব্দুল আউয়াল জানান, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জিয়া ও টিআই তাছলিম কাগজপত্র দেখার নামে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশির নামে চাঁদাবাজি করছিলেন। এসময় একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। মাইক্রোবাসের চালক মোহাম্মদ আলীর কাছে ২ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মোহাম্মদ আলীকে লাঞ্চিত করেন তারা। এতে প্রতিবাদ করায় যুবলীগ নেতা আব্দুল আউয়ালকে লাঠিপেটা করে তাকে আহত করে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা।

সূত্রঃ বিডিসংবাদ
দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/২০ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts