November 20, 2018

পুত্রের দায়ের কুপে পঙ্গু বিমাতাঃ মামলার পরিবর্তে আপোষের প্রস্তাব দিচ্ছে দারোগা!

এম লুৎফর রহমান
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
সোহেল নামে এক কুলাঙ্গার সৎ পুত্র দা দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে সৎ মা নূরজাহান বেগমকে পঙ্গু করে দিয়েছে। ৩টি সন্তান-সন্ততি নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে বস্ত্রহীন ঘর বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে নূরজাহান। থানায় মামলা নেয়নি, কোর্টে মামলা করার পরও পুলিশ আসামী গ্রেফতার করছে না। উপরন্তু মামলা দায়েরের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সৎ পুত্র সোহেল, স্বামী রাজু মিয়া এলাকার মেম্বার নিয়ে গিয়ে তাকে বাড়ী থেকে বের হয়ে যাবার জন্য চাপ দিচ্ছে। এই ঘটনাটি ঘটছে রায়পুরা উপজেলার মরজাল বটিয়ারা গ্রামে।

জানা গেছে, একই উপজেলা ও গ্রামের রাজু মিয়া একজন লম্পট প্রকৃতির লোক। তার এক স্ত্রী ও ৪টি সন্তান সন্ততি রেখে পূর্বের বৈবাহিক অবস্থা গোপন করে পার্শ্ববতী গিলাবের গ্রামে ছায়ের উদ্দিনের কন্যা নূরজাহানকে প্ররোচনা দিয়ে বিয়ে করে। শুধু তা-ই নয় সে নূরজাহানকে বিয়ের সময় রেজিস্ট্রি কোন কাবিনও করেননি। এ অবস্থায় সে নূরজাহানকে নিজ বাড়ীতে না নিয়ে বিভিন্ন বাড়ীতে রেখে ঘর সংসার করতে থাকে। এরই মধ্যে তার গর্ভে রাজু মিয়ার ৩টি সন্তান জন্ম নেয়। সন্তানদের দেখিয়ে নূরজাহান স্বামী রাজুকে বার বার অনুরোধ উপরোধ করেও রাজুর নিজ বাড়ীতে যেতে পারেনি। উপরন্তু রাজু মিয়ার পূর্ববতী সংসারে স্ত্রী জ্যোসনা বেগম পুত্র সোহেল তাকে রাজু মিয়ার সংসার ত্যাগ করার জন্য হুমকি ধমকি দিতে থাকে।

এতে অসহায় নূরজাহান ৩ সন্তান নিয়ে এক দুরাবস্থার মধ্যে পতিত হয়। ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে রাজু মিয়ার পূর্ববতী সংসারের স্ত্রী জোসনা বেগম, পুত্র সোহেল, শরিফ, রহিমা আক্তার মিলে ধারালো অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে নূরজাহানের বাসায় গিয়ে হামলা চালায়। তারা প্রথমে লাঠি সোটা দিয়ে নূরজাহানকে মারধোর করে। পরে সৎ পুত্র সোহেল ধারালো দা দিয়ে নূরজাহানকে এলোপাতারি কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত যখম করে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে। তার মাথা, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক যখম প্রাপ্ত হয়ে নূরজাহান মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে মারা গেছে মনে মরে ঘরের ভিতর ফেলে রেখে চলে যায়। এই অবস্থায় আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়পুরা তুলাতলী হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে রেফার্ড করে।

পরে এখানে দীর্ঘ দুুই মাস চিকিৎসা করে হাত-পায়ের ভিতর কৃত্রিম স্টিলের হাড় ভরে জোড়া দিয়ে সেলাই করে। এতে সে সুস্থ্য হয়ে উঠলেও এখন তার হাত-পা পঙ্গু হয়ে গেছে। এ অবস্থার পর তার স্বামী রাজু মিয়া, নূরজাহান ও তার সন্তানদেরকে কোন ভরনপোষণ দিচ্ছে না। সৎ পুত্র সোহেলের হামলার পর স্বামী রাজু মিয়া তাকে দেখতেও যায়নি। এ অবস্থায় দীর্ঘ দিন অপেক্ষায় থাকার পর নূরজাহান বেগম রায়পুরা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু রায়পুরা থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে তার মামলা রুজু করেনি। সম্প্রতি নূরজাহানের মা চিনিমা বেগম বাদী হেয় নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সৎপুত্র সোহেল ওরফে জুয়েল, রাজু মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম, শরীফ ও রহিমা আক্তার নামে ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত বাদী পক্ষের বক্তব্য শুনানী শেষে রায়পুরা থানাকে সরাসরি মামলা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশ থানায় যাবার পর মামলা রুজু করা হলেও পুলিশ অদ্যাবধি আসামীদেরকে গ্রেফতার করছে না। উপরন্তু আসামী সোহেল তার পিতা রাজু এলাকার মেম্বার আলতাফ হোসেনকে নিয়ে নূরজাহানের বাসায় গিয়ে তাকে বাসা ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। এব্যাপারে রায়পুরা থানার ওসি আজহারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আসামী ধরবে বলে জানান। কিন্তু মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী ধরার পরিবর্তে আসামীদের সাথে নিয়ে নূরজাহানের বাসায় গিয়ে মামলা আপোষের প্রস্তাব দিচ্ছে। এ অবস্থায় নূরজাহান এখন অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।

Related posts