November 17, 2018

পিলখানা সদরদপ্তর ও রিজার্ভে আঘাত একই সূত্রে গাঁথা।

আবু জাফর মাহমুদঃ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ধ্বংস করছে ওরা।বন্ধুর ছদ্মবেশে শত্রুরা খাবলে খাচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বস্ব।টেনে হিঁচড়ে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে পথে ঠেলে দেয়া রমণীর মতো ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে কেঁপে কেঁপে দুলছে আর হাঁটছে একসময়ের দুরন্ত চঞ্চলা, স্বাধীনতা যুদ্ধের বাংলাদেশ।রাজনৈতিক সরকারের ব্যবস্থাপনায় হয়ে চলছে এই বর্বরতা। রাজনীতিকরা খোলাখুলি বিবস্ত্র করেছে বাংলাদেশের রাজনীতি।রাজনৈতিক সম্ভ্রমের উপরনীচের সব পর্যায়ে নারকীয়তা চর্চা করে চলেছে তারা।ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বড় রাষ্ট্রে বিলীন করার থিউরী নিয়ে অগ্রসরমান গোষ্ঠী এই তৎপরতার পেছনে সমর্থন ও পথ করে দিচ্ছে।বাংলাদেশে সীমান্ত বাতিল করার পক্ষে শিক্ষিত গ্রুপকে নামিয়েছে তারা।

এই শক্তি নেপালে মার খেলেও ভূটানে আছে,ঘাড়ে চেপে বসে আছে তাদের।তার সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব খর্ব করতে লেগেছে কোমর বেঁধে,জিহবা বাড়িয়ে ফণা তুলে আছে বঙ্গোপসাগর দখলের জন্যে।।ভূটানে ৩ডিভিশন সৈন্যের অবস্থান রেখে সেই দেশ দখল করে আছে। গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে,বাংলাদেশে ৬ডিভিশন সৈন্যের সেনানিবাস প্রস্তুত করাচ্ছে তারা বঙ্গোপসাগর হয়ে মালাক্কা প্রনালী, ভূমধ্যসাগর হয়ে আরব বিশ্বে সুযোগ পেতে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভে আক্রমণ চালানোর যুদ্ধনীতিও একই শক্তির যুদ্ধপরিকল্পনার অনিবার্য্য ধারাবাহিকতা।বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়।

যে সব বাংলাদেশী এধারার রাষ্ট্রদ্রোহীতায় যুক্ত,তাদের সামনে আছে আরো অপরাধ এবং পেছনে আছে পাহারারত হায়েনা। দুনিয়ার অপরাধ জগতের অন্য অঞ্চলে যে অবস্থা,আমাদের অঞ্চলের অপরাধীদের পেশগত জীবনের বৈশিষ্ট্য একই। এই অন্ধকার জগতে একবার ঢুকলে বের হওয়া যায়না।বাংলাদেশের রাজনীতি ও সবার সম্মান ও জীবন এখন বড় শক্তির হাতের মুঠোয়। যে জগতে তারা গলা ঢুকিয়েছে, তা থেকে বের হওয়ার দায়ও তাদের।সামনে তাদের রাষ্ট্রদ্রোহীতা এবং পেছনে সারাক্ষণ পাহারারত হায়েনা ।উভয় দিকে টাইট অবস্থা।তারাই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কি গলা টেনে বের করতে চায়,নাকি শরীরের বাদবাকিটাও সে জগতের করে দেখবে?

এই ধারার শাসনামলেই নাম মুছে দিয়েছে সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষায় শ্রেষ্ঠ ‘রয়েল বেঙ্গল বিডি আর’ এর। রাজনৈতিক ভন্ডামীর জামদানীর নীচে টেনে এনে প্রতিরক্ষাবাহিনী ও দেশরক্ষাকে করেছে সম্পূর্ণ অরক্ষিত।এখন দেশপ্রেমের ছলনায় রাষ্ট্রের রিজার্ভ এবং রিজার্ভের তথ্য বা ডাটা লুট করে অর্থ ব্যবস্থাকেও তলাবিহীন করে দিয়ে নির্লজ্জের হাসি হাসছে তারা।কথা আসছে, রাজনীতিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নৈতিকতা আর কত নীচু হলে তারা নিজেরা বুঝবেন যে, তাদের চেয়ে নীচে বাঙালীর ইতিহাসে কেউ নামতে পারেনি?

নেতৃত্বের,দেশপ্রেমের নামে যা বাংলাদেশে বর্তমানে চলছে তার চেয়ে নীচ জঘন্য রাজনীতি বাংলাদেশ দেখেনি?এই রাজনৈতিক ক্যান্সার বাংলাদেশের অস্তিত্বে ছড়ানোর শত চেষ্টা যারা করছেন,তারা কি দেখছেন তাদের সারা শরীরেই ছড়িয়ে পড়েছে এই দুরারোগ্য রোগ? সাধারণ নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা সীমার ভেতরে বিধায় ঐরোগ তাদেরকে ছুঁতে পারেনা।

অবশেষে মানুষের অনুমানটাই সত্যের মুখ দেখতে শুরু করলো।অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত স্বীকার করলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে ব্যাংক কর্মকর্তারা অবশ্যই জড়িত। তাঁদের যোগসাজশ ছাড়া এ কাণ্ড হতে পারত না। খবর পেয়েও গভর্ণর দেশের বাইরে বাইরে ঘুরেছেন।দিল্লীতে এই বৈঠকে আমারও যাওয়ার কথাছিলো।ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তাঁকে ও গভর্ণরকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।যাবো চিন্তা করে পরে আমি যাইনি’। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক কথা বলেছেন। দুজন ডেপুটি গভর্নরের চাকরি গেছে তাঁর কারণে। বোঝাতে চাইলেন যে তিনি একা দায়ী নন। দুজনের বাইরে আরও কয়েকজনের নাম এসেছে’।প্রথম আলোকে বলেছেন তিনি একথা।তবে বিশ্বজুড়ে কথা উঠেছে বিদেশীতো আছেই,বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংযুক্তি আছে রাষ্ট্রের রিজার্ভ আত্নসাতে।

অর্থমন্ত্রীর উল্লেখিত এই স্বীকারোক্তির পর সবাই অপেক্ষা করতে পারি,সাবেক গভর্ণর আতিয়ুর রহমান সহ অন্যন্যদের কে রিমান্ডে নিয়ে তথ্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়ার সূচনা দেখতে।যদি তাতে গড়িমসি থাকে,তাতে বিশ্বাস করার যুক্তি থাকবে, তা ধামাচাপা দিচ্ছেন এবং তেমন পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে দেশের যে কোন আমানত নিরাপত্তাহীন। অন্যথা হলে বুঝে নিতে হবে বাকিটা।এপ্রসঙ্গে বলা যায়, তদন্তের দায়িত্ব ৮০ বছরের বুড়োকে না দিয়ে বিশ্বব্যাংকের অধীনে এই ঘটনার তদন্ত হলেই যথাযথ হতে পারে।মন্ত্রী ও বুড়ো,তদন্তকারীও বুড়ো।ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটির দায়িত্ব দিয়ে আগে ভাগে হ্যাকিঙের ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে বলে অনেকে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সচিব জয়কে দায়ী করছেন জোর দিয়ে।এক্ষেত্রে জবাবের ভার সরকারের।

সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসানের কাছ থেকে সাইবার অপরাধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ডাকাতির তথ্য সংগ্রহ করার পর তাকে পাহারা দেয়ার পরিবর্তে গুম করে ফেলার ঘটনায় সন্দেহ এখন সরকারের উপরের পর্যায় এবং সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শক্তির দিকে এক রেখা হয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এই জবাবের দায়ও সরকারের। পরিস্থিতি এমন দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে,যাতে সরকার আরো বেশী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠে নিয়ন্ত্রণ আরো নিরংকুশ করার পথে যেতে হবে,নতুবা নিজেরাই দেশ ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দিতে হবে। যার কোনটাই কাম্য নয়।

ফিলিপাইন থেকে আসা খবরের আভাসে আরো পরিস্কার হচ্ছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বড় অপরাধ অঞ্চল বা ক্রাইম জোনে রূপান্তর অর্জন করেছে।আন্তর্জাতিক অপরাধীদের বড় নেটওয়ার্কের জাল শেকড় গেড়েছে বাংলাদেশে।এই পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক মনে করার যুক্তি নেই।রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে মানিলন্ডারিং ড্রাগ সরবরাহ,ব্যাংক জালিয়তি,হত্যা, গুম,ঘুষ,ধর্ষণ আদম পাচার সহ যাবতীয় ভয়ানক অপরাধে জড়িয়েছে রাষ্ট্র এবং সরকারের উচ্চ পর্যায় সরাসরি যুক্ত বলাবলি হচ্ছে।সীমান্ত নিরাপত্তাহীনতা,জননিরাপত্তাহীনতার সাথে ব্যাংকিং খাতের ভয়ানক অপরাধ স্পন্সর করে আসছে সরকার এবং রাষ্ট্র,দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরীখে ের চেয়ে নিরাপদ অবস্থা আশা করা যায়না।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো আড়াইশত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ফাড থাকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। বাংলাদেশ রাজনীতির অস্থির এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ ব্যাংকে অঘটন ঘটিয়েছে ,যা স্পষ্ট করে বলা দরকার। বৈশ্বিক অপরাধীচক্রকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে নব্যধনাঢ্য প্রিন্স বানানোর একটা আলামত দেখছি আমি, দেখছেন বিশ্লেষকরা। অতীতে সাম্রাজ্যবাদীরা বিভিন্ন অনুগত দেশে লুটেরা শাসকদের উপর ভর করেই কলোনী শাসন শোষণ করে এসেছে।অনেক দেশে অনুগত লোভী শাসকদের ক্ষমতায় বসানোর আগে তাদেরকে নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।এতে ঘুড়ির নাটাই থাকে টার্গেটেড লিডারের হাতে,যাতে ধরা পড়লে দায় তার,সফল হলে ভাগ তার।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডিজিটাল ডাকাতির সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতার বিষয় ঘনিষ্টভাবে জড়িত প্রমাণ না করার জন্যে যথেষ্ট চেষ্টা সরকারি পর্যায় থেকে হলেও তা ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা।বিএনপিও একই ধারার চেতনার বিধায় তাদের পক্ষে আওয়াজ করা মুস্কিল।অধিকন্তু বিএনপির অবস্থা এখন দুর্দশাগ্রস্থ। তারা সামান্য মেও মেও করতে পারে,এতে সরকারের কিছুই আসে যায়না।

বিশ্বইতিহাসে যাওয়া যাক,জার্মানীর এডলফ হিটলারের সাহস এবং বিশেষ যোগ্যতার কারণে তাকে আর্থিকভাবে প্রমোট করায় যুক্তছিলেন আমেরিকার রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী নেতা এবং মার্কিণ প্রেসিডেণ্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দাদা সিনেটর প্রেসকট বুশ।১৯৪২সনের দিকে তাকালে এই চিত্র স্পষ্ট হয়। হিটলার রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একটা জাতিকে জীবিত ধরে নিয়ে গ্যাস চ্যাম্বারে ছুঁড়ে ফেলে মেরে ফেলতো।এই পরিকল্পনা একা হিটলারের বলে প্রমাণ করা কঠিণ।যদিও হিটলারই এজন্যে ঘৃণিত হয়েছে।এই ইতিহাস সবার জানা আছে।বাংলাদেশে শিখন্ডি সামনে রেখে কতো কিছু হবার ছক আছে, তা এখনই বলার সময় আসেনি।তবে রাজনৈতিক ও আর্থিক নৈরাজ্য বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে ওদিকেই নিয়ে চলেছে।
এদিকে আইটি হ্যাকিং বিজয় এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের জয় বিজয়ের পুরস্কার ঘোষণা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বাংলাদেশের আইটি প্রতিমন্ত্রী ও আইটি উপদেষ্টাকে আইটি ক্ষেত্রে অবদানের জন্যে বিশ্বযুব নেতা খেতাব দেয়া হয়েছে।এই খবরে অনেকে অবাক হয়েছেন,অনেকে ঠাট্টা করছেন এজন্যে যে,আইটির শুভংকরে ফাঁক থাকায় একটা রাষ্ট্রের সমগ্র অর্থ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে দায়ীদের তালিকায় আইটি মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টার নাম আসছেই।গভর্ণর অর্থমন্ত্রী সহ আরো বড়দের নাম আসছে। অথচ সফলতার জন্যেই তাদের দুজনকে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সময় এবং পরিস্থিতি এসব ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্ককে মালার মতো যুক্ত করে দেয়।আমাদের কিছুই করার নেই,করতে হয়না।

তাহলে সন্দেহ হতে পারে কি যে,বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে মিশন সফল করার জন্যে মাফিয়া চক্রের মাধ্যমে এসেছে পুরস্কার? হ্যাকিং বিজয়ের উৎসব এবং আইটির জগতে সফলতার জন্যে খেতাবের উৎসব- এদুটো উৎসবই কেমন যেনো একে অপরের সাথে বুকে জড়াজরি করা ঘটনা। ভাবটা যেনো এরকম, পেরেছিতো করেছি,পারলে ঠ্যাকাতে এসো। অপরাধ বিশেষজ্ঞরাই এবিষয়ে মতামতের সিদ্ধান্ত দেবেন,সিদ্ধান্ত দেবার কেউ আমি নই।আমরা যুক্তি দিতে বা অনুমান তুলে ধরতে পারি।

অর্থমন্ত্রী নিজেও এতে জনতার আসামী।তবে রাজসাক্ষী হবার সুযোগ তিনি পেতেই পারেন।মনে করার কারণ নেই যে,বুড়ো মানুষ বিধায় তিনি ছাড় পাচ্ছেন।অথবা অন্য কেউ অপর কোন আবেগের কারণে দায় মুক্তি পাবেন।তবে তিনি যদি সাহসিকতা দেখান তার ভাগ্যেও একই গুমের ভাগ্য আসতে পারে।সুনাগরিকদের মতামত হচ্ছে,রাষ্ট্রের স্বার্থের প্রশ্নে কাউকেই ছাড় নেই।রাষ্ট্রের স্বার্থের মুখোমুখী হওয়া যে কারো উপর বুলডুজার চালানো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও সুনাগরিকের কর্তব্য।

আমি নিজেই গতবছর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে সভা করতে গিয়ে দেখে এসেছি যা অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্যের সাথে হুবহু মিল আছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর অপরাধীদের বাজার বসে,কথাটা সত্য।নিউইয়র্কবাসী সন্দেহভাজন একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান বহুদিন দেন দরবার করেছে সদ্য বিদায়ী গভর্ণর সাহেব ও তার ঘনিষ্টদের সাথে।সেই ব্যাক্তি নিউজার্সিতে মানি ট্রান্সফার এজিন্সীর মালিক বলে পরিচয় দিতেন।কিছুদিন আগে তাকে কারা যেনো গুম করে কয়েকদিন আটকে রেখে পরে বারিধারায় ফেলে রেখে গেছে।এখন নিউইয়র্কে ফিরে এসে সে লুকিয়ে লুকিয়ে চলছে।শুনেছি র‍্যাব নাকি ছদ্মবেশী চোরটাকে আপাদমস্তক তল্লাসী চালিয়েছে।গরম ডিমের ব্যথা নাকি এখনো তাকে পীড়া দেয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংকের মুরুব্বী।এই পবিত্র প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এই প্রশ্রয় পায় কোথা থেকে? বিদেশীদের কাছে রিজার্ভ চুরি ধরা পড়লো তাদের দেশে মিডিয়ায় আসার পর। বিশ্বের সবার সাথে বাংলাদেশ জানলো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের সর্বনাশ হয়েছে, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার ব্যাংক খোলা থাকলেও সরকার বা গোয়েন্দারা জানেনা,বিশ্বাস করতে হয় জোর করে।স্বয়ং রাজধানীতেই এতোবড় ঘটনা হয়ে গেছে।বড়দের হস্তক্ষেপ ছাড়া কিভাবে এটা সম্ভব? তাই বলি,এসব অপারেশনকে কেবলমাত্র মহাড়া বলা যাবেনা।বাস্তবেই বাংলাদেশ হচ্ছে রাজনীতির মোড়কে ভয়ানক অপরাধের ফিল্ড।গোয়েন্দারা কি সবাই ঘুমিয়ে থাকেন? নাকি অপরদিকে চোখ ফিরিয়ে রাখেন?নাকি না দেখার ভান করেন?নাকি সবক্ষেত্রের অযোগ্যরা এসে রাষ্ট্রপরিচালনায় ভিড় করে রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে আছেন? নাকি গোয়েন্দাদেরকে অন্যকাজে ব্যস্ত করে রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনে তাদেরকে হেয় করা হচ্ছে ? দায় তুলে দেয়া হচ্ছে তাদের উপর।

বক্তৃতার রাজনীতির নেশায় বুদ হয়ে থাকা রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমরা কোথায় ডুবছি? নিরাপত্তাহীনতার ভয়াল গন্তব্যহীনতার বিভীষিকায় চেতনার বিকৃতি আর কতো?সভ্যতার স্তরে আমাদের নেতৃত্ব কি এতোই নীচুমানের?অতোটুকু তো হবার কথা নয়।কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের মর্যাদার আব্রু ছিনিয়ে নিয়ে উলঙ্গ করে দেয়ার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির আব্রু নিয়ে কথাবলার সুযোগ কি আর থাকে?আমরা যথার্থই এতিম হয়ে গেছি। আমাদের সরকার পরিচালনায় জরুরী অংশে এতই নিশ্চলতা চাপানো হয়েছে যে, আমরা দেখি কিন্তু প্রতিরোধ করার ক্ষমতা হারিয়ে অবশ হয়ে আছি।

ব্যাংকের মুরুব্বীর মর্যাদা , রিজার্ভ এবং রিজার্ভের ডাটা হারিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যখন দেহের শাড়ী হারিয়ে বিবস্ত্র রমণীর মতো লজ্জায় থর থর করে কাঁপছে, নিজের চোখ বন্ধ করে নিজের গোপনীয়তা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে,সরকারের অন্দরে পরিবেশ তখন আনন্দের, উল্লাসের।বিপরীতের এই বাস্তবতা হজমের উদ্দেশ্যে নিন্দা গিলে চলেছে বাংলাদেশ।বদ হজম?সে ভয় কেনো? বদহজমের ব্যথা ভুলে থাকার জন্যে জামাতনেতা যুদ্ধাপরাধী মাওলানা নিযামীর ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা তো এসময়ের জন্যেই তৈরী আছে।তা ছাড়া একের পর এক অন্য ইস্যুতো সামনে আনা হচ্ছেই। যুদ্ধাপরাধী ইস্যু তো আছেই।

এবার কেনো জানি আন্তর্জাতিক মাফিয়ার কানেকশানে পৌঁছানোর আভাস আসছে বাংলাদেশের কারো কারো যোগ্যতার। ডিজিটাল ক্যাপাসিটিতো বটে!হাতেখড়ি চলছে গত ক’বছর যাবত।সফলতা ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে তরুণদের কাউকে কাউকে। যে চক্রটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে কানেকশান এবং বাস্তব প্রশিক্ষণ দিয়ে তারাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কান্ডারীর চেহারায় আবির্ভূত হতে পারেন।এদেরকে দিয়েই বা এদের সাথে অংশীদারিত্বে বৈশ্বিক মাফিয়ারা সহজে বাংলাদেশ লূটবে। সবাই থাকবে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।মানুষ বুঝবে,কিন্তু কিছুই করার থাকবেনা।বাংলাদেশ আরো পরিষ্কারভাবে হবে লুন্ঠনের স্বর্গরাজ্য। রহস্যবাবুদের মুখে থাকবে অন্যকথা।তারা প্রচার করতে থাকবে সব কিছুর জন্যে দায়ী বাংলাদেশী ইসলামি জঙ্গি।

রাষ্ট্র পরিচালনা দান দক্ষিণা নয়।দেশপ্রেমের বুলি আওড়িয়ে জনপ্রিয়তা টানার বিষয় আর থাকছেনা রাজনীতিতে।দাপট আর নিষ্ঠুরতার প্রতিযোগীতায় যারাই শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে নেবে, তারাই শাসক হবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে কাউকে রাজা, সুলতান, বাদশাহ বা শেখ উপাধি দিয়ে বাহিরের মুরুব্বীরা দীর্ঘকালের পারিবারিক শাসন বা রাজতন্ত্র জারি করা হলে অবাক হবার থাকবেনা।মধ্যপ্রাচ্যে বা বিভিন্ন অঞ্চলে ধন সম্পদের উৎসের সন্ধান পেয়ে সাম্রাজ্যের অধিপতিরা অতীতে তা-ই করেছিলেন।এখনো চলছে তার ধারাবাহিকতা।বাংলাদেশকে তাবেদার করে রাখার পরবর্তী পর্যায়ে এহেন রাজনৈতিক কাঠামো সাজানোর তেমন বাধা আর আছে মনে হয়না।

৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি হয়। চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকিং করপোরেশনের জুপিটার শাখায় ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সেখান থেকে অর্থের বড় অংশ চলে যায় দেশটির ক্যাসিনোতে। আবার ক্যাসিনোতেও সেই অর্থ ছিল আরও ২০ দিন, ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।অর্থ চুরির পুরো ঘটনাটি বাংলাদেশে গোপন রাখা হয়। আর গোপনীয়তার মধ্যেই অর্থ সরিয়ে ফেলা সহজ হয়। ফিলিপাইনে এ ঘটনা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে সেখানকার সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে এ চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।(প্রথম আলো,১৭ই মার্চ)।তবে সত্য বেরিয়ে আসছে।অন্যদেশ নিজের প্রয়োজনেই প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করবে। নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে হলেও অন্যদেশ তা করবে। নিউইয়র্ক টাইমস সহ দুনিয়ার প্রধান প্রধান মিডিয়ায় বাংলাদেশের জালিয়তির খবর, বাংলাদেশের সম্পর্ক থেকে আলাদা হয়ে যাবার খবর সবাই শোনছেন,দেখছেন।

বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার এই নাজুক পরিচিতি বিশ্বকে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ম্যাসেজ দিয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার পথ কি নেই?সব পথ কি বন্ধ করা সম্ভব?না,পথ আছে।অবশ্যই আছে।যে পথে যাবার জন্যে দৃঢ়তা জরুরী।চিরদিন সুযোগ কেবলমাত্র অপরাধীদের থাকেনা।জাতির জন্যেও সুযোগ আসে।আধার আলোর খেলায় জীবনের স্বার্থকতার পথ নেয়ার সুযোগ আসে।একজন প্রকৃত ঈমানদার বা দেশপ্রেমিকের অস্তিত্ব থাকলেও স্রষ্টা প্রকৃতির মোড় ঘুরাতে পারেন। বাংলাদেশ ফিরে দাঁড়াতে পারে। আমরা এখনো আশা করি, যোগ্য মানুষরা সেই পথ সাজাচ্ছেন ধৈর্যের সাথে। উদ্যত ফণা তুলে থাকা সাপও ঠিক মতো সরে পড়ার পথ পেলে নিজেকে বাঁচায়, বিপদ রেখা থেকে দূরে সরে যায়।জাতি স্বস্থির শ্বাস নিতে পারে।এক্ষেত্রে প্রতিহিংসার চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ হতে হবে একমাত্র বিবেচনা।বাংলাদেশের কেউ কি ন্যালসন ম্যান্ডেলা থেকে কিছুই শেখেনি?
(লেখক আবু জাফর মাহমুদ রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবংচেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল)। ( মুক্তমত লেখকের নিজস্ব মতামত, এতে আমাদের প্রকাশনা নীতির বহিঃ প্রকাশ ঘটে না )

Related posts