November 15, 2018

পিপি হায়দার হত্যার রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

রমজানুল মোরশেদ,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ  ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যার ৯ম বার্ষিকী ছিল ১১ এপ্রিল । গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার অভিযুক্ত ৫ জনের ফাঁসির আদেশ প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হালিম। রায় ঘোষণার ১ বছরের বেশি সময় পার হলেও বিচার কার্যকর হয়নি এখনও। তাই ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহত পিপি হায়দার হোসাইনের পরিবারের সদস্যরা। জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর জেএমবির বোমা হামলায় ঝালকাঠির দু’বিচারক সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাড়ে নিহতের ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী পিপি হায়দার হোসাইনকে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল গুলি করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা।

দীর্ঘ সূত্রিতা এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তানভীর, মুরাদ, আমীর, বেল্লাল ও সগিরকে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর বোমা হামলায় ঝালকাঠি আদালতের সহকারী বিচারক সোহেল আহমেদ ও জগন্নাথ পাড়ে নিহত হয়। এরপর জেএমবির শীর্ষ নেতারা পর্যায়ক্রমে আটক হন। জঙ্গিদের ঝালকাঠিতে এনে জেলা জজ আদালতে চা ল্যকর এ মামলার বিচার কাজ চলে।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারী কৌসুলি হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন।  কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালতে জেএমবির বক্তব্যকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করতে সক্ষম হয় পিপি হায়দার হোসাইন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৬ সালের ২৯ মে ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ৬ জন জঙ্গির ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। এর ২০ দিন পর বিচারক দ্বয়ের হত্যা মামলা পরিচালনাকারী পিপি অ্যাডভোকেট হায়দার হোসেনকে এরই জের ধরে ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল গোরস্থান মসজিদে থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এ ঘটনার পরের দিন নিহতের ছেলে তারেক বিন হায়দার বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৭, তারিখ-১২ এপ্রিল ২০০৭) দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে কারো নাম উল্লেখ করা না হলেও শীর্ষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়। পিপি হত্যা মামলা শুরু থেকে তদন্ত করেছেন ঝালকাঠি থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা, সিআইডি পিরোজপুর ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন, পরিদর্শক শাহজাহান খান, তোফাজ্জেল হোসেন। চার্জশিটের আগ পর্যন্ত এ চারজন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।

সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পায় সিআইডি পিরোজপুর ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক মোশারেফ হোসেন।  তিনি তদন্ত সম্পন্ন করে জেএমবির পাঁচ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (নং-৫)  দাখিল করেন। মামলা দায়েরের ৩৩ মাস পর ২০১০ সলের ১৭ জানুয়ারি রোববার বিকেলে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটভুক্ত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে বরগুনার তালতলী উপজেলার আমিনুল ওরফে আমির হোসেন (৩৭), খুলনার মুরাদ হোসেন (২০) ও বরগুনার আবু শাহাদাত মোহাম্মদ তানভীর (৩১), পলাতক রয়েছেন ঝালকাঠির বিকনা গাজী বাড়ি মসজিদের ইমাম ও বরগুনার তালতলী উপজেলার বেল্লাল হোসেন (২৭) ও ঢাকার উত্তরখানের সগির হোসেন ভূঁইয়া (৩৮)।

নিহত পিপি’র ছেলে ও মামলার বাদী তারেক বিন হায়দার বলেন, মহান আল্লা কাছে শুকরিয়া আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। ন্যায় বিচারের জন্য সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ফাঁসির দন্ডদেশপ্রাপ্ত জেএমবি ৫ সদস্যের ফাঁসির রায় এখনও কার্যকর করা হচ্ছে না। তারপর হত্যাকারীদের মধ্যে ২ জন এখনও পলাতক। তারা পুনরায় আরও কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান তিনি। নিহত পিপির সহধর্মিনী কহিনুর বেগম বলেন, যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করা না হলে উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা ছাড়া পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনের নামে স্মৃতি ফলক নির্মাণের দাবিও জানান তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি এম আলম খান কামাল বলেন, ৫ জনের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আসামিদের নথিপত্র উচ্চ আদালতে গেলেও এর পরে কি হয়েছে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, মামলার রায় হওয়ার পর আসামিরা উচ্চ আদালতে না গেলেও রাষ্ট্র পক্ষ দিয়ে নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে শুনানির জন্য অপেক্ষায় আছে।  উল্লেখ্য, দুই বিচারক হত্যার ঘটনার ২ বছরের মধ্যে ফাঁসির আদেশ কার্যকর এবং পিপি হত্যার ৮ বছরের মধ্যে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ৫ জনের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৩ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts