September 25, 2018

পিএইচডি ডিগ্রি জালিয়াতি<<তোপের মুখে ইবি উপ-উপাচার্য

ঢাকাঃ  প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শীর্ষস্থানীয় এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অদ্যোপান্ত অসততা, অনিয়ম, মিথ্যা তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি পরিপন্থী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। বিষয়টিতে তিনি ইবি শিক্ষকদের তোপের মুখে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খোদ সরকার সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরামের অভিযোগ, ইবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বর্তমান উপ-উপাচার্য শাহিনুর রহমান মাত্র পাঁচ মাস সাত দিনে স্বীয় তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। যার প্রক্রিয়াটি পুরোই প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারপন্থী শিক্ষকদের এই দুটি সংগঠন তার বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগই করেনি, গত ১৭ মে ইবি ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে তারা দাবি জানিয়েছে, ইবির একাডেমিক ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে যথাযথ তদন্তপূর্বক এই পিএইচডি ডিগ্রি বাতিলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের তোপের মুখে ইবি উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হাকিম সরকার ১৯ মে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন। শিক্ষা সচিবের বরাবরে প্রেরিত পত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব মোহাম্মদ খালেদের কাছেও পৌঁছেছে।

ইবি উপাচার্য তার পত্রে লিখেছেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ (একাংশ) ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম (একাংশ) কর্তৃক গত ১৬-০৫-২০১৬ ইং তারিখে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে সম্পন্ন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে ডিগ্রিপ্রাপ্ত পর্যন্ত বেশকিছু প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপন করে অনতিবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি ১৭-০৫-২০১৬ ইং তারিখে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়।’

পত্র মারফত শিক্ষা সচিবের নির্দেশনা চেয়ে ইবি উপাচার্য লিখেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ (সংশোধিত) এর ৯১ (ক) ধারা অনুযায়ী যেহেতু উপ-উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর নিয়োগদান করে থাকেন সেহেতু তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত পিএইচডি ডিগ্রি জালিয়াতির অভিযোগর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্যে অনুরোধ করছি।

ইবির কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যকে করণীয় সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি। একটি সূত্রের দাবি, মন্ত্রণালয় মৌখিকভাবে ইবি প্রশাসনকে ইঙ্গিত দিয়েছে বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে সমাধান করার জন্যে।

উপাচার্য আবদুল হাকিম সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। শিক্ষকেরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। আমিও মনে করি বিষয়টির তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত কোন প্রক্রিয়ায় হবে তার জন্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা প্রয়োজন। উপাচার্য জানিয়েছেন যে তিনি নির্দেশনার জন্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।

ইবি শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জালিয়াতি করে পিএইচডি ডিগ্রি গ্রহণ করবেন এটা জাতি প্রত্যাশা করে না। উপ-উপাচার্য জালিয়াতির মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দাবি অনতিবিলম্বে উপ-উপাচার্যের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হোক। কারণ জালিয়াতি করা ব্যক্তি উপ-উপাচার্যের পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় মতামত চাইলে ইবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে মন্ত্রণালয়কে জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সরকারপন্থী শিক্ষকদের ফোরাম থেকে উপ-উপাচার্যের পিএইচডি ডিগ্রি সম্পর্কে অভিযোগ করা হয়েছে, ডিগ্রি গ্রহণে তিনি পদে পদে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযোগগুলো হল তার পিএইচডি ডিগ্রির রেজিস্ট্রেশনের আবেদন সংশ্লিষ্ট অনুষদের সুপারিশের বিষয়টি বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের সভায় উত্থাপিত হওয়ার কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। তার ক্রেডিট অনুসারে আছে অসংগতি।

তিনি পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হন ১৯৯৯-২০০০ সালে কিন্তু যোগদান করেন ২০০২ সালের জুলাই মাসের ১১ তারিখে। এ সময়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও তিনিই পালন করেছেন। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি সমর্থিত নয়। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি স্বীয় তত্ত্বাবধানে রচিত থিসিস জমাদানের আবেদন করেন ২০০২ সালের ৩ জুলাই। যা রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির প্রকৃত তারিখের আগে!

সরকারপন্থী শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, পিএইচডি গবেষককে থিসিস জমাদানের পূর্বে ন্যূনতম দুইটি সেমিনার দিতে হয় কিন্তু শাহিনুর রহমান জানা মতে একটি সেমিনারও দেননি। এটা পিএইচডি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৫ মে ২০১৬

Related posts