September 21, 2018

পা দিয়ে বিমান চালানো পাইলট

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় জন্মেছিলেন জেসিকা কক্স, একটিও হাত নেই তার। কেন? জানা নেই চিকিৎসকদের। দুর্লভ জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানো জেসিকা ছোটবেলা থেকেই কেবল দুপা নিয়ে বাঁচতে শিখে গিয়েছিলেন।

কিন্তু তাই বলে জীবনকে থামিয়ে রাখেননি তিনি। অনেক বেশি কিছু করে দেখিয়েছেন জেসিকা, বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি গাড়ি চালাতে পারেন, বিমান চালাতে পারেন, পিয়ানো বাজাতে পারেন। তবে সবকিছুই পা দিয়ে।

তার জন্মের সময় থেকেই তাকে ঘিরে অসংখ্য প্রশ্ন ছিল। তিনি কি কখনো স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারবেন, সমাজের আর ১০ জন মানুষের মতো করে? তাকে ঘিরে সমস্ত কৌতূহলের সারমর্ম এটাই। কিন্তু সন্তানের এমন জন্ম নিয়ে কখনো প্রশ্ন তোলেননি তার বাবা, ফেলেননি একফোঁটা অশ্রু। বরং মেয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা নিয়েই মেয়েকে বড় করেছেন তিনি।

বাবা-মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থন নিয়ে বেড়ে উঠেছেন জেসিকা, একজন আত্মবিশ্বাসী নারী হিসেবে। জগৎ জুড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য হাতের দরকারটাই বা কী! পা-ই যথেষ্ট তার।

শৈশব থেকে নাচতে শিখেছেন জেসিকা। প্রথমবার যখন কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলেন, তাকে একদম পেছনের সারিতে রাখতে বলা হয়েছিল। তার নাচের শিক্ষক বলেছিলেন, পেছনের সারি বলে কিছু নেই। অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই সারিতে সেদিন বসেছিলেন জেসিকা এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। যখন তিনি নাচ করলেন, চতুর্দিক থেকে কেবলই তালির আওয়াজ! সেই যে সেদিনকার দর্শকের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ, তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা আত্মবিশ্বাস নিয়েই ১৭ বছর পর আজো এগিয়ে চলেছেন জেসিকা।

১৪ বছর বয়সে জেসিকা তায়েকোয়োন্দতে প্রথম ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন আন্তর্জাতিক তায়েকোয়োন্দ ফেডারেশন থেকে। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

তবে জেসিকার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো- হাত ছাড়াই উড়তে শিখেছেন তিনি! এক বছর সমস্ত বাধানিষেধ উপেক্ষা করে সমস্ত শক্তি দিকে বিমানচালনার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জেসিকা। হাতের ব্যবহার ছাড়াই বিমান চালানো প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতিও পেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একজন সফল স্ত্রী-ও এই নারী। ২০১২ সালে বিয়ে করেছেন তার সাবেক তায়েকোয়োন্দ প্রশিক্ষক প্যাট্রিককে। অ্যারিজোনার টুকসনে বাস করেন এই দম্পতি।

এখন একজন বক্তা হিসেবে কাজ করছেন জেসিকা কক্স। বিশ্বজুড়ে নানারকম বাধাবিপত্তিতে থাকা মানুষজনকে জীবনের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে বিশ্বভ্রমণ করেন তিনি, বিশ্বকে উৎসাহিত করেন সৃজনশীল হতে। তার মন্ত্র হলো- ‘জুতোর বাইরে বেরিয়ে ভাবতে শিখতে হবে।’পরিবর্তন

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts