September 19, 2018

পালিয়ে বাঁচলেন জেলার ডিসি-এসপিঃ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিহত

 পটুয়াখালীর বাউফলে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিপক্ষের হামলায় বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় প্রাণভয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দৌড়ে গিয়ে আশ্রয় নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রুমে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার রাতে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আশ্রাফ ফকির (৩৫) নিহত হওয়ার জের ধরে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তপ্ত ছিল বাউফল এলাকা। দুপুর ১২টায় বাউফল থানার ওসি মাসুদুজ্জামানের অপসারণ ও খুনিদের শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে থানা ঘেরাও করে রাখে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সমর্থক নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বগা-বাউফল-কালাইয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। বেলা পৌনে একটার দিকে জেলা প্রশাসক প্রশাসক শামীমুল হক সিদ্দিকী ওই সড়ক দিয়ে যেতে চাইলে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি অবরোধ করে এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরে জেলা প্রশাসক গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর বিকাল ৩টায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় মিলিত হন। পুলিশ সুপার মোসফিকুর রহমানও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সভা চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় ফারুক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একদল ক্যাডার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সামনে তাকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়। ঘটনা আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রাণভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সভাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঢাকাটাইমসকে জানান, এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দুইজন আহত হয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যানকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুরিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ  জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাউফলের ওসির প্রত্যাহারের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি তারা দেখছেন।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক সিদ্দিকী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

Related posts