November 17, 2018

পারলেন না শামীম ওসমান!

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হলেন শাসকদলের নেতা ও সাংসদ আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান। অথচ ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি বা সাংসদ মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেও ব্যবসা বন্ধ দূরে থাক, সামান্যতম পর্যন্ত কমাতে পারেননি। এমন অভিযোগ তার নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের সাধারন মানুষসহ সচেতন মহলের।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে অনেকে অভিযোগ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তার জেহাদ ঘোষনায় মাদক বিক্রি বা ব্যবসা কমা দূরে থাক বরং বেড়েছে। তার নির্বাচনী এলাকার এমন কোন পাড়া মহল্লা নেই, যেখানে মাদক বিক্রেতা নেই। অপরদিকে ক্ষমতাধর এই ব্যক্তির হুংকারের পরও যখন প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা নেই, সেহেতু মাদক ব্যবসায়ীরা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। যার ফলে এখন তারা অনেকটা বুক ফুলিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

আবার কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, শামীম ওসমান নিজেও হয়ত মন থেকে চাননা মরন নেশা মাদক ব্যবসা বন্ধ হোক। যদি চাইতেন, তবে এ ব্যবসা বন্ধে তার মত নেতার সর্বোচ্চ দুই ঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না। তারা আরও বলেন, তিনি যদি সত্যি মন থেকে চাইতেন তবে তিনি সবার আগে তার অনুসারী মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে আইন সৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতেন। আর এতে করে অন্য মাদক ব্যবসায়ীরা এমনিতেই ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। সুতরাং এতেই পরিস্কার তিনি মাদক নির্মুলের জন্য নয়, বরং বাহবা কুড়ানোর জন্য জেহাদ ঘোষনা করেছিলেন।

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শামীম ওসমান ২য় বারের মত নারায়ণগঞ্জ-৪ তথা (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ নির্বাচিত হন। সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহনের পর থেকেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেন। শুধু তাই নয়, প্রথমে স্বেচ্ছায় মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে ব্যবসায়ীদের কিছু দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তাদের ধরতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাতেও আশানুরুপ সুফল না দেখে বিভিন্ন সভা সমাবেশে তিনি আইন সৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তিরস্কার করে কথা বলতেন।

এর ফলে আইন সৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের কৃতীত্ব দেখাতে একটি নতুন সংস্করন চালু করেন। আর তা হল ‘মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে সরাসরি ভ্রাম্মমান আদালতের মাধ্যমে ৬ মাস বা ১ বছরের সাজা লাগিয়ে দিতেন। বর্তমানে এ পক্রিয়া আবার সিথিল হয়ে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ পক্রিয়ায় সাজা দেয়াদের মধ্যে একজনও চিহ্নিত বা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নেই। যাদের সাজা দেয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশ অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বিক্রয় কর্মী।

শীর্ষ ব্যবসায়ী বা ডিলারদের না ধারার কারন সম্পর্কে অনেকে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। তার উপর  অধিকাংশ শীর্ষ বা ডিলার শাসকদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা প্রভাবশালী মহলের অনুসারী। যে কারনে প্রশাসন বা আইন সৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের টিকিটি ছোয়ার চেষ্টা করেননা বা কোন কোন ক্ষেত্রে ছুতেও সাহস পাননা।

অন্যদিকে মাদকের বরুদ্ধে শামীম ওসমানও সিথিল হয়ে এসেছেন মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এখন আর আগের মত মাদক বিরোধী বক্তব্য দেননা জেলার ক্ষমতাধর ওই সাংসদ। এ ছাড়া প্রতিটি পাড়া মহল্লায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠনের কথা দিয়ে তা রাখেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৭ মে ২০১৬

Related posts