November 16, 2018

পানি ও সূতিজাল যেভাবে চলনবিলে ফসল আবাদে বাধা

রুহুল আমিন, চলনবিল ব্যুরো চীফঃ সর্বশেষ বন্যা ও সূতী জালের কবলে পরে চলনবিলের ৯ উপজেলায় সরিষাসহ রবি ফসলের আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। আত্রাইউপজেলা থেকে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি পর্যন্তু নদী-খাল, সড়কের পাশের খাল. ব্রীজ-কালবার্টের মাঝে ব্যাপক হারে ছোট বড় সূতী জাল সেট করে অবৈধ মৎস্য নিধন কাজে লিপ্ত থাকার কারনে চলনবিলের বন্যার পানি মন্থর গতিতে হ্রাস পেয়ে সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

কৃষি বিভাগ ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, কার্তিক মাস শুরুর সাথেই চলনবিলে শেষ বারের মত বন্যার পানি আবার দ্রুত বাড়তে থাকে। সপ্তাহকাল পানি বৃদ্ধির পর আবার পানি কমতে শুরু করেছে কিন্তু বাদ সেজেছে সূতী জাল। আত্রাই, গুমানী, ভাটির বড়াল, কাটাখাল,বিভিন্ন সড়ক সংলগ্ন খাল , ব্রীজ-কার্লভার্টেএবং মৎস্য নিধনের সুবিধা মত যে কোন স্থানে সূতী জাল সেট করে ব্যাপক হারে মৎস্য নিধন যঙ্গ চলছে।

এতে বন্যার পানি ভাটিতে যেতে বাধা প্রাপ্ত হচেছ। কৃষকদের সাথে আলাপ করে এবং সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে মোটা মোটা বাঁশ কাঠ পুঁতে বাঁশের তালাই ও মোটা পলিথিন দিয়ে প্রবাহমান পানি আটকিয়ে ১৫-২০ হাত খোলা মুখ রেখে কৃত্রিম পরিস্থিতি  তৈরি করার পর সূতীজাল সেট করেছে। কৃত্রিম  টানে মাছ জালের ঘোপে পরলে আর বের হতে পারেনা।

এ ভাবে আত্রাই, সিংড়া,তাড়াশ,গুরুদাসপুর,চাটমোহর,ফরিদপুর,ভাঙ্গুড়া,উললাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার সহস্রাধিক স্থানে সূতি জালের কবলে পড়ে শেষ বন্যার পানি মন্থর গতিতে হ্রাস পাচেছ। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলার উত্তর সীমান্তের হরদমায় আত্রাই নদীর রাবার ড্যামের আগে-পিছে বড়বড় ৪টি সূতী জাল সেট করায় উজানে নদীর পানি ফুলে উঠছে। এছাড়াও সাবগাড়ির জলায়ও সুতি পেতেছে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফ আলী জানান, তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অংশের জমিতে ৪ফুটহতে ৫ ফুট পানি দাঁড়িয়ে আছে। এ উপজেলার কুন্দইল কাটা খালসহ ঐগ্রামের ৪টি সূতি জাল তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিললুর রহমান খান দিনমান উপস্থিত থেকে সুতিজালের স্থাপনা অপসারন করান। কিন্তু শেষ বন্যার পানি টান ধরার সাথেই আবার সুতি জাল সেট করা হয়েছে বলে তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার জানান।

এদিকে, আত্রাইয়ের সীমান্তেু হালতির বিল ও চলনবিলের সংযোগ স্থল. সিংড়ার সীমান্তেু খাল বিল , আত্রাই, গুড়নদী, বড়িয়ার জিয়া খাল,পেট্রবংলো এবং তিসিখালি, ডাহিয়া, বেড়াবাড়ি পর্যন্তু ছোটবড় ৫০টি সুতিজাল সেট করে মৎস্য নিধন ও পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করছে। তাড়াশ উপজেলার ভেটুয়া, কুন্দইল,কুশাবাড়ি,শামপুর,হামকুড়িয়া এবং চাটমোহর উপজেলার

স্থল,পাইকপাড়া,অষ্টমিনসা-মির্জাপুরের উজান-ভাটিসহ ছোটবড় শতাধিক স্থানে সুতি জাল একই সমস্যার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন সুতিজালের স্থাপনা ভেঙ্গে দিলেও একই স্থানে আবার সুতি সেট করছে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিললুর রহমান খান জানান উপজেলার কুন্দইল কাটা গাঙ্গসহ কুন্দইলের সব কটি সুতিজালের স্থাপনা উচেছদ করেছেন তিনি। একজনকে ভ্রাম্যমান আদালতে দণড প্রদান করে স্থানীয় চেয়ারম্যান উক্ত গ্রামের বাসিন্দা আব্দুললাহেল বাকীকে সোকজ করেন। কিন্তু একই স্থানে মৎস্য নিধন কারীরা আবার জাল সেট করেছে প্রশাসনকে চ্যালেন্জ দিয়ে। চেয়ারম্যান আব্দুললাহেল বাকীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান কয়েকজন গরীব মানুষ সেখানে সুতি দিয়েছে। তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি জানেন না বলে জানান।

চলনবিলে এখনও আষাঢ় মাসের মতই পানি দাঁড়িয়ে আছে।ইতিমধ্যেই কার্তিক মাসের অর্ধে অতিবাহি। মাঠথেকে পানি নিষ্কাষনের পরিবেশ নেই। ৯ উপজেলায় গত বছর সরিষার আবাদ হয়েছিল ৬৮ হাজারহেক্টর,গুরুদাসপুর ও চাটমোহর উপজেলাতেই রশুনের আবাদ হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। বিলের নিম্ন অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ হয় ২০ হাজার হেক্টর। এবার তাড়াশ-সিংড়াসহ ৪ উপজেলায় ১৫ হাজার হাজার হেক্টর জমিতে রশুনের আবাদের সম্ভাবনা আছে বলে কৃষি বিভাগ জানায়। বন্যার পানি নেমে গেলেও জমিতে জো ধরতে ১৫ দিন সময় লাগবে।

কিন্তু সুতিজাল এবং পানির বর্তমানের অবস্থায় কৃষক রবি ফসল নিয়ে উদবিগ্ন। চলনবিলের কৃষক জমিতে রশুন,পেঁজ,ভ’ট্টার আবাদ করে।সরিষা উঠিয়ে উচচ ফলনশীল বোরো ধানের আবাদ করে থাকে প্রতি বছর। কার্তিক মাসের মধ্যে বিল থেকে বন্যার পানি নিষ্কাষনের কোন সম্ভাবনা দেখা যাচেছ না। বিলের ৯ উপজেলার কৃষক আসন্ন রবি ফসলের আবাদ নিয়ে চরম উৎকণ্টায় সময় কাটছে।

এ ব্যাপারে উর্ধতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করছে। #

 

Related posts