November 18, 2018

পানির অধিকার আদায়ে সরকার ব্যর্থ—নজরুল ইসলাম খান


অমিত রায় ঢাকাঃ  বিএনপি‘র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বলেছেন, ভারত উজানের রাষ্ট্র হিসাবে ভাটির দেশ বাংলাদেশের সাথে সৎ প্রতিবেশী হিসাবে আচরন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফারাক্কা সমস্যা সামাধানে ব্যর্থ সরকার টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের পক্ষে দেশের স্বার্থ বিরোধী উকালতি করছে। যে সরকার ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না, দেশের জনগনের কল্যাণ ও জনগনের মৌলিক চাহিদা পুরন করতে পারে না তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।

নজরুল ইসলাম খান আজ শুক্রবার সকালে ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ফারাক্কা লংমার্চের ৪০তম বার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর আয়োজিত ‘ভারতের পানি আগ্রাসনঃ  আমাদের করণীয়’-শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন। ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি‘র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, জাতীয় দল সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম.এম. আমিনুর রহমান, ডিএল সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জাতীয় পার্টি (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামিম, নাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান কাজী ফারুক হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, সম্পাদক মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, মোঃ কামাল ভুইয়া, নগর নেতা মোঃ শামিম ভুইয়া, জিল্লুর রহমান পলাশ, আবদুল্লাহ আল মাসুম প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, পাকিস্তান আগে আমাদের গুলি করে মারত, আর ভারত পানি না দিয়ে আমাদের মারছে। আর এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের সহযোগিতার কারণে আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু পানি নিয়ে তারা যা করছে সেটি বন্ধুরাষ্ট্রের কাজ নয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে আমাদের নদী-নালা, খাল-বিল শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা পানির অভাবে ফসল ফলাতে পারছে না। অথচ আন্তর্জাতিক আইনে আছে, অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু ভারত সেটা মানছে না। তিনি বলেন, দেশে দেশপ্রেমিক সরকার থাকলে ভারতের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সমতার ভিত্তিতে পানিসহ সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারত। কিন্তু আমাদের দেশে এখন যে সরকার আছে তারা নির্বাচিত নয়। সেজন্য জনগণের কাছেও তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে দেশে যা হচ্ছে তা মেনে নেয়া যায় না। এর মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিকে পচিয়ে দিয়েছে।

শফিউল আলম প্রধান বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের শাসকগোষ্টি কখনো সোচ্চার নন। ভারতের পানি আগ্রাসন রুখতে হলে ১৬কোটি মানুষের ঐক্যকে শক্তিতে পরিনত করতে হবে। ভারত সীমান্ত ও পানি নিরাপত্তা দিতে চরম ব্যর্থ হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শুধু তাবেদারই নয়, ভারতীয় কৃতদাসে পরিনত হয়েছে।

খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধের ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করেছে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে আবারো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিনত করার যে ষড়যন্ত্র করছে তার বিরুদ্ধে দেশের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ। ভারত মূলত দুটি উদ্দেশ্যে পানি আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। এর একটি হচ্ছে রাজনৈতিক কারনে পানিকে ব্যবহার করা আর রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও পঙ্গু রাষ্ট্রে পরিনত করা। ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মওলানা ভাসানীর মতো নেতৃত্ব তৈরী করতে হবে। তিনি বলেছেন, ভারত যা বলে তা করে না, যা করে তা বলে না। আওয়ামী-বাকশালী চক্র ভারতের সাথে যতগুলো চুক্তি করেছে সবগুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী। বর্তমান সরকার সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারনবাদী শক্তির সহায়তার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাদের শেষ রক্ষা হবে না, হতে পারে না। ভারতীয় তাবেদার বর্তমান সরকার সরকার দেশকে একটি কারাগারে পরিণত করে রেখেছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা হামলা-মামলা, গুম-খুন করে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে জেবেল রহমান গানি বলেছেন, ফারাক্কা, টিপাইমুখসহ ভারতের অব্যাহত পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর পদর্শিত পথই হচ্ছে ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পথ। তিনি বলেছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কার্যকরী সম্পর্ক। আমরা শুধু ভারতে দিয়ে যাব বিনিময়ে আমরা কিছুই পাবো না তা হতে পারে না। আওয়ামী লীগের দাসসূলভ আচরনের কারনেই ভারত পানি আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, জাতি হিসাবে আমরা দুর্বল নই। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, লড়াই করে গণতন্ত্র রক্ষা করবো-ভারতীয় আগ্রাসন রুখবো।

দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে জেবেল রহমান গানি বলেছেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে সরকার ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের বিরোধিতা করছে। বিচার বিভাগ যখন নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য রায় দিচ্ছেন, তখন সরকার এই রায়ের বিরোধিতা করছে। কারণ তারা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলন করে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় সরকারকে বাধ্য করতে হবে। বর্তমান সরকার সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৩ মে ২০১৬

Related posts