September 21, 2018

পাঠ্যপুস্তক জুড়ে ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন

ঢাকাঃ   পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত বই ও আইন নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যাচ্ছে। ইদানীং তা আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। পাঠ্যপুস্তক সম্পর্কে বিশদ আলোচনার সুযোগ নেই বলে এখানে এর সক্ষিপ্ত আলোকপাত করছি মাত্র।

প্রথমত : বইগুলোর কাগজ, ছাপা, চিত্র ও বাঁধাই সব কিছু ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রতিনিধিত্ব করছে বলেই মনে হয়। এটি শিশুদের মন ও চেতনাকে যে আহত ও সঙ্কীর্ণ করছে তাও বোঝতে আমরা যেন অক্ষম। ‘ভিক্ষার চাল কাঁড়া না আকাঁড়া’ এমন মানসিকতা অন্তত এ বেলা পরিহার জরুরি। দেশের দেড় কোটি ছাত্রছাত্রীর জন্য ভালো মানের বই সরবরাহ করতে মাথাপিছু ৫০০ টাকা খরচ হলেও শুধু হলমার্কের লুটে নেয়ার সমপরিমাণ অর্থে ছয় বছর বিনামূল্যে বই বিতরণ সম্ভব। তাহলে শিশুদের জন্য কৃপণতা বা কৃচ্ছতার অবকাশ কোথায়?

বোর্ডের বইগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির প্রয়াস সুস্পষ্ট। কিন্তু ’৪৭ এর ব্যাপারে ধারণাটি একেবারেই অস্পষ্ট। ’৪৭ না হলে যে এ অঞ্চলটি কাশ্মিরের বা মিজোরামের মতো কিছু একটা হতো। এ ধারণাটি জাতীয় প্রয়োজনেই স্পষ্ট হওয়ার কথা হলেও তা হয়নি।

প্রথম শ্রেণীর বাংলা বইটিতে (আমার বই) শব্দ গঠন প্রক্রিয়ায় ‘ঋ’তে ‘ঋষি’ এবং ‘র’তে ‘রথ’ শেখানো হয়েছে। এতে আমাদের আপত্তি না-ই বা থাকল, কিন্তু একই চেতনার ধারাবাহিকতায় ‘ম’তে ‘মসজিদ’ না হলেও ‘মন্দির’ তো হতে পারতো? কিন্তু তাও না, শিখিয়ে শেখানো হলো ‘ম’তে ‘মগডাল’। অসাম্প্রদায়িকতা প্রমাণে এমনটি কী খুব জরুরি ছিল?

একই বইয়ের ৪৬ পৃষ্ঠায় দাদীকে ‘দাদীমা’ শেখানোর অদ্ভুত প্রয়াস লক্ষ করা গেল। দাদীকে ‘মা’ বলা গেলে একই ক্যাডার ও লিঙ্গভুক্ত বলে শালীমা, ভাবীমা ডাকায় বোর্ড কর্তৃপক্ষের বোধকরি আপত্তি থাকার কথা নয়। একই রকম অপপ্রয়াস লক্ষ করা যায় দ্বিতীয় শ্রেণীর বইটিতেও। (পৃষ্ঠা-৩৭)। তৃতীয় শ্রেণীতে ‘কুঁজু বুড়ির গল্প’ নামের লেখাটি আদৌ কোনো গল্প হলো? এ ধরনের লেখার বিনিময়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ‘উপযুক্ত’ সম্মানীও হয়তো গুনতে হয়েছে। তা না হয় হলো, কিন্তু গুণী জনেরা তা সম্পাদনা ও সঙ্কলন করলেন কেমন করে?

পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বইয়ে ‘এই দেশ এই মানুষ’ রচনাটিতে মঙ্গলের প্রতীক ও লক্ষ্মীর বাহন পেঁচার মুখোশ দেয়া হয়েছে অর্ধপৃষ্ঠা জুড়ে বৈশাখী উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে। শখের মৃৎ শিল্প রচনাটির অনুশীলনীতে হিন্দু, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের চারটি পুরাকীর্তির ছবি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫২ সালে নির্মিত ‘কান্তজির মন্দির’ স্থান পেলেও কোনো মসজিদ বা মুসলিম স্থাপত্য স্থান পায়নি। একই বইতে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘মুনাজাত’ কবিতাটি ‘প্রার্থনা’ নামে সঙ্কলিত হলেও ‘এটি কুরআন শরিফের সূরা ফাতেহার ভাবানুবাদ’ শিক্ষার্থীদেরকে এই ধারণাটি দিতেও কার্পণ্য করা হয়েছে। অতীতেও এই কবিতাটি বিভিন্ন ক্লাসে পাঠ্য ছিল এমনকি আমাদের সময়ও। কিন্তু এবারই প্রথম ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেল। যদিও শিক্ষার্থীর জ্ঞানের প্রসারতার জন্য বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। বুঝতে কষ্ট হয়, শিক্ষার্থীদের কাছে এটা গোপন করা না হলে ধর্ম নিরপেক্ষতার এমন কী ক্ষতি হতো?

একই বইতে হুমায়ুন আমাদের ‘বই’ কবিতাটি সঙ্কলিত হয়েছে। সব ধর্মগ্রন্থের মূল বক্তব্য পাপের জন্য পরকালে শাস্তি এবং পুণ্যের জন্য পুরস্কার। এ কবিতায় কবি প্রচ্ছন্নভাবে ধর্মীয় গ্রন্থ বিশেষ করে কুরআন শরিফ না পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের তাগিদ দিচ্ছেন। এ কারণে যে ওটি তাকে ভয় দেখায়। এখন যদি কোনো শিক্ষার্থী ‘যে বই তোমায় ভয় দেখায়’ বলতে কোন বইটি, তা নির্দিষ্ট করে জানতে চায় বোর্ড কর্তৃপক্ষের অকপট জবাবটা কী হবে? সুতরাং এই কবিতাটি যে আমাদের সাংবিধানিক চেতনার সাথেও সাংঘর্ষিক তা অস্বীকার করবে কে? তারপরও এমন একটি বিদ্বেষপূর্ণ কবিতা পাঠ্য হলো কিভাবে?

‘সাহিত্য কণিকা’ অষ্টম শ্রেণীর বাংলা বই। এতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসিদ্ধ ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতাটি সঙ্কলিত হয়েছে। এটি ছোটবেলা থেকেই আমার পছন্দের কবিতাগুলোর মধ্যে একটি। যদিও কোনো ক্লাসেই কবিতাটি আমার পাঠ্য ছিল না। স্কুল জীবন শুরুর আগেই এটি অত্যন্ত মুখস্থ ছিল।

উল্লেখ্য, আমাকে সরাসরি তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়েছিল, অথচ আমার নাতি বিভিন্ন মাইনাস ওয়ান ক্লাস শেষে এ বছরই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হলো।) কবিতাটির যাদুকরী ছন্দ আজও আমাকে বিমুগ্ধ করে। তাই আগ্রহভরে পাতাটা খুলতেই যে চিত্রটি নজরে পড়ল তা সত্যি অবাক হওয়ার মতো। অত্যাচারী ভূমি দস্যু বা জমিদার হিসেবে (কবিতার ভাষায় রাজা) লম্বা দাড়ি ও পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দর্শনেই জমিদারকে মুসলমান না ভাবার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। অথচ কবিতাটির কোথাও জমিদারের নামের উল্লেখ না থাকলেও ‘বাবু’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বারকয়েক। আর ‘বাবু’ শব্দটি সবসময় হিন্দু ভদ্রলোকের বেলায়ই ব্যবহার হয়ে আসছে। তা ছাড়া কবির কোনো রচনাতে কদাচ কোনো মুসলিম চরিত্র এসে থাকলেও তা চাষী, চাকর-বাকর, পিয়ন-চাপরাশির পদমর্যাদার ওপরে ওঠতে পারেনি, জমিদার বা রাজা তো দূরের কথা। রবীন্দ্র সাহিত্য সম্পর্কে যাদের এতটুকু ধারণা নেই তারা হেন কর্মে হাত দেন কেমন করে?

তবে কী অসাম্প্রদায়িকতার আধুনিক ধারণা অনুসারেই এমনটি করা হলো? একই বইতে কবি জীবনানন্দ দাস রচিত ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটিও সঙ্কলিত হয়েছে। কবির দেশপ্রেমের সাথে ধর্মানুভূতি বা বিশ্বাসের সমন্বয় ঘটেছে এ কবিতায় বেশ সুন্দরভাবেই। আমাদের এতে আপত্তি নেই বটে তবে পরামর্শ হলো শিক্ষার্থীদের কাছে অকপটভাবে এটিও তুলে ধরা জরুরি যে, হিন্দু ধর্মের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস ‘জন্মান্তরবাদ’কে কবি এখানে কবিতার মূল উপজীব্য বা চেতনা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এতে করে শিশুদের জ্ঞানের সীমা হবে প্রশস্ততরও।

‘মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য’ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা বই। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। বোধকরি এই দিকটির প্রতি গুরুত্ব দিয়েই দেশপ্রেম ও জাতি গঠনমূলক কবিতা ও প্রবন্ধগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কবি শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ নির্মলেন্দু গুণ এর ‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’ ছাড়াও এমনতরো আরো কিছু গদ্য ও পদ্য সঙ্কলিত হয়েছে বইটিতে। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঠিক বিপরীত চেতনা সমৃদ্ধ ‘সাঁকোটা দুলছে’ শিরোনামের কবিতাটি স্বাধীন বাংলাদেশের পাঠ্যবইতে স্থান পেল কেমন করে, সে কবিতাটিতে আমাদের স্বাধীন সত্তাকেই অস্বীকারই করা হয়েছে? আবার এই চেতনাটি উপলব্ধি করেই যে সঙ্কলনে স্থান দেয়া হয়েছে তা প্রকারান্তে স্বীকার করেও নেয়া হয়েছে। প্রমাণস্বরূপ অনুশীলনী থেকে দুটি উদ্দীপক এখানে তুলে ধরছি।

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাওঃ

শিহাব উদ্দীন মিডল স্কুলে পড়তো। বাহাদুরপুর, মেঘনা, বাগমারা ও সেনগ্রাম পাশাপাশি গ্রাম ছিল। গ্রামের হিন্দু-মুসলমান শিক্ষার্থী হাসি-আনন্দে স্কুলে যেত। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হলে শিহাব দেখতে পেল তার হিন্দু সহপাঠীরা সপরিবারে ভারত চলে যাচ্ছে। দেবব্রতের সাথে বন্ধুত্বের স্মৃতি শিহাব ভুলতে পারে না। স্কুলের সামনের বরই গাছ থেকে বরই পাড়ার স্মৃতি ৭০ বছর বয়সেও শিহাব বিস্মৃত হয়নি।’ এরপর প্রশ্ন করা হয়েছে :

উদ্দীপকে ‘সাঁকোটা দুলছে’ কবিতার কোন দিক ফুটিয়ে তুলছে?

ক. পড়শি নদীটি ধনুকের মতো বাঁকা

খ. সাঁকোটি এখনো আছে

গ. বন্ধু হারালে দুনিয়াটা খাঁ খাঁ করে

ঘ. এপার ওপার স্মৃতিময় একাকার।

‘সৃজনশীল প্রশ্ন’-

ঋত্বিক কুমার ঘটক বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার (ভারতের) তার অধিকাংশ চলচ্চিত্রে দেশ ভাগের মন্ত্রণা প্রকাশ পেয়েছে। নিজের জন্মস্থানে যেতে হলে পাসপোর্ট ও ভিসা লাগবে। এই বেদনা তার মতো অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এ কারণেই তিনি বলতেন, ‘বাংলার ভাগ করিবার পারিছ, কিন্তু দিলটারে ভাগ করবার পারো নাই।’

এবার সৃজনশীল প্রশ্ন :

ক) বন্ধুরা কিভাবে একে অন্যকে ডাকাডাকি করতো? (কবিতা থেকে)

খ) বন্ধুদের মধ্যে কথায় কথায় ভাব ও অড়ি হতো কেন? ওই

গ) উদ্দীপকটি ‘সাঁকোটি দুলছে’ কবিতার কোন দিকটি তুলে ধরেছে?

ঘ) উদ্দীপকটি ‘সাঁকোটি দুলছে’ কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করছে মূল্যায়ন কর। অর্থাৎ ক খ ও গ প্রশ্নে শিক্ষার্থীর মগজ ধোলাই এর পর ‘খ’ প্রশ্নটিতে ‘বাংলাদেশের জন্মটাই ভুল’ কৌশলে এমন একটি জবাবই শিক্ষার্থীর মগজ থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে, আর এমনটি ছাড়া শিক্ষার্থীর জন্য বিকল্পও নেই।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ঢাকা সফরে এক সেমিনারে ‘অতীতের বড় বড় ভুলগুলো শোধরাবার সময় হয়েছে’ বলে যে মন্তব্য করে গেছেন। তার আবেগঘন উচ্চারণে আলোচ্য সাঁকো’ কবিতারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল কী? কিন্তু প্রশ্ন হলো মোদি জানলেন কেমন করে? এতকাল ভারত বিভক্তির জন্য জিন্নাহ মুসলমানদের দায়ী করা হলেও এখন বলা হচ্ছে ‘মুসলমানরা বিভক্তি চায়নি, কংগ্রেসের ভুলই ভারত বিভাগের জন্য দায়ী।’ বেশ ভালো কথা ভুল যাদের শোধরাবার দায়টাও তো তাদেরই। তাদের ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে আমরা আর একটা কাশ্মির-মিজোরাম হতে পারে। কোন দুঃখে? তারপরও বন্ধুদের কাছে প্রশ্ন মাকে ‘ভুল’ শোধরানের পর দিল্লি ঢাকার অধীন হবে না ঢাকা কলকাতার মতোই দিল্লির অধীন হবে? রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য একবার উর্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, আবার ও কী যুদ্ধ করতে হবে হিন্দির বিরুদ্ধে? ৩০ লাখ শহীদ আত্মার কাছে আমাদের জবাবটা তাহলে কি হবে?

গরুর গোশত খাওয়ার জন্য আর কখনো পুড়িয়ে মারা হবে না তো আমাকে? তোমাদের সেই ‘রামরাজ্যে’ আমাদেরকে অন্তত বানর হনুমানেরতুল্য মর্যাদা দেয়া হবে কী? ‘সোনার বাংলা’ কাশ্মিরের মতো পূর্ব-ভারতের আর একটি বধ্যভূমি হবে না তো? তবে বন্ধুদের প্রতি পরামর্শ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই পাখি’ কবিতাটি আর একবার ভালো করে পড়ে দেখো তোমাদের ভাগ্যের সাথে কোনো মিল খুঁজে পাও যদি!

কথা অনিচ্ছাকৃতভাবেই বেড়ে যায় মেলে। মনের কথা চেপে রাখাও নাকি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আলোচ্য ‘মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য’ বইটিতে অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের আদলেই নির্বাচিত কবিতাগুলোর প্রথম থেকে ক্রমিক নং ১১ পর্যন্ত এবং গদ্যের তালিকায় ৮ নম্বর পর্যন্ত একজন মুসলমান লেখকও নেই। তাদের সাহিত্যকর্ম জ্ঞান-পন্ডিত্ব সম্পর্কে আমাদের কোন প্রশ্ন বা সংশয় নেই।

কিন্তু আমাদের সংশয় হলো এই তালিকা অতি সর্ন্তপনে ও কৌশলে শিক্ষার্থীদের মনোরাজ্যে হীনম্মন্যতার বীজ ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের তেমন অবদানই নেই। শুধু নবম-দশম শ্রেণীর কেন প্রতিটি ক্লাসের বাংলা বইয়ের সেই এক ও অভিন্ন চিত্র। হ্যাঁ, ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেল ষষ্ঠ শ্রেণীর বইতে। প্রথম লেখাটি এম ওয়াজেদ আলির লেখা ‘রাঁচি ভ্রমণ’।

কিন্তু লেখাটি রাঁচির ভ্রমণের স্থলে করাচি নয় যদি মক্কা বা আঙ্কারা ভ্রমণও হতো তাহলে ওয়াজেদ আলির লেখাটি আদৌ নির্বাচিত হতো কী?

বোর্ডের বইগুলোর মলাটে অঙ্কিত নকশা ও আলপনাগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শিল্পকলার প্রতিফলন থাকলেও কোনো একটি বইতেও মুসলিম স্থাপত্য ও শিল্পকলার প্রতিফলন দেখা যায় না। শিক্ষার্থীদের মুসলিম শিল্পকলা সম্পর্কে অজ্ঞ রাখার নাম কী তাহলে অসাম্প্রদায়িকতা? এতে একজন শিক্ষার্থী শুধু অজ্ঞই থেকে গেল না বরং শিল্পগুণের তুলনামূলক বিচার ক্ষমতা অর্জনেও ব্যর্থ হলো।

সুত্রঃ বিডি সংবাদ

Related posts